Wednesday, July 24, 2024
রাজ্য​

বঙ্গে বিজেপির হারের নেপথ্যে কি কি কারণ?

‘উনিশে হাফ, একুশে সাফ’, ‘এবার বাংলায় দু’শো পার, এবার বিজেপি সরকার’। এমন স্লোগান তুলে পশ্চিমবঙ্গে গেরুয়া ঝড় তুলতে চেয়েছিল গেরুয়া শিবির। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, জেপি নাড্ডা, যোগী আদিত্যনাথ থেকে শুরু করে বিজেপির তাবড় তাবড় সব নেতা-নেত্রীরা বাংলা বিজয়ের লক্ষ্যে নেমেছিলেন। দিনের পর দিন বাংলায় হত্যে দিয়ে পড়ে থেকেও মানুষের মন জয় করতে ব্যর্থ হয়েছেন তাঁরা।

কিন্তু কি কি কারণে বাংলা বিজয়ে ব্যর্থ হল বিজেপি?

১. ধর্মীয় মেরুকরণের পথে হেঁটে বাংলা জয় করতে চেয়েছিল গেরুয়া শিবির। বিজেপি টার্গেট ছিল হিন্দু ভোট পাওয়া। কিন্তু সেই কৌশল কাজে আসেনি তাদের।
২. বাংলার নির্বাচনে বিজেপির কোনও মুখ ছিলো না। মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থীও ছিলেন না। মূলত নরেন্দ্র মোদীর মুখকে সামনে রেখেই চলেছে ভোটপ্রচার। কিন্তু তাদের উচিত ছিল কাউকে মুখ কিংবা মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী করা।

৩. বাংলায় বিজেপির গ্রহণযোগ্য মুখের অভাব ছিল। মমতার বিপরীতে কোনও একটি মুখ রাজ্যবাসীর ভরসার স্তম্ভ হয়ে গড়ে তুলতে পারেনি বিজেপি।

৪. এনআরসি এবং জাতীয় নাগরিক পঞ্জি নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মানুষের ভিতরে এক ধরনের ভয় কাজ করছিল। গেরুয়া শিবির রাজ্যবাসীর সেই ভয় কাটাতে ব্যর্থ হয়েছে।

৫. রেল, ব্যাংক-সহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের বেসরকারিকরণ বিজেপির বিরুদ্ধেই গিয়েছে।

৬. পেট্রোল-ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি, গ্যাসের দাম বৃদ্ধি, দিল্লিতে কৃষক আন্দোলন বিজেপির বিরুদ্ধেই গিয়েছে।

৭. বারবার তৃণমূল বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতাদের ‘বহিরাগত’ বলে আক্রমণ করেছে। সেই ‘বহিরাগত’ কটাক্ষের পালটা দিতে ব্যর্থ হয়েছে বিজেপি। বাইরের রাজ্যের মন্ত্রীরা বাংলার আবেগ, ভাষা, সংস্কৃতি বোঝেন না। এই কারণও তৃণমূলকে অনেকটা এগিয়ে রেখেছে।

৮. রাজ্যে এসে একাধিকবার গরিব, শ্রমিক, কৃষক পরিবারে মধাহ্নভোজ সেরেছেন অমিত শাহ, জেপি নাড্ডারা। তৃণমূলের তরফে এই ইস্যুতে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, আমফান, করোনার সময় কোথায় ছিলেন কেন্দ্রীয় নেতারা?

৯. সদ্য তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়া নেতা-নেত্রীদের অধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। যার ফলে বিজেপি তৃণমূলের ‘B’ টিম হিসেবে পরিচিত হয়েছে। পাশাপাশি, পুরনো যারা দলে ছিলেন তাদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল।

সূত্রের খবর, দলের এই শোচনীয় পরাজয়ে বেশ অসন্তুষ্ট অমিত শাহ। ইতিমধ্যেই রাজ্য বিজেপির কাছে রিপোর্ট তলব করেছেন তিনি। পাশাপাশি, এই হারে বিজেপির অন্দরেও চাপানউতোর তৈরি হয়েছে।