বৃহস্পতিবার পশ্চিমবঙ্গে ১৫২টি আসনে ভোট, প্রথম দফাতেই কি বড় লিড পাবে বিজেপি?
কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal Legislative Assembly election) কে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তাপ চরমে। রাজ্যে দু’দফায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে—প্রথম দফায় ২৩ এপ্রিল ১৫২টি আসনে এবং দ্বিতীয় দফায় ২৯ এপ্রিল বাকি ১৪২টি আসনে ভোটগ্রহণ হবে। ফল ঘোষণা ৪ মে। তবে সব নজর এখন প্রথম দফার দিকে, কারণ এই পর্বই গোটা নির্বাচনের গতিপথ অনেকটাই নির্ধারণ করে দিতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক মহল।
এই আবহেই সামনে এসেছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একটি সমীক্ষা, যা ঘিরে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। ওই সমীক্ষায় দাবি করা হয়েছে, প্রথম দফার ১৫২টি আসনের মধ্যে বিজেপি ১০০ থেকে ১১০টি আসন পর্যন্ত জিততে পারে। এই পূর্বাভাস যদি বাস্তবে রূপ নেয়, তাহলে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে বড় পরিবর্তন দেখা যেতে পারে। যদিও এই ধরনের সমীক্ষা নিয়ে সবসময়ই মতভেদ থাকে, তবুও ভোটের আগে এই সংখ্যাটা রাজনৈতিক চাপ বাড়িয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে।
প্রথম দফার ভোটে সবচেয়ে বেশি নজর কাড়ছে জঙ্গলমহল অঞ্চল। পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম এবং পশ্চিম মেদিনীপুর—এই চারটি জেলা মিলিয়ে গড়ে উঠেছে এই অঞ্চল, যেখানে মোট প্রায় ৪০টি আসন রয়েছে। একসময় নকশাল প্রভাবিত এই এলাকা এখন একেবারে আলাদা কারণে শিরোনামে। উন্নয়ন, জলসংকট, বালি মাফিয়া, আদিবাসীদের জমি দখল এবং ভুয়ো জাতিসনদের মতো একাধিক স্থানীয় ইস্যু এই অঞ্চলে ভোটের প্রধান ফ্যাক্টর হয়ে উঠেছে।
২০২১ সালের নির্বাচনে তৃণমূল এই অঞ্চলে ২৪টি আসন জিতেছিল, অন্যদিকে বিজেপি পেয়েছিল ১৬টি আসন। বিশেষ করে পুরুলিয়া ও বাঁকুড়ায় বিজেপির পারফরম্যান্স উল্লেখযোগ্য ছিল। যদিও ঝাড়গ্রাম ও পশ্চিম মেদিনীপুরে তারা কিছুটা পিছিয়ে ছিল। কিন্তু এবারের চিত্র ভিন্ন হতে পারে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
স্থানীয় সূত্র এবং রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, গত কয়েক বছরে জঙ্গলমহলে বিজেপির সংগঠন অনেকটাই মজবুত হয়েছে। বিশেষ করে আদিবাসী ও কুর্মি সম্প্রদায়ের মধ্যে দলটি নিজেদের প্রভাব বাড়াতে সক্ষম হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। পাশাপাশি, দরজায় দরজায় প্রচার চালিয়ে স্থানীয় সমস্যাগুলো তুলে ধরার চেষ্টা করছে বিজেপি। জল সমস্যা, বালি মাফিয়া এবং জমি দখলের মতো ইস্যুতে শাসকদলের বিরুদ্ধে অসন্তোষ বাড়ছে বলেও দাবি করা হচ্ছে।
অন্যদিকে তৃণমূল নেতৃত্ব অবশ্য এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে। তাদের দাবি, রাজ্যে উন্নয়নের কাজ ধারাবাহিকভাবে চলছে এবং মানুষ সেই উন্নয়নের উপরই ভরসা রাখবে। দলের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) নেতৃত্বে দক্ষিণবঙ্গে তৃণমূল এখনও যথেষ্ট শক্তিশালী বলেই মনে করা হচ্ছে।
এদিকে বিজেপির পক্ষ থেকে এই নির্বাচনে ‘উন্নয়ন বনাম তোষণ’-এর লড়াইয়ের কথা তুলে ধরা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)-ও জঙ্গলমহলে সভা করে উন্নয়নের বার্তা দিয়েছেন। কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার বিষয়টিকেও গুরুত্ব দিচ্ছে দলটি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জঙ্গলমহলের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হল—এখানে ভোটের ফল প্রায়শই ক্লাস্টার আকারে পরিবর্তিত হয়। অর্থাৎ, একবার জনমত বদলালে একসঙ্গে অনেকগুলি আসনের ফল পাল্টে যেতে পারে। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি এই অঞ্চলে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছিল। যদিও পরবর্তীতে নির্বাচনে তৃণমূল কিছুটা ঘুরে দাঁড়ায়, তবুও বিধানসভা নির্বাচনে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, প্রথম দফার ভোট যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তা বলাই বাহুল্য। এই পর্বে যদি বিজেপি বড় লিড নিতে পারে, তাহলে দ্বিতীয় দফার ভোটে তাদের মনোবল অনেকটাই বাড়বে। একইসঙ্গে শাসকদলের উপরও চাপ বাড়বে। ফলে এখন দেখার, সমীক্ষার পূর্বাভাস কতটা বাস্তবের সঙ্গে মেলে এবং বাংলার মানুষ কোন পথে নিজেদের রায় দেন।


