Friday, May 29, 2026
Latestরাজ্য​

নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার শীর্ষ নেতা বিমল গুরুং এবং রোশন গিরির

কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর এবার নতুন মোড় নিল পাহাড়ের রাজনীতি। শুক্রবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে যোগ দিলেন গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার শীর্ষ নেতা বিমল গুরুং এবং রোশন গিরি। দীর্ঘ বৈঠকের পর দার্জিলিং পার্বত্য অঞ্চলের সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। যার মধ্যে অন্যতম উল্লেখযোগ্য সিদ্ধান্ত হল পাহাড়ের তিন পুরসভায় প্রশাসক বসানো।

নবান্ন সূত্রে খবর, পাহাড়ে নাগরিক পরিষেবা স্বাভাবিক রাখতে এবং প্রশাসনিক কাজের গতি বাড়াতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, দার্জিলিং পুরসভা বাদ দিয়ে আপাতত কালিম্পং, কার্শিয়াং এবং মিরিক পুরসভায় প্রশাসক নিয়োগ করা হবে। প্রশাসনের দাবি, উন্নয়নমূলক কাজ দ্রুত বাস্তবায়নের স্বার্থেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এ দিনের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্তাও। বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী বলেন, পাহাড়ের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ও উন্নয়নের স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়েই সমস্ত রাজনৈতিক জট কাটিয়ে নতুনভাবে কাজ শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিমল গুরুং ও রোশন গিরিদের দাবির বিষয়েও ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে রাজ্য সরকার।

পাহাড়ের ভৌত পরিকাঠামো থেকে শুরু করে সামগ্রিক উন্নয়ন পরিকল্পনার কথাও ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, পার্বত্য অঞ্চলের উন্নয়নের জন্য বিশেষ প্যাকেজ হিসেবে মোট ৩ লক্ষ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হবে। এই বিপুল আর্থিক বরাদ্দের মাধ্যমে রাস্তা, পানীয় জল, স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং পর্যটন পরিকাঠামোকে আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

একই সঙ্গে গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (GTA) পূর্ববর্তী কাজকর্ম নিয়েও সরব হন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি অভিযোগ করেন, প্রতি অর্থবর্ষে বিপুল অর্থ বরাদ্দ করা হলেও সেই অর্থের সঠিক ব্যবহার হয়নি। তাঁর কথায়, “এতদিন পাহাড়ের উন্নয়নের জন্য নির্দিষ্ট অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও জিটিএ কার্যকর উন্নয়ন করতে পারেনি।”

উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়নে যাতে আর কোনও বিলম্ব না হয়, সে জন্য জিটিএ-র প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি শামা পারভীনকে বিশেষ নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। স্থানীয় বিধায়ক ও সাংসদদের সঙ্গে সমন্বয় রেখে দ্রুত কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে প্রশাসনকে।

রাজনৈতিক মহলের মতে, পাহাড়ে নতুন সমীকরণ গড়ে তোলার পাশাপাশি উন্নয়নকে সামনে রেখেই এবার এগোতে চাইছে রাজ্য সরকার। বিমল গুরুং শিবিরের সঙ্গে সরকারের এই বৈঠক পাহাড়ের ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।