Thursday, April 23, 2026
Latestদেশ

সিঁদুর, টিপ, মঙ্গলসূত্র পরা যাবে না! বিতর্কের মুখে কী জানালো এয়ার ইন্ডিয়া?

কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: বিমান সংস্থা এয়ার ইন্ডিয়াকে (Air India) ঘিরে সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। একটি তথাকথিত পোশাকবিধি বা ড্রেস কোডের বিজ্ঞপ্তি ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই নেটিজেনদের একাংশ ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন। সেই ভাইরাল নথিতে দাবি করা হয়, সংস্থার মহিলা কর্মীরা সিঁদুর, টিপ, মঙ্গলসূত্র-সহ বিভিন্ন ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অলংকার পরতে পারবেন না। বিষয়টি সামনে আসতেই দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং তা নিয়ে শুরু হয় জোর চর্চা।

ভাইরাল হওয়া নির্দেশিকায় আরও উল্লেখ করা হয় যে, কেবিন ক্রুদের জন্য অত্যন্ত নির্দিষ্ট এবং নিয়ন্ত্রিত সাজগোজের নিয়ম প্রযোজ্য। সেখানে বলা হয়েছে, কপালে টিপ বা টিকা ব্যবহার করা যাবে না, সিঁদুর পরাও নিষিদ্ধ। শুধু তাই নয়, গলায় মঙ্গলসূত্র, ধর্মীয় সুতো বা পুঁতির মালা, এমনকি সাধারণ নেকলেস বা চেন পরার ক্ষেত্রেও বাধা রয়েছে বলে দাবি করা হয়। নাকছাবি, পায়ের আঙুলের আংটি, নূপুর বা অন্যান্য ঐতিহ্যবাহী অলংকারের উপরও নিষেধাজ্ঞার কথা বলা হয়েছে। এসব তথ্য সামনে আসতেই অনেকেই এটিকে ব্যক্তিগত স্বাধীনতার উপর হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখেছেন।

এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। কেউ সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন—কর্মক্ষেত্রে কি একজন ব্যক্তির ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক পরিচয় প্রকাশের অধিকার কেড়ে নেওয়া উচিত? অনেকের মতে, কর্পোরেট সংস্থাগুলি ধীরে ধীরে এমন একটি পরিবেশ তৈরি করছে, যেখানে কর্মীদের ব্যক্তিগত পরিচয় গৌণ হয়ে যাচ্ছে এবং একটি নির্দিষ্ট ‘স্ট্যান্ডার্ড লুক’ চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আবার কেউ কেউ বাস্তব দিকটিও তুলে ধরেছেন। তাঁদের মতে, বেশিরভাগ আন্তর্জাতিক এবং দেশীয় বিমান সংস্থাতেই কেবিন ক্রুদের জন্য একটি নির্দিষ্ট ও পরিমিত সাজগোজের নিয়ম থাকে, যাতে একটি পেশাদারী ইমেজ বজায় থাকে।

বিতর্ক তুঙ্গে উঠতেই বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলতে বাধ্য হয় Air India। সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়, যে নির্দেশিকাটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে, সেটি কোনও সাম্প্রতিক বিজ্ঞপ্তি নয়। বরং এটি অনেক পুরনো একটি নথি, যা নতুন করে ছড়িয়ে পড়ে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করেছে। সংস্থার দাবি, বর্তমানে এমন কোনও নতুন বিধিনিষেধ জারি করা হয়নি এবং কর্মীরা নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী পোশাক ও সাজগোজ করতে স্বাধীন। তাঁদের সাংস্কৃতিক বা ধর্মীয় পরিচয় বজায় রাখার ক্ষেত্রেও কোনও বাধা নেই বলে স্পষ্ট করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, এর আগেও একই ধরনের বিতর্কে জড়িয়েছিল জনপ্রিয় চশমার ব্র্যান্ড Lenskart। সেই সময়েও অভিযোগ উঠেছিল যে, কর্মীদের টিপ, সিঁদুর, মঙ্গলসূত্র বা অন্যান্য ধর্মীয় প্রতীক পরতে দেওয়া হচ্ছে না। যদিও পরে সমালোচনার মুখে সংস্থা নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন করে এবং জানায়, কর্মীরা তাঁদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরিচয় বজায় রেখেই কাজ করতে পারবেন।

সব মিলিয়ে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবারও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠে এসেছে—কর্পোরেট ড্রেস কোডের সীমা কোথায়? কর্মক্ষেত্রে শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্ব বজায় রাখা যেমন জরুরি, তেমনই কর্মীদের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও সাংস্কৃতিক পরিচয়কেও সম্মান জানানো সমান গুরুত্বপূর্ণ।