চন্দ্রনাথ রথ খুনে অভিযুক্ত ‘গ্যাংস্টার’ জ্ঞানেন্দ্র প্রতাপ সিং আত্মসমর্পণ করলেন
কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: চন্দ্রনাথ রথ খুনকাণ্ডে বড় অগ্রগতি। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রাক্তন আপ্ত সহায়ক চন্দ্রনাথ রথ হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত জ্ঞানেন্দ্র প্রতাপ সিং ওরফে মনু উত্তরপ্রদেশের বালিয়া আদালতে আত্মসমর্পণ করেছে। আদালত তাকে ১৪ দিনের সিবিআই হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে।
তদন্তকারী সংস্থার সূত্রে জানা গিয়েছে, জ্ঞানেন্দ্র প্রতাপ সিং দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। চন্দ্রনাথ রথ খুনের মামলা ছাড়াও তার বিরুদ্ধে অন্তত ১২টি অপরাধমূলক মামলা রয়েছে। গত ২৫ মে তার বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল।
তদন্ত চলাকালীন ঘটনাস্থল ও সংলগ্ন এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে সিবিআই। সেই ফুটেজে অভিযুক্ত জ্ঞানেন্দ্র প্রতাপ সিংকে দেখা গিয়েছে বলে দাবি তদন্তকারীদের। এরপর একাধিকবার তার বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয় এবং পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তদন্তের চাপ বাড়তেই অভিযুক্ত আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত নেয় বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে অভিযুক্তের পরিবারের দাবি ভিন্ন। জ্ঞানেন্দ্রর স্ত্রীর অভিযোগ, তার স্বামীকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে। তিনি জানিয়েছেন, সিবিআই তদন্ত এবং দেশের বিচার ব্যবস্থার উপর তাদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ৬ মে রাতে নিজাম প্যালেস থেকে বেরিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন চন্দ্রনাথ রথ। মধ্যমগ্রামে পৌঁছনোর পর তাঁকে লক্ষ্য করে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি চালানো হয়। মাত্র ৫০ সেকেন্ডের মধ্যেই গোটা হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় গুরুতর জখম হন চন্দ্রনাথের গাড়িচালকও।
প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, চন্দ্রনাথ রথের গাড়িকে দীর্ঘক্ষণ অনুসরণ করেই হামলা চালানো হয়েছিল। অপরাধের কায়দা দেখে তদন্তকারীদের অনুমান, এটি ছিল অত্যন্ত পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। দীর্ঘদিন ধরে রেকি চালানোর পরই হামলার ছক কষা হয়। ঘটনায় ভিনরাজ্যের পেশাদার শার্প শুটারদের ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে।
একই সঙ্গে স্থানীয় দুষ্কৃতীদের যোগ থাকার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারীদের মতে, হামলার পর দুষ্কৃতীরা এলাকার অলিগলি ব্যবহার করে দ্রুত পালিয়ে যায়। ফলে স্থানীয়ভাবে পরিচিত কারও সহযোগিতা ছাড়া এমনভাবে পালানো সম্ভব নয় বলেই মনে করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই একাধিক সন্দেহভাজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।
তবে তদন্তে অগ্রগতি হলেও এখনও পর্যন্ত স্পষ্ট নয়, কী কারণে শুভেন্দু অধিকারীর প্রাক্তন আপ্ত সহায়ক চন্দ্রনাথ রথকে খুন করা হল। হত্যার নেপথ্যের মূল উদ্দেশ্য ও ষড়যন্ত্রের জাল উন্মোচন করাই এখন তদন্তকারীদের প্রধান লক্ষ্য।

