Thursday, May 28, 2026
Latestরাজ্য​

পুরুষ হয়েও লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের সুবিধা ভোগ, রাকিবুল শেখের পর এবার গ্রেফতার তৃণমূল নেতা উত্তমকুমার সাউ

কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের অন্যতম জনপ্রিয় প্রকল্প ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ ঘিরে সামনে এল বিস্ফোরক অভিযোগ। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, এই প্রকল্পের সুবিধা পেতেন অন্তত ৩০ লাখ ‘ভুয়ো’ প্রাপক। বুধবার নতুন প্রকল্প ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’র ফর্ম প্রকাশ করতে গিয়ে সাংবাদিক বৈঠকে এমনই অভিযোগ তোলেন তিনি। তাঁর দাবি, কারচুপির মাধ্যমে বহু পুরুষও মহিলাদের জন্য নির্দিষ্ট এই প্রকল্পের টাকা পেয়েছেন।

মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগের পরই রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে তদন্ত। বুধবার রাতেই বহরমপুর থেকে রাকিবুল শেখ নামে এক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে পুলিশ। আর বৃহস্পতিবার পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোনা থেকে গ্রেপ্তার করা হল তৃণমূল নেতা উত্তমকুমার সাউকে, যিনি এলাকায় ‘লক্ষ্মী ছেলে’ নামেই পরিচিত হয়ে উঠেছিলেন।

জানা গিয়েছে, পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার চন্দ্রকোনা ১ নম্বর ব্লকের মনোহরপুর ২ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বাসিন্দা উত্তম সাউ পেশায় একজন ঠিকা কর্মী। স্থানীয় বিজেপি কর্মীদের অভিযোগ, মহিলাদের জন্য চালু হওয়া ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের প্রাপক তালিকায় উত্তমের নাম নথিভুক্ত ছিল। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়।

যদিও অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উত্তম সাউ। তাঁর দাবি, স্ত্রীর জন্যই আবেদন করা হয়েছিল। তিনি বলেন, “আমি স্ত্রীর জন্য আবেদন করেছিলাম। নাম আমার থাকলেও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ও ফোন নম্বর স্ত্রীর। টাকাও তাঁর অ্যাকাউন্টেই ঢোকে। কীভাবে আমার নাম চলে এল বুঝতে পারছি না। হয়তো প্রযুক্তিগত সমস্যা হয়েছে।”

তবে পুলিশের বক্তব্য, বিষয়টি শুধুমাত্র প্রযুক্তিগত ত্রুটি নয়। জেলা পুলিশ আধিকারিক পাপিয়া সুলতানা জানিয়েছেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত শুরু হয়। তদন্তে দেখা যায়, ২০২২ সাল থেকে উত্তম সাউয়ের নামেই ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর সুবিধাভোগী হিসেবে নথিভুক্তি রয়েছে। যদিও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট তাঁর স্ত্রীর, তবুও সরকারি নথিতে একজন পুরুষের নাম সুবিধাভোগী হিসেবে থাকা আইনবিরুদ্ধ বলেই দাবি পুলিশের।

পুলিশ সূত্রে খবর, উত্তম সাউয়ের বিরুদ্ধে তিনটি পৃথক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে তোলা হয়।

এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে রাজ্যের বিরোধী রাজনৈতিক শিবির দাবি করেছে, ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে এবং গোটা বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।