‘চিটফান্ড কেলেঙ্কারিতে ১৯০০ কোটির প্রতারণা, তৃণমূল সরকার সাধারণ মানুষের নয়, তোলাবাজদের সরকার’, তীব্র কটাক্ষ রাহুল গান্ধীর
কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: বিধানসভা ভোটের আগে পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলা যেন জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। এই প্রেক্ষাপটে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর (Rahul Gandhi) বহরমপুর সফর ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বেড়েছে। মঙ্গলবার কিষাণ মান্ডি মাঠে আয়োজিত বিশাল জনসভা থেকে তিনি একযোগে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার এবং রাজ্যের শাসকদল তৃণমূলের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান।
সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে দেখা যায় রাহুলকে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে (Narendra Modi) নিশানা করে তিনি আন্তর্জাতিক রাজনীতির প্রসঙ্গ তোলেন। মার্কিন রাজনীতির উদাহরণ টেনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Donald Trump) সঙ্গে মোদীর সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। রাহুল দাবি করেন, “দেশের প্রধানমন্ত্রী স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন না, বরং আন্তর্জাতিক চাপের মধ্যে কাজ করছেন।” যদিও তাঁর এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
এরপরই তিনি রাজ্যের দিকে আক্রমণের কেন্দ্র ঘুরিয়ে আনেন। তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে রাহুল বলেন, “বাংলায় চিটফান্ড কেলেঙ্কারি নতুন কিছু নয়, কিন্তু ১৯০০ কোটি টাকার প্রতারণা সাধারণ মানুষের উপর বিরাট আঘাত।” তাঁর অভিযোগ, এই কেলেঙ্কারির ফলে বহু পরিবার আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত হয়েছে, অথচ দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তিনি আরও বলেন, “এই সরকার সাধারণ মানুষের নয়, তোলাবাজদের সরকার।”
সভায় রাহুল গান্ধী শুধু সমালোচনাতেই থেমে থাকেননি, বরং কংগ্রেসের রাজনৈতিক অবস্থানও স্পষ্ট করেন। তিনি জানান, জাতীয় স্তরে বিরোধী জোট থাকলেও পশ্চিমবঙ্গে কংগ্রেস স্বাধীনভাবেই লড়াই চালাবে। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট ইঙ্গিত মেলে যে, রাজ্যে তৃণমূল ও বিজেপি— দুই দলকেই সমান প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখছে কংগ্রেস।
এই সভার রাজনৈতিক গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে মুর্শিদাবাদের ঐতিহ্যগত সমীকরণ। দীর্ঘদিন ধরে কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই জেলায় কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরীর (Adhir Ranjan Chowdhury) প্রভাব যথেষ্ট। তাই তাঁর ‘খাসতালুক’-এ দাঁড়িয়ে রাহুলের এই আক্রমণাত্মক ভাষণ দলীয় কর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা জাগিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের হাই-ভোল্টেজ সভা শুধু কর্মীদের মনোবল বাড়ায় না, ভোটারদের মনেও প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে যখন একই মঞ্চ থেকে কেন্দ্র ও রাজ্য— দুই সরকারকেই সমানভাবে আক্রমণ করা হয়, তখন তা নির্বাচনী কৌশলের দিক থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে।
সব মিলিয়ে, বহরমপুরের এই জনসভা কংগ্রেসের জন্য শুধুমাত্র একটি প্রচারসভা নয়, বরং একটি শক্তি প্রদর্শনের মঞ্চ। এখন দেখার, রাহুল গান্ধীর এই আক্রমণাত্মক প্রচার কৌশল মুর্শিদাবাদের ভোটবাক্সে কতটা প্রভাব ফেলে এবং রাজনৈতিক সমীকরণে কী পরিবর্তন আনে।


