পুলিশের গাড়ি-সহ সরকারি গাড়িতেও এবার তল্লাশির নির্দেশ
কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা ভোট যত এগিয়ে আসছে, ততই প্রশাসনের তরফে কড়া নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে। এবার আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আরও কঠোর অবস্থান নিলেন এডিজি (আইনশৃঙ্খলা) অজয় মুকুন্দ রানাডে। জেলা পুলিশ সুপার ও কমিশনারদের উদ্দেশে একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা জারি করেছেন তিনি।
এই নির্দেশিকার সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিক হল— সরকারি তকমা লাগানো গাড়িকেও নজরদারির আওতায় আনা। স্পষ্ট নির্দেশ, অবৈধভাবে পুলিশ বা অন্য কোনও সরকারি গাড়ি ব্যবহার করে নগদ অর্থ বা সামগ্রী পাচার যাতে না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। অর্থাৎ, এবার শুধুমাত্র বেসরকারি নয়, সরকারি যানবাহনও থাকবে কড়া পর্যবেক্ষণে।
শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতে এডিজি-র বার্তা স্পষ্ট— কোনওভাবেই ‘গুন্ডারাজ’ বরদাস্ত করা হবে না। ভোটের আগে বা পরে অশান্তি ছড়াতে পারে, এমন ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বেআইনি অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধারে নাকা তল্লাশি আরও জোরদার করার কথাও বলা হয়েছে। রানাডে হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, ভোট চলাকালীন কোথাও বিস্ফোরণ ঘটলে সংশ্লিষ্ট এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ আধিকারিকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে পারে নির্বাচন কমিশন।
অন্যদিকে, নববর্ষের দিনেও মাটিতে নেমে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখলেন অজয় নন্দা এবং ডিইও স্মিতা পাণ্ডে। উত্তর কলকাতার উল্টোডাঙা ও বাসন্তী কলোনির মতো স্পর্শকাতর এলাকায় ঘুরে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন তাঁরা। সাধারণ মানুষকে নির্ভয়ে ভোট দেওয়ার আশ্বাস দেওয়ার পাশাপাশি, কোনও রকম অশান্তি বা প্ররোচনা দেখলেই নির্দিষ্ট হেল্পলাইন নম্বরে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
নির্দেশিকার শেষাংশে পুলিশকর্মীদের উদ্দেশে স্পষ্ট বার্তা— অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনে বাধা সৃষ্টি করতে পারে এমন কোনও কাজ বা ভয়ের পরিবেশ বরদাস্ত করা হবে না। বিশেষ করে পুলিশের গাড়ি ব্যবহার করে কেউ যাতে কোনও রকম বেআইনি সুবিধা নিতে না পারে, সে বিষয়ে প্রতিটি থানার আইসি ও ওসি-দের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
ভোটকে কেন্দ্র করে যখন রাজ্যজুড়ে কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশের টহলদারি জোরদার হয়েছে, তখন এডিজি-র এই নতুন গাইডলাইন প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে বড় পদক্ষেপ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।


