সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে বকেয়া ডিএ মেটাতে তৎপর নবান্ন, শ্রীঘ্রই ডিএ পাবেন পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কর্মচারীরা
কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: দীর্ঘদিনের টালবাহানার পর অবশেষে বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) মেটানোর প্রক্রিয়ায় গতি আনতে শুরু করেছে নবান্ন। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর রাজ্য সরকারের এই পদক্ষেপ ঘিরে আশার আলো দেখছেন শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীরা। শিক্ষা দফতর সূত্রে খবর, চলতি সপ্তাহেই বিকাশ ভবন থেকে বকেয়া ডিএ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নথি নবান্নে পৌঁছে গিয়েছে। এখন কেবল চূড়ান্ত অনুমোদন ও অর্থ ছাড়ার অপেক্ষা।
জানা গিয়েছে, এই প্রক্রিয়ার আওতায় রয়েছেন অধ্যাপক, স্কুল শিক্ষক এবং বিভিন্ন স্তরের শিক্ষাকর্মীরা। স্কুলশিক্ষা দফতর ও উচ্চশিক্ষা দফতরের তরফে আলাদা আলাদা ভাবে বকেয়া ডিএ-র হিসাব তৈরি করা হয়েছে। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে কর্মীদের প্রাপ্য ডিএ-র নির্দিষ্ট তথ্য সংগ্রহ করা হয়। সেই সমস্ত তথ্য একত্রিত করে চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত করে নবান্নে পাঠানো হয়েছে।
প্রশাসনিক সূত্রে ইঙ্গিত, নবান্ন থেকে সবুজ সঙ্কেত মিললেই অর্থ দফতর দ্রুত টাকা রিলিজ করার প্রক্রিয়া শুরু করবে। ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট দফতরগুলির মধ্যে একাধিক বৈঠক হয়েছে এবং বকেয়া ডিএ সংক্রান্ত ফাইল অর্থ দফতরে পৌঁছে যাওয়ায় প্রক্রিয়া অনেকটাই এগিয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, রাজ্যের সিংহভাগ সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীরা ২০১৬ থেকে ২০১৯ সালের বকেয়া ডিএ-র প্রথম কিস্তি ইতিমধ্যেই পেয়ে গিয়েছেন। তবে শিক্ষা ক্ষেত্রের বহু কর্মী এখনও সেই বকেয়া পাননি। ফলে এই পদক্ষেপ তাঁদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। মনে করা হচ্ছে, সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে বিধানসভা ভোটের আগেই শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীদের অ্যাকাউন্টে বকেয়া ডিএ-র টাকা জমা পড়তে পারে।
প্রসঙ্গত, গত ফেব্রুয়ারি মাসে এক গুরুত্বপূর্ণ রায়ে সুপ্রিম কোর্ট পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে নির্দেশ দেয়, বকেয়া মহার্ঘ ভাতার অন্তত ২৫ শতাংশ দ্রুত মিটিয়ে দিতে। ২০০৮ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ সময়ের বকেয়া ডিএ-কে কেন্দ্র করে এই আইনি লড়াই চলছিল। এই সময়কালে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের ডিএ-র মধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশ ব্যবধান তৈরি হয়েছে, যা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অসন্তোষ চলছিল।
দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া ডিএ-র দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসছেন শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীরা। আদালতের নির্দেশের পর রাজ্য সরকারের এই তৎপরতা তাঁদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। প্রশাসনিক মহলের মতে, ফাইল অনুমোদন পেলেই দ্রুত অর্থ বরাদ্দ করা হবে এবং পর্যায়ক্রমে সকল প্রাপকদের অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছে যাবে।
ভোটের মুখে এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক দিক থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তবে শিক্ষা মহলের কাছে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—কবে হাতে আসবে বকেয়া ডিএ-র টাকা। এখন নজর নবান্নের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে।


