ভোটের আগে প্রশাসনে বড় রদবদল, বিধাননগরের নতুন পুলিশ কমিশনার আইপিএস ত্রিপুরারি অথর্ব
কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পর রাজ্যে প্রশাসনিক স্তরে বড়সড় রদবদল শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন(Election Commission of India)। অবাধ, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন যে কড়া অবস্থান নিয়েছে, তারই প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে একের পর এক প্রশাসনিক বদলিতে। বিশেষত পুলিশ প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলিতে অভিজ্ঞ ও তুলনামূলক নিরপেক্ষ অফিসারদের বসানোর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
এই প্রেক্ষাপটে শুক্রবার জারি করা নির্দেশিকায় কমিশন জানায়, আইপিএস ত্রিপুরারি অথর্বকে (Tripurari Atharv) বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের নতুন পুলিশ কমিশনার হিসেবে নিয়োগ করা হচ্ছে। রাজ্যের মুখ্যসচিবকে পাঠানো চিঠিতে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, এই বদলির প্রক্রিয়া ১৮ এপ্রিল সকাল ১১টার মধ্যেই সম্পন্ন করতে হবে। নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে নির্দেশ কার্যকর না হলে কমিশন কঠোর পদক্ষেপও নিতে পারে বলে প্রশাসনিক মহলে জল্পনা তৈরি হয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে শুক্রবার জারি করা নির্দেশিকায় কমিশন জানায়, আইপিএস ত্রিপুরারি অথর্বকে (Tripurari Atharv) বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের নতুন পুলিশ কমিশনার হিসেবে নিয়োগ করা হচ্ছে। রাজ্যের মুখ্যসচিবকে পাঠানো চিঠিতে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, এই বদলির প্রক্রিয়া ১৮ এপ্রিল সকাল ১১টার মধ্যেই সম্পন্ন করতে হবে। নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে নির্দেশ কার্যকর না হলে কমিশন কঠোর পদক্ষেপও নিতে পারে বলে প্রশাসনিক মহলে জল্পনা তৈরি হয়েছে।
নির্বাচন চলাকালীন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা নির্বাচন কমিশনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। সেই কারণেই সাধারণত নির্বাচন ঘোষণার পর থেকেই সংবেদনশীল ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ পদগুলিতে রদবদল শুরু করে কমিশন। পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে এই প্রক্রিয়া আরও তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ অতীতের একাধিক নির্বাচনে হিংসার অভিযোগ উঠেছে। ফলে এবার শুরু থেকেই সতর্ক অবস্থান নিয়েছে কমিশন।
কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO)-এর পাঠানো ইমেল ও রিপোর্টের ভিত্তিতেই এই বদলির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিধাননগর এলাকা কলকাতার সংলগ্ন হওয়ায় এবং প্রশাসনিক দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় সেখানে পুলিশ কমিশনার পদে পরিবর্তন বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। নিউ টাউন, সল্টলেক-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও আবাসিক অঞ্চল এই কমিশনারেটের আওতায় পড়ে, যেখানে ভোটের সময় নিরাপত্তা ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
উল্লেখ্য, এটি একক কোনও সিদ্ধান্ত নয়। এর আগে কলকাতা পুলিশের উচ্চপদেও একাধিক রদবদল করেছে কমিশন। সিআইডি-র ডিআইজি সোমা দাস মিত্রকে কলকাতা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার (অপরাধ) হিসেবে আনা হয়েছে। পাশাপাশি সুদীপ সরকারকে যুগ্ম কমিশনার (সদর) এবং দেবস্মিতা দাসকে যুগ্ম কমিশনার (ইন্টেলিজেন্স) পদে নিয়োগ করা হয়েছে। এই ধারাবাহিক পদক্ষেপ থেকে স্পষ্ট, নির্বাচন কমিশন রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামোকে নতুন করে সাজিয়ে তুলতে চাইছে, যাতে ভোটপর্বে কোনওরকম বিশৃঙ্খলা না ঘটে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের প্রশাসনিক রদবদল নির্বাচন প্রক্রিয়ায় নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। বিশেষ করে বিধাননগরের মতো সংবেদনশীল এলাকায় অভিজ্ঞ আধিকারিক নিয়োগ করা হলে ভোটের সময় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
ভোটের আগে এই আইপিএস রদবদল ঘিরে ইতিমধ্যেই নবান্ন থেকে নিউ টাউন পর্যন্ত রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। ত্রিপুরারি অথর্বের মতো অভিজ্ঞ অফিসার দায়িত্ব নেওয়ার পর নির্বাচনী পরিস্থিতিতে কী পরিবর্তন আসে, এখন সেটাই দেখার।
সব মিলিয়ে, নির্বাচন কমিশনের এই কড়া পদক্ষেপ স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে কোনওরকম ঝুঁকি নিতে রাজি নয় তারা। শান্তিপূর্ণ ও স্বচ্ছ ভোটপর্ব নিশ্চিত করতেই প্রশাসনিক স্তরে এই বড়সড় রদবদল বলে মনে করা হচ্ছে।


