ভারত থেকে আরও ৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল পৌঁছাল বাংলাদেশে
কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে জ্বালানি ক্ষেত্রে সহযোগিতা ক্রমশ আরও শক্তিশালী হয়ে উঠছে। দু’দেশের কৌশলগত সম্পর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী পাইপলাইন (Bangladesh-India Friendship Pipeline) প্রকল্পের মাধ্যমে আবারও বাংলাদেশে ৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল সরবরাহ করা হয়েছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) বিকেল প্রায় পৌনে ৬টা নাগাদ ভারতের অসম থেকে পাঠানো এই জ্বালানি বাংলাদেশে পদ্মা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের (Padma Oil Company Limited) পার্বতীপুর ডিপোতে পৌঁছায়।
এই ডিজেল সরবরাহ করা হয়েছে ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নুমালিগড় রিফাইনারি লিমিটেড (Numaligarh Refinery Limited) থেকে। গত বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সন্ধ্যা প্রায় ৭টার সময় ওই রিফাইনারি থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে ডিজেল পাম্পিং শুরু হয়। নিরবচ্ছিন্ন ও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থার মাধ্যমে কয়েক দিনের মধ্যেই সম্পূর্ণ চালানটি নির্ধারিত গন্তব্যে পৌঁছে যায়। এতে প্রমাণিত হয়েছে যে এই পাইপলাইন প্রকল্পটি শুধু দ্রুতই নয়, অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য একটি জ্বালানি পরিবহণ ব্যবস্থা।
বাংলাদেশের জ্বালানি বিতরণকারী সংস্থা মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেড (Meghna Petroleum Limited)-এর অপারেশন ম্যানেজার কাজী মো. রবিউল আলম জানিয়েছেন, ভারত থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে ডিজেল আমদানি এখন একটি ধারাবাহিক ও পরিকল্পিত প্রক্রিয়ায় পরিণত হয়েছে। বর্তমানে পার্বতীপুর ডিপোতে পর্যাপ্ত পরিমাণ জ্বালানি মজুত রয়েছে এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। এর ফলে বাজারে জ্বালানির কোনও ঘাটতি তৈরি হয়নি এবং সরবরাহ ব্যবস্থাও স্থিতিশীল রয়েছে।
তিনি আরও জানান, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই আরও প্রায় ৭ হাজার মেট্রিক টন ডিজেলের নতুন চালান পাম্পিং শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে চলতি মাসের নির্ধারিত লক্ষ্য পূরণ হওয়ার দিকেই এগোচ্ছে বাংলাদেশ। উল্লেখযোগ্যভাবে, এপ্রিল মাসে বাংলাদেশে মোট ২৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল আমদানির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১১ এপ্রিল প্রথম দফায় ৮ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল দেশে পৌঁছেছিল। সর্বশেষ চালান যুক্ত হওয়ায় এখন পর্যন্ত মোট ১৩ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল আমদানি সম্পন্ন হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী পাইপলাইন (Bangladesh-India Friendship Pipeline) শুধু একটি জ্বালানি পরিবহণ প্রকল্প নয়, বরং এটি দুই দেশের মধ্যে কৌশলগত (strategic) ও অর্থনৈতিক (economic) সহযোগিতার এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক। এই পাইপলাইনের মাধ্যমে পরিবহণ খরচ কমে এসেছে, সময় বাঁচছে এবং জ্বালানি সরবরাহ আরও নিরাপদ হয়েছে। আগে যেখানে সড়ক বা রেলপথে জ্বালানি পরিবহণ করতে হত, সেখানে এখন পাইপলাইনের মাধ্যমে সরাসরি সরবরাহ সম্ভব হচ্ছে, যা অনেক বেশি কার্যকর ও পরিবেশবান্ধব।
এছাড়াও, এই প্রকল্প দক্ষিণ এশিয়া (South Asia)-র জ্বালানি নিরাপত্তা (energy security) জোরদার করার ক্ষেত্রেও একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বাংলাদেশের মতো দ্রুত বিকাশমান অর্থনীতির জন্য স্থিতিশীল জ্বালানি সরবরাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই পাইপলাইন সেই চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। অন্যদিকে, ভারতের জন্যও এটি একটি বড় সুযোগ—কারণ এর মাধ্যমে তারা তাদের জ্বালানি রফতানি (export) বাড়াতে পারছে এবং আঞ্চলিক বাজারে নিজেদের অবস্থান আরও মজবুত করতে পারছে।
সব মিলিয়ে, ভারত ও বাংলাদেশ -এর মধ্যে এই জ্বালানি সহযোগিতা ভবিষ্যতে আরও সম্প্রসারিত হবে বলেই মনে করা হচ্ছে। দুই দেশের পারস্পরিক আস্থা, বাণিজ্যিক সম্পর্ক এবং কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও দৃঢ় করতে এই ধরনের প্রকল্প বড় ভূমিকা নেবে—এমনটাই মত বিশেষজ্ঞদের।


