বিন্দি-তিলকে নিষেধাজ্ঞা! সিঁদুর চোখে পড়লে হবে না, তবে পরা যাবে হিজাব, কর্মীদের ড্রেস কোড নির্দেশিকা ঘিরে তুমুল বিতর্কে লেন্সকার্ট
কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: অনলাইন চশমা বিক্রেতা সংস্থা লেন্সকার্টের (Lenskart) কর্মীদের ড্রেস কোড নির্দেশিকা ঘিরে বিতর্ক ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। নির্দেশিকায় বলা হয়, নো বিন্দি/তিলক। তবে হিজাব পরা যাবে। যদিও তীব্র বিতর্কের মুখে সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা পিয়ুষ বানসাল X-এ দাবি করেছেন, ভাইরাল হওয়া গ্রুমিং ডকুমেন্টটি ‘ভুল’ এবং ‘পুরনো’। কিন্তু একাধিক নতুন তথ্য সামনে আসায় সেই দাবি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
ভাইরাল ডকুমেন্টে কী ছিল
২৩ পাতার একটি অনবোর্ডিং ট্রেনিং ডকুমেন্ট, যার কিছু অংশ সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে, সেখানে কর্মীদের জন্য কিছু নির্দিষ্ট নির্দেশ ছিল,
বিন্দি, কালাওয়া (হাতের পবিত্র সুতোর বন্ধন) এবং ক্লাচার নিষিদ্ধ।
সিঁদুর ব্যবহার করা গেলে তা খুব অল্প পরিমাণে এবং চোখে না পড়ার মতো হতে হবে।
হিজাব ও পাগড়ি পরার অনুমতি রয়েছে, তবে কালো রঙের হতে হবে এবং নির্দিষ্টভাবে পরতে হবে।
রঙিন পাথরের আংটি পরা যাবে না।
এই নির্দেশিকায় হিন্দু ধর্মীয় প্রতীকগুলির উপর কঠোর বিধিনিষেধ থাকলেও ইসলামিক পোশাকের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ছাড় দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। হিজাব পরা যাবে বলে উল্লেখ করা হয়।
বানসালের ব্যাখ্যা ও প্রশ্ন
পিয়ুষ বানসাল প্রথমে বলেন, এই ডকুমেন্ট বর্তমান নীতির প্রতিফলন নয়। পরে ১৬ এপ্রিল তিনি আরও ব্যাখ্যা দেন যে, এটি একটি ‘পুরনো ট্রেনিং ডকুমেন্ট’ এবং ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ সংস্থা নিজেই এতে থাকা ‘ভুল লাইন’ সরিয়ে দেয়।
তবে এখানেই মূল প্রশ্নগুলো উঠে আসছে, ডকুমেন্টটির তারিখ ফেব্রুয়ারি ২০২৬। যদি ১৭ ফেব্রুয়ারিতেই সংশোধন করা হয়, তাহলে সংশোধনের আগে নাকি পরে এটি কর্মীদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছিল?
সংশোধিত ডকুমেন্ট এখনও পর্যন্ত প্রকাশ করা হয়নি
সংস্থা কোনও প্রমাণ দেয়নি যে নতুন সংস্করণ বাস্তবে কার্যকর হয়েছে।
গ্রাউন্ড রিপোর্টে কী উঠে এসেছে?
OpIndia-এর একটি গ্রাউন্ড রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, দিল্লির একটি লেন্সকার্ট স্টোরে এখনও এই নিয়ম কার্যকর। সেখানে এক কর্মী জানান, ‘বিন্দি বা কালাওয়া পরে এলে কর্মীদের বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়। কালাওয়া থাকলে সেটি হাতার ভিতরে লুকিয়ে রাখতে বলা হয়।
এতে বোঝা যাচ্ছে, নীতি ‘বাতিল’ হয়েছে—এই দাবি নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।
নতুন মোড়: ভিডিও অডিটের দাবি
বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছেন লেখক ও কর্মী শেফালি বৈদ্য। তাঁর দাবি, ৮ এপ্রিল ২০২৬-এর একটি ভিডিও অডিট রয়েছে। সেখানে এক কর্মীকে বিন্দি পরার জন্য কম রেটিং দেওয়া হয়েছে।
এই অভিযোগ সত্য হলে, বানসালের ১৫ এপ্রিলের বক্তব্যের মাত্র এক সপ্তাহ আগেও নীতিটি কার্যকর ছিল বলে প্রমাণিত হতে পারে।
আইনি প্রশ্নও উঠছে
এই ঘটনায় সম্ভাব্য সাংবিধানিক প্রশ্নও সামনে এসেছে। ভারতীয় সংবিধানের আর্টিকেল ১৫ (Article 15 of the Indian Constitution) অনুযায়ী ধর্মের ভিত্তিতে বৈষম্য নিষিদ্ধ। একটি তালিকাভুক্ত সংস্থা হিসেবে লেন্সকার্টের উপর সেই দায়বদ্ধতা প্রযোজ্য কি না, তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে।
বড় প্রশ্ন
লেন্সকার্টের মতো একটি বড় খুচরো সংস্থায়, ধর্মীয় পরিচয় কি কর্মক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ করা হচ্ছে?
নীতি সত্যিই বাতিল হয়েছে, নাকি এখনও চালু রয়েছে?
কর্মীরা কি স্বাধীনভাবে নিজেদের ধর্মীয় চিহ্ন বহন করতে পারছেন?
এই প্রশ্নগুলোর উত্তর এখনো স্পষ্ট নয়। সংস্থার তরফে স্বচ্ছতা এবং প্রমাণভিত্তিক ব্যাখ্যার দাবি জোরালো হচ্ছে।
পিয়ুষ বানসালের বক্তব্য এবং গ্রাউন্ড স্তরের রিপোর্ট—দুইয়ের মধ্যে ফারাক যত বাড়ছে, ততই বিতর্ক বাড়ছে।
তথ্যসূত্র: কমিউন


