‘পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় এলে সীমান্তে ‘ইলেকট্রিক কাঁটাতার’ বসানো হবে’
কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: সীমান্তে কাঁটাতার ইস্যু ঘিরে দীর্ঘদিনের কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাতের মাঝেই নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক উসকে দিলেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা (Himanta Biswa Sarma)। পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনী প্রচারে এসে তিনি দাবি করলেন, “রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় এলে আন্তর্জাতিক সীমান্তে ইলেকট্রিক কাঁটাতারের বেড়া বসানো হবে, যার মাধ্যমে অনুপ্রবেশ ও পাচার পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।”
কোচবিহারে বিজেপির সমর্থনে জনসভা থেকে হিমন্ত বিশ্ব শর্মা সরাসরি অভিযোগ করেন, “বর্তমান রাজ্য সরকার সীমান্ত সুরক্ষার ক্ষেত্রে সহযোগিতা করছে না। তাঁর কথায়, “পশ্চিমবঙ্গে এখনও বহু জায়গায় সীমান্ত খোলা রয়েছে। আমরা যতই অনুপ্রবেশ আটকানোর চেষ্টা করি না কেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জমি না দেওয়ায় তা সম্ভব হচ্ছে না।” তিনি আরও বলেন, “উত্তর-পূর্ব ভারতকে সুরক্ষিত রাখতে পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তে কাঁটাতার অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।”
তিনি আশ্বাস দেন, বাংলায় বিজেপি সরকার গঠন হলে ত্রিপুরা, অসম এবং পশ্চিমবঙ্গ—এই তিন রাজ্যের সীমান্তে একযোগে শক্তিশালী কাঁটাতারের বেড়া তৈরি করা হবে এবং সেখানে ইলেকট্রিক ব্যবস্থাও থাকবে। তাঁর দাবি, এর ফলে অনুপ্রবেশকারী ও পাচারকারীদের রুখে দেওয়া সহজ হবে।
অনুপ্রবেশ ইস্যুতে তৃণমূল কংগ্রেসকে আক্রমণ করে হিমন্ত বলেন, “বাংলাদেশিদের কেন এই দেশে ঢুকতে দেওয়া হবে? এই অনুপ্রবেশ রোখার ক্ষেত্রে আমাদের বাধা দেওয়া হচ্ছে।” যদিও তৃণমূলের পাল্টা দাবি, সীমান্ত সুরক্ষা সম্পূর্ণভাবে কেন্দ্রীয় সরকারের দায়িত্ব, রাজ্যের নয়।
শুধু সীমান্ত নয়, খাদ্যাভ্যাস নিয়েও রাজনৈতিক তরজা তীব্র হয়েছে। হিমন্ত বিশ্ব শর্মা অভিযোগ করেন, মাংস খাওয়া নিয়ে তৃণমূল ‘ভুল তথ্য’ ছড়াচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, বিজেপি ক্ষমতায় এলেও মাছ বা অন্যান্য মাংস খাওয়ার উপর কোনও নিষেধাজ্ঞা থাকবে না, তবে গরুর মাংসের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে। তিনি বলেন, “অসমে বিজেপি সরকার থাকলেও মাছ-মাংস খাওয়ার উপর কোনও নিষেধ নেই। কিন্তু গোমাংস বন্ধ করা হয়েছে, বাংলাতেও সেটাই করা হবে।”
এ প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Mamata Banerjee) নিশানা করে তিনি বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভয় পাচ্ছেন, কারণ গোমাংস বন্ধ হলে গরু পাচার এবং সেই সংক্রান্ত ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাবে।” একইসঙ্গে দাবি করেন, পশ্চিমবঙ্গ থেকেই দেশে সবচেয়ে বেশি গবাদি পশু পাচার হয় এবং বিজেপি ক্ষমতায় এলে তা বন্ধ করা হবে।
পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে হিমন্ত আরও বলেন, “পূর্ব ভারতের বহু জায়গায় ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে বলির প্রথা রয়েছে, কিন্তু কোথাও মাছ-মাংস খাওয়া নিয়ে নিষেধাজ্ঞা নেই।” তাঁর মতে, “তৃণমূল ইচ্ছাকৃতভাবে বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।”
এই মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে। একদিকে বিজেপি সীমান্ত সুরক্ষা ও অনুপ্রবেশ রোধকে বড় ইস্যু হিসেবে তুলে ধরছে, অন্যদিকে তৃণমূল কেন্দ্রের ভূমিকা নিয়েই প্রশ্ন তুলছে। নির্বাচনের মুখে এই ইস্যু যে রাজ্যের রাজনৈতিক লড়াইকে আরও তীব্র করে তুলবে, তা বলাই বাহুল্য।


