Thursday, April 23, 2026
Latestরাজ্য​

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা ভোটে নজর আন্তর্জাতিক মহলেরও, সুইজারল্যান্ড-সহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদল ঘুরে দেখছেন ভোটকেন্দ্র

কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: বিধানসভা নির্বাচনের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে বড় পদক্ষেপ নিল ভারতের নির্বাচন কমিশন (Election Commission of India)। কমিশনের আমন্ত্রণে আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদল পশ্চিমবঙ্গ ঘুরে দেখবে, যারা সরেজমিনে ভোট প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করবেন। বুধবার তারা রাজ্যে পৌঁছান এবং বৃহস্পতিবার বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোটগ্রহণের পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছেন। পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি তামিলনাড়ুতেও ঘুরে দেখছেন তারা।

শিলিগুড়ির বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র ঘুরে দেখেন প্রতিনিধিরা। এই দলে রয়েছেন Namibia, Georgia, Nepal, Philippines, Switzerland এবং Kenya-র প্রতিনিধিরা। বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র ঘুরে দেখছেন আন্তর্জাতিক সংস্থা IDEA-র সদস্যরাও।

এই উদ্যোগকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। ভোট প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং নিরপেক্ষতা তুলে ধরতেই এই পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতি নির্বাচন ব্যবস্থার উপর আস্থা বাড়াতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।

এদিকে, ভোটপর্বকে ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থাতেও এবার নজিরবিহীন কড়াকড়ি করা হয়েছে। প্রথম দফায় মোট ২,৪০৭ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বাহিনী রাখা হয়েছে মুর্শিদাবাদ জেলায়—মোট ৩১৬ কোম্পানি। তার মধ্যে ২৪০ কোম্পানি মুর্শিদাবাদ পুলিশ জেলায় এবং ৭৬ কোম্পানি জঙ্গিপুর এলাকায় দায়িত্বে রয়েছে।

কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দ্বিতীয় দফার ভোটে মোট ২,৩২১ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হবে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বাহিনী রাখা হচ্ছে উত্তর ২৪ পরগনা জেলায়—মোট ৫০৭ কোম্পানি। জেলার বিভিন্ন মহকুমায় ব্যাপক বাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে, যার মধ্যে বারাসতে ১১২, বনগাঁয় ৬২, বসিরহাটে ১২৩ এবং ব্যারাকপুরে ১৬০ কোম্পানি বাহিনী থাকবে। বিধাননগরেও রাখা হচ্ছে ৫০ কোম্পানি।

দক্ষিণ ২৪ পরগনায়ও কড়া নজর রাখা হচ্ছে। সুন্দরবন এলাকায় ১১৩ কোম্পানি, বারুইপুরে ১৬১ এবং ডায়মন্ড হারবারে ১৩৫ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে। হাওড়া জেলাতেও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে—হাওড়া গ্রামীণ এলাকায় ১৪৭ এবং হাওড়া পুলিশ কমিশনারেট এলাকায় ১১০ কোম্পানি বাহিনী দায়িত্বে থাকবে।

নদিয়া জেলায় কৃষ্ণনগরে ১৫৮ এবং রানাঘাটে ১২৭ কোম্পানি বাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। হুগলি জেলায় চন্দননগরে ৮৩ এবং গ্রামীণ এলাকায় ২৩৪ কোম্পানি বাহিনী থাকবে। পূর্ব বর্ধমানে ৪৪৬৫টি বুথে মোট ২৬০ কোম্পানি বাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে। অন্যদিকে পশ্চিম বর্ধমানের আসানসোল-দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলে রাখা হচ্ছে ১৩ কোম্পানি বাহিনী।

শুধু জেলা নয়, রাজধানী কলকাতাতেও কড়া নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। মোট ৫,১৭২টি বুথে ২৭৩ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন থাকবে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রতিটি কোম্পানিতে অন্তত ৭২ জন জওয়ান থাকা বাধ্যতামূলক, ফলে মোট নিরাপত্তা ব্যবস্থার পরিমাণ যে কতটা ব্যাপক, তা সহজেই অনুমেয়।

সব মিলিয়ে, এবারের নির্বাচনকে ঘিরে প্রশাসন যে কোনও ঝুঁকি নিতে নারাজ, তা স্পষ্ট। অবাধ, শান্তিপূর্ণ এবং সুষ্ঠু ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে একদিকে যেমন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, অন্যদিকে তেমনই নজিরবিহীন নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে গোটা রাজ্য জুড়ে। এখন দেখার, এই কঠোর ব্যবস্থার মধ্যে দিয়ে কতটা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয় ভোটপর্ব।