Thursday, April 23, 2026
কলকাতা

পশ্চিমবঙ্গ ভোটে হিংসা ঠেকাতে বড় পদক্ষেপ, ২৪ ঘণ্টার হেল্পলাইন চালু করলেন রাজ্যপাল

কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: ছাব্বিশের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে (West Bengal Assembly Election 2026) রক্তপাত ও হিংসা এড়াতে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নিলেন রাজ্যের রাজ্যপাল আর এন রবি (R N Ravi)। অবাধ, শান্তিপূর্ণ ও ভয়মুক্ত নির্বাচন নিশ্চিত করতে রাজভবনের পক্ষ থেকে চালু করা হলো ২৪ ঘণ্টার বিশেষ হেল্পলাইন পরিষেবা। মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল একটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই উদ্যোগের কথা জানানো হয়েছে।

রাজভবন সূত্রে জানা গিয়েছে, গত কয়েক সপ্তাহে একাধিক নাগরিক প্রতিনিধি দল রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করে নির্বাচনের আগে ও পরে সম্ভাব্য হিংসা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। অতীতের নির্বাচনে ঘটে যাওয়া সহিংসতা, প্রাণহানি এবং ভোটারদের ভোট দিতে বাধা দেওয়ার মতো অভিযোগগুলিও তাঁর সামনে তুলে ধরা হয়। সাধারণ মানুষের সেই আশঙ্কা দূর করতেই এই সরাসরি অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

এই হেল্পলাইন চালুর ফলে রাজ্যের যেকোনো প্রান্ত থেকে সাধারণ মানুষ দিন-রাত যে কোনও সময় ফোন করে ভোট সংক্রান্ত অভিযোগ জানাতে পারবেন। রাজভবনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, অভিযোগ পাওয়ার পর দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হবে। একইসঙ্গে অভিযোগকারীর পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখা হবে বলেও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, যাতে কেউ ভয় বা চাপে না পড়ে নিজের বক্তব্য জানাতে পারেন।

শুধু ফোন নয়, ইমেলের মাধ্যমেও অভিযোগ জানানোর সুযোগ রাখা হয়েছে। হেল্পলাইন নম্বর হিসেবে দেওয়া হয়েছে ০৩৩-২২০০-১০২২ থেকে ০৩৩-২২০০-১০২৯। পাশাপাশি নির্দিষ্ট ইমেল আইডি lokbhavanbengalhelpline@gmail.com-এ সরাসরি লিখিত অভিযোগ পাঠানো যাবে বলে জানানো হয়েছে।

রাজভবনের পক্ষ থেকে নির্বাচনকে ‘গণতন্ত্রের উৎসব’ হিসেবে উল্লেখ করে বলা হয়েছে, প্রতিটি নাগরিকের ভোটাধিকার প্রয়োগ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই অধিকার যাতে কেউ বাধা ছাড়া প্রয়োগ করতে পারেন, তা নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

এদিকে নির্বাচন কমিশন (Election Commission of India) ইতিমধ্যেই রাজ্যে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর ব্যাপক মোতায়েন, সংবেদনশীল এলাকায় নজরদারি—সব মিলিয়ে ভোটকে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সেই প্রেক্ষিতে রাজভবনের এই হেল্পলাইন পরিষেবা এক ধরনের অতিরিক্ত নজরদারি বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

সব মিলিয়ে, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের মধ্যে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তা কমাতে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। এখন দেখার, এই হেল্পলাইন পরিষেবা কতটা কার্যকর হয় এবং ভোটারদের আস্থা বাড়াতে কতটা সাহায্য করে।