আজ প্রথম দফায় ১৫২ আসনে ভোটগ্রহণ, মোতায়েন ২ লাখ কেন্দ্রীয় বাহিনী
কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা থেকে শুরু হয়েছে রাজ্যের প্রথম দফার ভোটগ্রহণ। ১৬ জেলার মোট ১৫২টি বিধানসভা কেন্দ্রে চলছে ভোট। নির্বাচনকে ঘিরে নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে গোটা ভোটপর্ব।
নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, এবার প্রায় ২ লক্ষ কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। মোট ২,৪০৭ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় দায়িত্বে রয়েছে, যার মধ্যে মুর্শিদাবাদ জেলায় সর্বাধিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। প্রতিটি বুথে কমপক্ষে ৪ জন করে জওয়ান রাখা হয়েছে। ভোটকেন্দ্রের বাইরে ১০০ মিটার এলাকা সম্পূর্ণভাবে কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকবে।
এছাড়াও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে ৪১ হাজার পুলিশ কর্মী মোতায়েন রয়েছে। নজরদারির জন্য প্রায় ১০০ জন পুলিশ পর্যবেক্ষক নিয়োজিত রয়েছেন। বুথে বুথে চলছে ওয়েব কাস্টিং, যা সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে সিইও দফতর থেকে।
হিংসামুক্ত ভোট করানোই প্রশাসনের বড় চ্যালেঞ্জ। সেই কারণে বুলেটপ্রুফ গাড়ি নিয়ে টহল দিচ্ছে বাহিনী, গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে মোড়ে বসানো হয়েছে নাকা চেকিং। বাইক চলাচলেও জারি হয়েছে বিধিনিষেধ। ভোটের আগে থেকেই কড়া পদক্ষেপ হিসেবে বুধবার দুপুর পর্যন্ত মোট ৭৬৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
তবে ভোটের আগের রাতেই উত্তেজনা ছড়ায় মুর্শিদাবাদের ডোমকল এলাকায়। তৃণমূল ও সিপিএম কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে, শীতলকুচিতে বিজেপির কিষাণ মোর্চার এক নেতার ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে, যদিও শাসক দল সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
এবারের নির্বাচনে একটি বড় পরিবর্তন হিসেবে সিভিক ভলান্টিয়ার, ভিলেজ পুলিশ এবং গ্রিন পুলিশের কোনও ভূমিকা রাখা হয়নি। তাঁদের তিন দিন আগেই রিজার্ভে পাঠানো হয়েছে। ভোটারদের লাইন নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে থাকবেন লাঠিধারী পুলিশ ও হোমগার্ডরা।
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, ভোটের দিন সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত প্রার্থীরা নিজেদের বিধানসভা এলাকার বাইরে যেতে পারবেন না। ভোট চলাকালীন তাঁদের নিজ নিজ এলাকাতেই অবস্থান করতে হবে।
সব মিলিয়ে কড়া নিরাপত্তা ও নজরদারির মধ্যেই শুরু হয়েছে প্রথম দফার ভোট। এখন দেখার, কতটা শান্তিপূর্ণ ও অবাধভাবে সম্পন্ন হয় এই গুরুত্বপূর্ণ পর্ব।


