Thursday, April 23, 2026
কলকাতা

যাবজ্জীবন পর্যাপ্ত নয়, ইয়াসিন মালিকের ফাঁসির জোরালো সওয়াল করলো NIA

কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: জম্মু ও কাশ্মীরের বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা ইয়াসিন মালিককে কেন্দ্র করে মৃত্যুদণ্ডের দাবিতে জোরালো সওয়াল করল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA)। দিল্লি হাইকোর্টে দাখিল করা এক জবাবি হলফনামায় NIA দাবি করেছে, মালিক পাকিস্তানের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখতেন এবং সেই যোগাযোগ ব্যবহার করে ভারতের বিরুদ্ধে প্রচার ও কাশ্মীরের বিচ্ছিন্নতাবাদী এজেন্ডা এগিয়ে নিয়ে যেতেন।

NIA-র বক্তব্য অনুযায়ী, ইয়াসিন মালিক পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি, সিনেটর এবং বিভিন্ন প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে যোগাযোগে ছিলেন। সংস্থার দাবি, এই যোগাযোগগুলো শুধু রাজনৈতিক নয়, বরং ভারতের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস ও বিচ্ছিন্নতাবাদী কার্যকলাপকে শক্তিশালী করার উদ্দেশ্যেই ব্যবহৃত হয়েছে।

হাফিজ সাঈদের সঙ্গে যোগসূত্রের দাবি

NIA আরও জানিয়েছে, উচ্চ পর্যায়ের রাজনৈতিক ব্যক্তিদের নাম উল্লেখ করলেও তা তার সন্ত্রাসবাদী যোগাযোগকে খারিজ করে না। সংস্থার দাবি, ইয়াসিন মালিকের হাফিজ সাঈদ এবং অন্যান্য জঙ্গি নেতাদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল, যা মামলার মূল বিষয়কে আরও স্পষ্ট করে।

এছাড়া, NIA উল্লেখ করেছে যে মালিক নিজেই স্বীকার করেছেন তিনি JKLF (জম্মু ও কাশ্মীর লিবারেশন ফ্রন্ট)-এর কমান্ডার-ইন-চিফ ছিলেন এবং সাইয়েদ সালাউদ্দিনসহ বিভিন্ন জঙ্গি নেতার সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল।

আদালতে শুনানি ও পরবর্তী ধাপ

এই মামলার শুনানি হয় বিচারপতি নবীন চাওলা ও বিচারপতি রবীন্দর দুদেজার ডিভিশন বেঞ্চে। আদালত NIA-র জবাবি হলফনামা নথিভুক্ত করেছে এবং মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ ধার্য করেছে ২১ জুলাই।

ইয়াসিন মালিক ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে তিহার জেল থেকে শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন। আদালত তাকে জানায় যে NIA-র জবাবি নথির কপি জেল কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তাকে সরবরাহ করা হবে।

যাবজ্জীবন থেকে মৃত্যুদণ্ডের আবেদন

২০২২ সালের ২৪ মে দিল্লির একটি ট্রায়াল কোর্ট UAPA ও IPC-র বিভিন্ন ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে ইয়াসিন মালিককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়। এরপর ২০২৩ সালে NIA দিল্লি হাইকোর্টে আপিল করে, তার শাস্তি বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ড করার আবেদন জানায়।

প্রেক্ষাপট

মালিক তার জবাবে দাবি করেছিলেন, তিনি প্রায় তিন দশক ধরে এক ধরনের ‘ব্যাকচ্যানেল’ কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় যুক্ত ছিলেন, যেখানে বিভিন্ন প্রধানমন্ত্রী, গোয়েন্দা প্রধান এবং ব্যবসায়ীদের সঙ্গে তিনি শান্তি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছেন। তবে NIA সেই দাবিকে খারিজ করে বলেছে, এটি জনসমর্থন আদায়ের চেষ্টা ছাড়া আর কিছু নয়।