Friday, April 12, 2024
জীবনযাপন

বিশ্ব মশা দিবসে মশা সম্পর্কে ১০ টি তথ্য

আজ ২০ শে অাগষ্ট বিশ্ব মশা দিবস। সারা পৃথিবীতে বিভিন্ন উপলক্ষকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ধরনের দিবস পালন করা হয়ে থাকে। দিবসগুলিতে বিশ্বব্যাপী আয়োজন করা হয় নানারকম উৎসব অনুষ্ঠান। তবে এমন অনেক দিবস রয়েছে সেসব দিবসের নামও হয়তো আমরা জানি না। তেমনিই একটি দিবস হচ্ছে বিশ্ব মশা দিবস। প্রতি বছর আজকের এই দিনে সারা বিশ্বে পালিত হয় দিবসটি।

১৮৯৭ সালে বিজ্ঞানী রোনাল্ড রস আবিষ্কার করেন যে অ্যানোফিলিস মশা ম্যালেরিয়া রোগের বাহক হিসেবে কাজ করে। রোনাল্ডের এই বিশ্ববিখ্যাত আবিষ্কারকে সম্মান জানিয়েই মূলত বিশ্ব মশা দিবসটি পালন করা হয়।

আজ বিশ্ব মশা দিবসে মশা নিয়ে ১০টি তথ্য জেনে নিন-

১. মশা এক প্রকারের ছোট মাছি প্রজাতির পতঙ্গ। মশা নেমাটোসেরা মাছি বর্গের অন্তর্ভুক্ত। একটি মশার ওজন সাধারণত ২.৫ মিলিগ্রাম হয়ে থাকে।

২. একটি মশার জীবনচক্র চারটি পর্যায়ে বিভক্ত: ডিম, শূক, মুককীট, এবং পূর্ণাঙ্গ মশা।

৩.  শুধুমাত্র স্ত্রী মশারাই স্তন্যপায়ী প্রাণী, পাখি, সরীসৃপ, উভচর প্রাণী এবং এমনকি কিছু মাছের রক্ত পান করে থাকে। পুরুষ মশারা কিন্তু মানুষ বা প্রাণীদের কামড়ায় না কিংবা রক্ত শোষণ করে না। একটি মশা একবারে ০.০০১ থেকে ০.০১ মিলিলিটার রক্ত পান করতে পারে। একবারে একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের শরীরের সব রক্ত শোষণ করে ফেলতে মোট ১২ লক্ষ মশা প্রয়োজন।

৪. ডিম থেকে পূর্ণাঙ্গ মশা হতে সময় লাগে পাঁচ দিনের মতো, কিন্তু বেশির ভাগ ক্ষেত্রে পূর্ণাঙ্গ মশা হতে সময় লাগে ৪০ দিন বা কিছু কিছু প্রজাতির ক্ষেত্রে আরও বেশি। একটা মশা প্রায় ৫ থেকে ৬ মাস বেঁচে থাকতে পারে।

৫. স্ত্রী মশা জলের উপরে উপর নীচে উড়াউড়ি করে এবং পানিতে ডিম ছাড়ে। স্ত্রী মশা মশা বদ্ধ জলে বা জলাশয়ে ডিম পাড়ে। পূর্ণাঙ্গ একটি স্ত্রী মশা তার জীবনচক্রে ১০০-২০০টি ডিম দিতে পারে।

৬. মশার কোনো দাঁত নেই। মশা মুককীত তার পেটের সাহায্যে সাঁতার কাটতে পারে।

৭. মশার ডানাগুলো প্রতি সেকেণ্ডে প্রায় ৩০০ থেকে ৬০০ বার পর্যন্ত ঝাপটায়। মশারা সাধারণত, ঘণ্টায় ১০০ থেকে ১৫০ মাইল পর্যন্ত গতিবেগে উড়তে পারে।

৮.  পৃথিবীতে ৩,৫০০ এর বেশি প্রজাতির মশা রয়েছে।

৯. পৃথিবীতে সবথেকে ভয়ঙ্কর রোগের জীবানুগুলির বেশির ভাগ মশার মাধ্যমে ছড়ায়। মশা ভয়ঙ্কর রোগজীবাণু সংক্রামক। মশার মাধ্যমে ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গু, ফাইলেরিয়া, পীত জ্বর, জিকা ভাইরাস প্রভৃতি রোগ হয়ে থাকে।

১০. প্রতিবছর প্রায় ৫১.৫ কোটি মানুষ মশাবাহিত রোগে আক্রান্ত হন এবং প্রায় দশ থেকে ত্রিশ লক্ষ মানুষ প্রাণ হারান যাদের মধ্যে বেশিরভাগই আফ্রিকার সাহারা অঞ্চলের শিশু।

তথ্যসূত্র- উইকিপিডিয়া