Saturday, April 18, 2026
Latestদেশ

লোকসভার আটকে গেল মহিলা সংরক্ষণ বিল

কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: সংসদের বিশেষ অধিবেশনে কেন্দ্রীয় সরকারের বড়সড় ধাক্কা। লোকসভায় পাশ হতে ব্যর্থ হল ১৩১তম সংবিধান সংশোধনী বিল ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’। প্রবল বিতর্ক ও রাজনৈতিক চাপানউতোরের পর ভোটাভুটিতে প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় বিলটি আটকে যায়।

কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘওয়ালের পেশ করা এই বিলের পক্ষে ভোট পড়ে ২৯৮টি এবং বিপক্ষে ২৩০টি। মোট ৫২৮ জন সাংসদ ভোটদানে অংশ নেন। সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও সংবিধান সংশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন না থাকায় বিলটি গৃহীত হয়নি। অর্থাৎ, বিল পাশ করাতে কমপক্ষে ৩৫২টি সমর্থন ভোট দরকার ছিল।

এই বিলের মূল লক্ষ্য ছিল লোকসভা-র আসন সংখ্যা ৫৪৩ থেকে বাড়িয়ে ৮৫০ করা এবং মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ নিশ্চিত করা। তবে বিরোধীদের প্রধান আপত্তি ছিল—আসন পুনর্বিন্যাস (delimitation) এবং মহিলা সংরক্ষণ—এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে একই বিলে যুক্ত করা।

বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’-র নেতারা অভিযোগ করেন, এই বিলের মাধ্যমে কেন্দ্র উত্তর ভারতের আসন সংখ্যা বাড়িয়ে দক্ষিণ ভারতের রাজনৈতিক প্রভাব কমানোর পরিকল্পনা করছে। প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এবং অখিলেশ যাদব এই ইস্যুতে সরব হন। অন্যদিকে রাহুল গান্ধী ওবিসি ও দলিত মহিলাদের প্রতিনিধিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং অভিযোগ করেন, সরকারের এই পদক্ষেপ দেশের সামাজিক ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে।

ভোটাভুটির আগে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বিরোধীদের ‘মহিলা বিরোধী’ বলে কটাক্ষ করেন। তিনি বলেন, অনেক আসনে ভোটার সংখ্যা এত বেশি যে একজন সাংসদের পক্ষে কার্যকরভাবে কাজ করা কঠিন হয়ে পড়ে। একই সময়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সমাজমাধ্যমে আবেগঘন আবেদন জানিয়ে এই বিলের পক্ষে সমর্থন চান।

তবে সরকারের এই প্রচেষ্টা বিরোধীদের অবস্থানে কোনও পরিবর্তন আনতে পারেনি। ফলস্বরূপ, বহু প্রতীক্ষিত মহিলা সংরক্ষণ এবং লোকসভা আসন পুনর্বিন্যাসের এই পরিকল্পনা আপাতত থমকে গেল।

বিলটি ব্যর্থ হওয়ার পর বিরোধী শিবিরে উচ্ছ্বাস দেখা যায়। তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়ান বলেন, “এটাই নরেন্দ্র ও অমিতের শেষের শুরু।” অন্যদিকে রাহুল গান্ধী মন্তব্য করেন, “এটা প্রকৃত মহিলা সংরক্ষণ বিল নয়, বরং দেশের রাজনৈতিক কাঠামো বদলের একটি প্রচেষ্টা—যাকে আমরা রুখে দিয়েছি।”

প্রসঙ্গত, ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগেই মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ কার্যকর করার লক্ষ্যে এই বিল আনা হয়েছিল। কিন্তু রাজনৈতিক মতপার্থক্য ও কৌশলগত বিরোধের জেরে সেই পরিকল্পনা আপাতত অনিশ্চয়তার মুখে।