Saturday, April 18, 2026
Latestদেশ

আদানি গ্রুপের শেয়ারে উত্থান, আম্বানিকে ছাপিয়ে ভারতের শীর্ষ ধনী গৌতম আদানি

কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: ভারতের শীর্ষ ধনকুবেরদের তালিকায় আবারও বড়সড় পালাবদল। রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের কর্ণধার মুকেশ আম্বানিকে (Mukesh Ambani) পিছনে ফেলে দেশের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তির আসন দখল করলেন আদানি গোষ্ঠীর প্রধান গৌতম আদানি (Gautam Adani)।

ব্লুমবার্গ বিলিয়নেয়ার ইনডেক্সের (Bloomberg Billionaires Index) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মাত্র একদিনের ব্যবধানে এই পরিবর্তন ঘটে। বৃহস্পতিবার গৌতম আদানির সম্পদ বেড়েছে প্রায় ৩.৫৬ বিলিয়ন ডলার। এর ফলে তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯২.৬ বিলিয়ন ডলারে। অন্যদিকে, একই সময়ে মুকেশ আম্বানির মোট সম্পদ নেমে এসেছে ৯০.৮ বিলিয়ন ডলারে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ধনীদের তালিকায় প্রথম স্থানটি দখল করেন আদানি।

বিশ্বের ধনীদের তালিকাতেও এই পরিবর্তনের প্রতিফলন দেখা গিয়েছে। বর্তমানে গৌতম আদানি ১৯তম স্থানে উঠে এসেছেন, যেখানে মুকেশ আম্বানি নেমে গিয়েছেন ২০তম স্থানে। যদিও এই ব্যবধান খুব বেশি নয়, তবুও শেয়ারবাজারের সামান্য ওঠানামাই কীভাবে সম্পদের অঙ্কে বড় পরিবর্তন আনতে পারে, তা আবারও স্পষ্ট হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উত্থানের মূল কারণ আদানি গোষ্ঠীর একাধিক সংস্থার শেয়ারের দামের দ্রুত বৃদ্ধি। বৃহস্পতিবার বাজারে আদানি গ্রুপের প্রায় সব বড় সংস্থার শেয়ারের দামই উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। আদানি পোর্টস (Adani Ports) বেড়েছে ২.২ শতাংশ, আদানি গ্রিন (Adani Green) ২.৪৪ শতাংশ, আদানি এন্টারপ্রাইজ (Adani Enterprises) ৩.০৬ শতাংশ, আদানি এনার্জি (Adani Energy) ৪.৮৬ শতাংশ এবং আদানি পাওয়ার (Adani Power) ৫.৮৪ শতাংশ পর্যন্ত উত্থান দেখিয়েছে। এই ধারাবাহিক বৃদ্ধি সরাসরি প্রভাব ফেলেছে গৌতম আদানির ব্যক্তিগত সম্পদের ওপর।

অন্যদিকে, রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের (Reliance Industries) শেয়ারের পারফরম্যান্স তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল ছিল। মাত্র ০.১৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে সংস্থার শেয়ার। ফলে মুকেশ আম্বানির সম্পদে বৃদ্ধি হয়েছে মাত্র ৭৬.৭ মিলিয়ন ডলার, যা আদানির তুলনায় অনেকটাই কম।

অর্থনীতিবিদদের মতে, এই ধরনের পরিবর্তন সম্পূর্ণভাবেই বাজারনির্ভর। কারণ আদানি ও আম্বানির মতো শিল্পপতিদের মোট সম্পদের বড় অংশই তাঁদের কোম্পানির শেয়ারের বাজারমূল্যের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। ফলে বাজারে ইতিবাচক বা নেতিবাচক যে কোনও পরিবর্তনই তাঁদের সম্পদের অঙ্কে বড় প্রভাব ফেলে।

এদিকে, বিশ্ব ধনকুবেরদের তালিকায় শীর্ষস্থান এখনও অপ্রতিদ্বন্দ্বীভাবে দখলে রেখেছেন ইলন মাস্ক (Elon Musk)। তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ ৬৫৬ বিলিয়ন ডলার, যা তালিকার অন্যান্যদের তুলনায় অনেকটাই এগিয়ে। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন ল্যারি পেজ (Larry Page), তৃতীয় স্থানে জেফ বেজোস (Jeff Bezos)।

এরপরের স্থানগুলিতে রয়েছেন সের্গেই ব্রিন (Sergey Brin), মার্ক জাকারবার্গ (Mark Zuckerberg) এবং ল্যারি এলিসন (Larry Ellison)—যাঁদের প্রত্যেকেরই সম্পদ ২০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি।

শীর্ষ ১০ তালিকায় আরও জায়গা করে নিয়েছেন মাইকেল ডেল (Michael Dell), জেনসেন হুয়াং (Jensen Huang) , বার্নার্ড আর্নল্ট (Bernard Arnault) এবং জিম ওয়ালটন (Jim Walton)।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের দুই শীর্ষ শিল্পপতির মধ্যে এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা আগামী দিনেও অব্যাহত থাকবে। শেয়ারবাজারের সামান্য ওঠানামা, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং সংস্থাগুলির ব্যবসায়িক পারফরম্যান্স—সবকিছু মিলিয়েই নির্ধারিত হবে কে থাকবেন শীর্ষে।

সব মিলিয়ে, আদানি ও আম্বানির এই ‘নেক-টু-নেক’ প্রতিযোগিতা শুধু ভারতের মধ্যেই নয়, আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক মহলেও বিশেষ নজর কেড়েছে। এখন দেখার, আগামী দিনে এই লড়াই কোন দিকে মোড় নেয় এবং শীর্ষস্থান ধরে রাখতে কে কতটা সফল হন।