পশ্চিমবঙ্গে বন্যায় মৃত ২৩, মিলছে না সরকারি ত্রাণ
কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গে বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, বন্যায় রাজ্যে মৃতের সংখ্যা ২৩। সরকারি সাহায্য তথা ত্রাণ মিলছে না বলে অভিযোগ। হাওড়া, হুগলি, উত্তর ২৪ পরগণা, দক্ষিণ ২৪ পরগণা, পূর্ব মেদিনীপুর-সহ দক্ষিণবঙ্গে বন্যাদুর্গত বিভিন্ন জেলায় হাহাকার দেখা দিয়েছে।
হুগলি জেলায় জেলা পরিষদের কাছে থাকা সমস্ত ত্রাণ সামগ্রী দুর্গতদের মধ্যে বিলি করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই সামান্য। হুগলি জেলা পরিষদের সভাপতি প্রদীপ সাহার অভিযোগ, রাজ্য সরকারের কাছে ত্রাণ চেয়েও পাওয়া যাচ্ছে না।
এদিকে, যেটুকু ত্রাণ মিলছে তা নিয়েও দুর্নীতি ও দলবাজি অব্যাহত। উত্তর ২৪ পরগণার স্বরূপনগরে এবং বীরভূমের শীতলগ্রাম এলাকার বন্যাদুর্গত মানুষরা ক্ষুব্ধ হয়ে তৃণমূলের দুই নেতার ওপর চড়াও হয়ে তাদের মারধর করেছেন। ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীদের মধ্যে তৃণমূলের সমর্থকরাও ছিলেন।
বীরভূম জেলার লাভপুরে বন্যা পরিস্থিতি দেখতে গিয়ে রাজ্যের পরিকল্পনা উন্নয়নমন্ত্রী মণীশ গুপ্ত বিক্ষোভের মধ্যে পড়েন। ত্রাণ না পেয়ে উত্তর ২৪ পরগণার স্বরূপনগরের বাংলানি গ্রাম পঞ্চায়েতে তৃণমূল-কংগ্রেস জোটের পঞ্চায়েত প্রধান আবিদ গাজিকে সাধারণ গ্রামবাসীরা মারধর করেন।
বীরভূমের শীতলগ্রামে ত্রাণ না পাওয়া মানুষের হাতে তৃণমূলের এক পঞ্চায়েত সদস্য এমন মার খেয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। হাওড়ার উদয়নারায়ণপুরের কুরচি শিবপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ত্রাণ শিবিরে আশ্রয় নেওয়া আড়াই হাজারের বেশি মানুষ গত ৫ দিনে ত্রাণ হিসাবে পেয়েছেন মাত্র ৫ বস্তা চিড়া। সরকারি ত্রাণে শিশুখাদ্য না থাকায় বন্যাদুর্গত পরিবারের শিশুরা চরম কষ্টের মধ্যে রয়েছে।

গুরুদাস কলেজ থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতক এরপর যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর। দীর্ঘ ৫ বছর ধরে ডিজিটাল সাংবাদিকতার সঙ্গে জড়িত।

