Amir Hamza shot: লাহোরে অজ্ঞাত বন্দুকধারীর গুলিতে গুরুতর আহত লস্করের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য আমির হামজা
কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: পাকিস্তানের লাহোর শহরে চাঞ্চল্যকর হামলার ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হলেন কুখ্যাত জঙ্গি নেতা আমির হামজা। তিনি লস্কর-ই-তৈবা-র অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং হাফিজ সইদ-এর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত। গুরুতর জখম অবস্থায় তাকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং চিকিৎসকদের মতে, তার অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক।
সূত্রের খবর, লাহোরের একটি বেসরকারি সংবাদমাধ্যমের অফিসের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় আচমকাই হামজাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় একদল অজ্ঞাতপরিচয় বন্দুকধারী। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, খুব কাছ থেকে একাধিক রাউন্ড গুলি চালানো হয়, যার ফলে ঘটনাস্থলেই রক্তাক্ত হয়ে পড়েন তিনি। আশপাশের লোকজন দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যান। হামলার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং নিরাপত্তা জোরদার করা হয়।
পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী ঘটনাস্থল ঘিরে তদন্ত শুরু করেছে। হামলাকারীদের পরিচয় এখনও স্পষ্ট নয়। এই হামলা কোনও অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ফল, নাকি পরিকল্পিত টার্গেট কিলিং—তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে। পাকিস্তানের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থাও বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।
আমির হামজা দীর্ঘদিন ধরেই জঙ্গি কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত। আফগানিস্তানে মুজাহিদ হিসেবে তার কার্যকলাপের মধ্য দিয়েই এই জঙ্গি জীবনের সূচনা। পরে তিনি লস্কর-ই-তৈবার সঙ্গে যুক্ত হয়ে সংগঠনের আদর্শগত প্রচার এবং সংগঠন বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন। বিশেষ করে তাঁর উস্কানিমূলক বক্তৃতা এবং লেখনীর মাধ্যমে বহু যুবককে জঙ্গি সংগঠনের দিকে আকৃষ্ট করার অভিযোগ রয়েছে।
তিনি লস্করের মুখপত্র ‘মাজাল্লা আল-দাওয়া’-র প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন এবং বিভিন্ন প্রবন্ধ, বই ও প্রচারসামগ্রীর মাধ্যমে উগ্র মৌলবাদী মতাদর্শ ছড়িয়ে দিতেন। সংগঠনের প্রচারযন্ত্র হিসেবে তাঁর ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি, সংগঠনের তহবিল সংগ্রহ এবং নতুন জঙ্গি নিয়োগের ক্ষেত্রেও তিনি সক্রিয় ছিলেন বলে গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়।
ভারতে একাধিক সন্ত্রাসী হামলার সঙ্গে তাঁর যোগসূত্র থাকার অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে জম্মু ও কাশ্মীর অঞ্চলে নাশকতামূলক কার্যকলাপে তাঁর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভূমিকার কথা বহুবার উঠে এসেছে। এই কারণেই মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ তাকে ‘নিষিদ্ধ জঙ্গি’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে এবং তার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক স্তরেও নজরদারি চালানো হয়।
২০১৮ সালে পাকিস্তান সরকার জঙ্গি সংগঠনগুলির বিরুদ্ধে চাপ বাড়ালে হামজা কৌশলে নিজেকে আড়ালে সরিয়ে নেন। পরে তিনি জৈশ-ই-মানকাফা নামে একটি নতুন সংগঠন গড়ে তোলেন বলে অভিযোগ। গোয়েন্দা মহলের মতে, এই সংগঠনটি আসলে লস্করেরই একটি ছদ্মরূপ, যার মাধ্যমে নতুন করে কার্যকলাপ চালানো হচ্ছিল। ভারতের নিরাপত্তা সংস্থার দাবি, নাম পরিবর্তন হলেও লস্করের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে তার নিয়মিত যোগাযোগ বজায় ছিল।
এই হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলেও নজর পড়েছে। পাকিস্তানের মাটিতে এই ধরনের উচ্চপ্রোফাইল জঙ্গি নেতার উপর হামলা দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। একই সঙ্গে, জঙ্গি সংগঠনগুলির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব কতটা তীব্র আকার নিয়েছে, তা নিয়েও জল্পনা তৈরি হয়েছে।
বর্তমানে হাসপাতালের আইসিইউ-তে চিকিৎসাধীন আমির হামজার শারীরিক অবস্থা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। চিকিৎসকরা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানাননি। তবে তার অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক বলেই সূত্রের খবর।
এই ঘটনায় লাহোর সহ গোটা পাকিস্তানে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। তদন্তের অগ্রগতির দিকেই এখন নজর সকলের।


