Monday, June 8, 2026
Latestদেশ

সংসদ ও বিধানসভায় মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণ বিল দ্রুত পাশের আহ্বান ডাক, নারী শক্তির উদ্দেশে খোলা চিঠি মোদীর

কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: সংসদে পেশ হতে চলেছে মহিলা সংরক্ষণ বিল। বিল দ্রুত অনুমোদনের দাবিতে দেশের ‘নারী শক্তি’-র উদ্দেশে চিঠি লিখলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত সেই বার্তায় তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ‘দেশের কন্যাদের আর দীর্ঘদিন অপেক্ষা করিয়ে রাখা যাবে না।’ তাঁর মতে, ‘পরিষদীয় এবং সংসদীয় প্রতিষ্ঠানে মহিলাদের কণ্ঠস্বর যত শক্তিশালী হবে, ততই দেশের গণতন্ত্র আরও সুদৃঢ় হবে।’

চিঠিতে প্রধানমন্ত্রী মহিলাদের জন্য আসন সংরক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরে বহু প্রতীক্ষিত এই সংস্কার দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন, দেশজুড়ে মহিলারা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানাচ্ছেন এবং দীর্ঘদিনের বঞ্চনার অবসান চান। ২০২৯ সালের লোকসভা ও বিভিন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগেই এই সংরক্ষণ কার্যকর করার লক্ষ্যে সরকারের প্রতিশ্রুতির কথাও তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।

আরেকটি পোস্টে প্রধানমন্ত্রী জানান, এই চিঠির মাধ্যমে তিনি দেশের নারীশক্তির প্রতি তাঁর অনুভূতি ভাগ করে নিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন সংবিধান প্রণেতা B. R. Ambedkar-কে, যিনি সামাজিক ন্যায় ও সমতার ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন।

রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা, আসন্ন তিন দিনের বিশেষ সংসদীয় অধিবেশনেই মহিলা সংরক্ষণ বিল বাস্তবায়নের জন্য সংবিধান সংশোধনের পদক্ষেপ নিতে পারে কেন্দ্র সরকার। এই প্রেক্ষাপটেই প্রধানমন্ত্রীর চিঠি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

এদিকে সূত্রের খবর, মহিলা সংরক্ষণ কার্যকর করতে বড়সড় কাঠামোগত পরিবর্তনের পরিকল্পনা করছে সরকার। প্রস্তাব অনুযায়ী, বর্তমান ৫৪৩ আসনের Lok Sabha-কে বাড়িয়ে প্রায় ৮৫০ আসনে নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর সঙ্গে যুক্ত থাকবে নতুন করে আসন পুনর্বিন্যাসের পরিকল্পনাও। জানা যাচ্ছে, প্রায় ৮১৫টি আসন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির মধ্যে বণ্টন করা হবে।

সরকারের লক্ষ্য, সংসদ ও বিধানসভায় মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণ নিশ্চিত করা এবং তা কার্যকর করার জন্য প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক সংশোধন আনা। আসন পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে এই প্রক্রিয়াকে আরও মসৃণভাবে বাস্তবায়ন করার রূপরেখা তৈরি করা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে, মহিলা সংরক্ষণ বিল ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক গতি তৈরি হয়েছে। আসন্ন বিশেষ অধিবেশনেই এই দীর্ঘ প্রতীক্ষিত সংস্কার বাস্তব রূপ পায় কিনা, এখন সেদিকেই নজর দেশের।