Thursday, May 28, 2026
Latestরাজ্য​

পাটখেতে পুঁতে রাখা ছিল কোটি কোটি টাকা! বাদুড়িয়ার পুরপ্রধানকে জেরায় চাঞ্চল্যকর তথ্য, মাটি খুঁড়ে উদ্ধার ২ কোটি ২৪ লাখ

কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়ায় তৃণমূল পরিচালিত পুরসভার পুরপ্রধান দীপঙ্কর ভট্টাচার্যকে ঘিরে চাঞ্চল্যকর ঘটনায় মিলল কোটি কোটি টাকার হদিশ। পুলিশের দাবি, পাটখেতের মাটি খুঁড়ে উদ্ধার হয়েছে বস্তাভর্তি নগদ টাকা। দীর্ঘক্ষণ গণনার পর উদ্ধার হওয়া টাকার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ২৪ লক্ষ টাকা। ঘটনার জেরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়।

পুলিশ সূত্রে খবর, একাধিক অভিযোগের ভিত্তিতে সোমবার রাতে বাদুড়িয়ার পুরপ্রধান দীপঙ্কর ভট্টাচার্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। একটি হোটেল থেকে তাঁকে আটক করে পুলিশ। সেখানেই তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার হয় প্রায় ৮০ লক্ষ টাকা। পাশাপাশি উদ্ধার করা হয় প্রায় ৪ হাজার সরকারি ত্রিপল। অভিযোগ, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য বরাদ্দ ত্রিপল বেআইনিভাবে নিজের হেফাজতে মজুত করে রেখেছিলেন ওই তৃণমূল নেতা।

এরপর বুধবার ধৃত পুরপ্রধানকে সঙ্গে নিয়ে তল্লাশি চালাতে যায় পুলিশ। তদন্তকারীরা বাদুড়িয়ার তৃণমূল কার্যালয়ের পাশের একটি পাটখেতে পৌঁছে নির্দিষ্ট জায়গায় খোঁড়াখুঁড়ি শুরু করেন। মাটি খুঁড়তেই বেরিয়ে আসে একের পর এক বস্তা ও ট্রলি ভর্তি টাকা। পুলিশ মোট চারটি ট্রলি উদ্ধার করেছে বলে জানা গিয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, শুধু নগদ টাকা নয়, বিপুল পরিমাণ নথিপত্রও উদ্ধার হয়েছে ওই জায়গা থেকে। বুধবার সন্ধ্যা থেকেই উদ্ধার হওয়া টাকা গণনার কাজ শুরু হয়। ঘটনাস্থলে আনা হয় একাধিক টাকা গোনার মেশিন। উপস্থিত ছিলেন ব্যাঙ্ক কর্মী ও বিভিন্ন দপ্তরের আধিকারিকরাও। সারারাত ধরে চলে গণনার কাজ। শেষে পুলিশ জানায়, উদ্ধার হওয়া নগদের পরিমাণ ২ কোটি ২৪ লক্ষ টাকা।

তদন্তকারীরা এখন জানতে চাইছেন, এত বিপুল পরিমাণ টাকার উৎস কী। এছাড়াও আরও কোথাও সম্পত্তি বা নগদ লুকিয়ে রাখা হয়েছে কিনা, তা জানতে দীপঙ্কর ভট্টাচার্যকে দফায় দফায় জেরা করা হচ্ছে। পুলিশ সূত্রে খবর, ইতিমধ্যেই আরও কিছু সম্পত্তির খোঁজ মিলেছে।

ঘটনার পর রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে তীব্র চাপানউতোর। বাদুড়িয়ার পুরপ্রধানের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগে অস্বস্তিতে শাসকদল। বিষয়টি নিয়ে কটাক্ষ করেছেন রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেন, “সবাই তো আর পার্থ চট্টোপাধ্যায় নন যে, বান্ধবীর ফ্ল্যাটে টাকা রেখে দেবেন। এই দলের অনেকেই এত টাকা করেছেন যে, কোথায় সেগুলো রাখবেন বুঝতে পারছেন না।”

ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র শোরগোল শুরু হয়েছে। তদন্ত এগোলে আরও বিস্ফোরক তথ্য সামনে আসতে পারে বলেই মনে করছে প্রশাসনের একাংশ।