Tuesday, July 28, 2026
Latestদেশ

CJP-র বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কোনও কড়া পদক্ষেপ নয়, তবে আগে অপরাধের রেকর্ড থাকলে এটা প্রযোজ্য নয়: সুপ্রিম কোর্ট

কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: নিট প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-র বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া পুলিশি অত্যাচারের অভিযোগের মামলায় গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, FIR-এর ভিত্তিতে দিল্লি সরকার তদন্ত চালাতে পারবে, তবে তদন্ত চলাকালীন বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে কোনও কড়া পদক্ষেপ করা যাবে না।

তবে আদালত স্পষ্ট করেছে, যাদের বিরুদ্ধে আগে থেকেই অপরাধমূলক রেকর্ড রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে এই সুরক্ষা প্রযোজ্য হবে না।

এদিন মামলাকারী পক্ষের তরফে গোটা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য প্রাক্তন প্রধান বিচারপতির তত্ত্বাবধানে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠনের দাবি জানানো হয়।

শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত পর্যবেক্ষণে বলেন, প্রথমদিকে বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণ ছিল, কিন্তু পরে পরিস্থিতি অশান্ত হয়ে ওঠে। তাঁর মতে, এর নেপথ্যে দুটি সম্ভাবনা থাকতে পারে— হয় পুলিশ অতিরিক্ত কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছিল, নয়তো বিক্ষোভে উস্কানিদাতারা ঢুকে পড়েছিল। তিনি আরও বলেন, “যতদূর সম্ভব বলপ্রয়োগ এড়িয়ে চলা উচিত ছিল।”

মামলাকারী পক্ষের আইনজীবী আদালতে দাবি করেন, ঘটনাস্থলে বহু পুলিশকর্মী উর্দি ছাড়া উপস্থিত ছিলেন। তার বক্তব্য, গোটা ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া উচিৎ এবং কার দায় রয়েছে, তা নির্ধারণ করা জরুরি। পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, বিহারে আন্দোলন দমনে AK-47 ব্যবহার করে গুলি চালানো হয়েছিল এবং শুধু যন্তর মন্তর নয়, কনট প্লেস এলাকাতেও পুলিশ লাঠিচার্জ করেছিল।

প্রধান বিচারপতি আরও বলেন, একবার এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য একটি নির্দিষ্ট প্রোটোকল তৈরি হয়ে গেলে ভবিষ্যতে দায় নির্ধারণ করা অনেক সহজ হবে। আদালতের এই পর্যবেক্ষণ ভবিষ্যতে বিক্ষোভ মোকাবিলায় পুলিশের ভূমিকা ও জবাবদিহি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে।

উল্লেখ্য, দিল্লি পুলিশের দাবি, শত শত গিগাবাইট সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে এবং ফেসিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তির সাহায্যে মোট ২,৮৭৩ জন ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে আগে থেকেই বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক মামলা রয়েছে। পুলিশের দাবি, এদের মধ্যে ৯৮৯ জনের বিরুদ্ধে খুন, ধর্ষণ, অপহরণ, ডাকাতি, অস্ত্র আইন ও পকসো-সহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।