Saturday, September 12, 2026
Latestআন্তর্জাতিক

পাকিস্তানে ২ হিন্দু কিশোরীকে অপহরণ করে ধর্মান্তকরণ, জোরপূর্বক মুসলিম পুরুষের সঙ্গে বিয়ে, বাড়ি ফিরতে কাতর আবেদন, সরকারি হোমে পাঠালো আদালত

কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশে ফের হিন্দু নাবালিকাদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আদালতের বাইরে কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা গেল দুই হিন্দু কিশোরীকে। সম্পর্কে তারা দুই বোন। অভিযোগ, ১৩ ও ১৪ বছরের সীতা ও রূপী নামে ওই দুই কিশোরীকে অপহরণের পর জোর করে ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরিত করা হয় এবং মুসলিম পুরুষদের সঙ্গে তাঁদের বিয়ে দেওয়া হয়।

জানা গিয়েছে, দুই কিশোরী নিজেদের বাবা-মায়ের কাছে ফিরে যেতে আদালতের কাছে আবেদন জানিয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাঁদের সরকারি হোমে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদালতের বাইরে দুই বোনকে হাতজোড় করে কাঁদতে এবং বাড়ি ফিরে যাওয়ার আকুতি জানাতে দেখা যায়।

পাকিস্তানি সাংবাদিক ও সমাজকর্মী ভীনগাস এই ঘটনার একটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন। ভিডিওতে দুই নাবালিকাকে আদালতের বাইরে কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা যায়। ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর পাকিস্তানে সংখ্যালঘু হিন্দুদের নিরাপত্তা এবং বিচার ব্যবস্থায় তাঁদের অবস্থান নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, দুই কিশোরী কাচ্চি কোলহি জনজাতির। তাঁদের পরিবারের দাবি, নিজেদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাঁদের ধর্মান্তরিত করা হয় এবং আমজাদ সোলাঙ্গি ও মনসুর সোলাঙ্গির সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হয়। পরে আদালতের মাধ্যমে বাবা-মায়ের কাছে ফিরে যাওয়ার আবেদন জানায় দু’বোন।

তবে আদালত তাঁদের সরকারি হোমে পাঠানোর নির্দেশ দেয় বলে দাবি করা হয়েছে। এরপরই আদালতের বাইরে কান্নায় ভেঙে পড়ে দুই কিশোরী।

আরও এক নাবালিকা অপহরণের দাবি

এই ঘটনার মধ্যেই ভীনগাসের আরও একটি দাবি ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তাঁর বক্তব্য, ৯ সেপ্টেম্বর সিন্ধুর টান্ডো আল্লাহইয়ার এলাকা থেকে প্যানসি কোহলি নামে ১৪ বছরের আরও এক হিন্দু কিশোরীকে অপহরণ করা হয়েছে।

একই সঙ্গে তাঁর দাবি, গত ১০ দিনের মধ্যে সিন্ধু প্রদেশে অন্তত ছ’জন হিন্দু কিশোরীকে অপহরণ করে জোর করে ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরিত করা হয়েছে।

পরপর এমন অভিযোগ সামনে আসায় সিন্ধুর হিন্দু সংখ্যালঘু পরিবারগুলির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

দীর্ঘদিনের অভিযোগ

পাকিস্তানের হিন্দু জনসংখ্যার বড় অংশের বাস সিন্ধু প্রদেশে। এই অঞ্চলে হিন্দু কিশোরী ও তরুণীদের অপহরণ, জোরপূর্বক ধর্মান্তর এবং বিয়ের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই সামনে আসে।

বিশেষ করে কোল, ভিল ও মেঘওয়ারের মতো প্রান্তিক ও আর্থিকভাবে দুর্বল জনগোষ্ঠীর মেয়েরা বেশি ঝুঁকির মধ্যে থাকে বলে অভিযোগ করেন সংখ্যালঘু অধিকারকর্মীরা।

অভিযোগকারীদের বক্তব্য, আর্থিকভাবে দুর্বল পরিবারগুলির পক্ষে প্রভাবশালী ব্যক্তি বা স্থানীয় গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আইনি লড়াই করা অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। পুলিশে অভিযোগ দায়ের করা থেকে শুরু করে আদালতে মামলা চালানো—বিভিন্ন পর্যায়েই তাঁদের সমস্যার মুখে পড়তে হয় বলে অভিযোগ।

মানবাধিকার নিয়ে প্রশ্ন

পাকিস্তানে হিন্দু সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে বৈষম্য এবং হিন্দু তরুণীদের অপহরণ, জোরপূর্বক ধর্মান্তর ও বিয়ের অভিযোগ নিয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলিও অতীতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। মন্দির ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা এবং ধর্ম অবমাননার অভিযোগে হয়রানির মতো ঘটনাও সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

সংখ্যালঘু অধিকারকর্মীদের অভিযোগ, বহু ক্ষেত্রে পুলিশ ও প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানিয়েও দ্রুত বা কার্যকর ব্যবস্থা পাওয়া যায় না।

সিন্ধুর আদালতের বাইরে দুই নাবালিকার কান্নার ভিডিও নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। দুই কিশোরীর বাবা-মায়ের কাছে ফিরে যাওয়ার আকুতি ঘিরে পাকিস্তানে সংখ্যালঘু হিন্দুদের নিরাপত্তা, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং নাবালিকাদের আইনি সুরক্ষা নিয়ে ফের প্রশ্ন উঠেছে। India Today