Tuesday, July 28, 2026
Latestদেশ

CJP-র আন্দোলনে যুক্ত ২৮৭৩ জনের অপরাধমূলক অতীত; রয়েছে খুন, ধর্ষণ, অপহরণ, ডাকাতি, পকসো অভিযোগও; ককরোচরা কী এদের দায় নেবে?

কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: দিল্লির যন্তর-মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনকে ঘিরে সংঘর্ষের ঘটনায় তদন্তে বড় দাবি করেছে দিল্লি পুলিশ। পুলিশের দাবি, শত শত গিগাবাইট সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে এবং ফেসিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তির সাহায্যে মোট ২,৮৭৩ জন ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে আগে থেকেই বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক মামলা রয়েছে। পুলিশের দাবি, এদের মধ্যে ৯৮৯ জনের বিরুদ্ধে খুন, ধর্ষণ, অপহরণ, ডাকাতি, অস্ত্র আইন ও পকসো-সহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।

ঘটনাটি ২০ ও ২২ জুলাই যন্তর-মন্তরে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে সিজেপি-র বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে। দিল্লি পুলিশের অভিযোগ, আন্দোলনকারীদের একাংশ নিরাপত্তা ব্যারিকেড ভেঙে এগিয়ে যায়, পুলিশকর্মীদের উপর হামলা চালায়, ইট-পাথর ছোড়ে এবং সরকারি ও বেসরকারি সম্পত্তির ক্ষতি করে। তদন্তের স্বার্থে ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকার ১০০টিরও বেশি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখা হয়েছে।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শনাক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে ১০১ জনের বিরুদ্ধে খুন, ৬২ জনের বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টা, ২৮৪ জনের বিরুদ্ধে ডাকাতি, ৬১ জনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ, ১৯ জনের বিরুদ্ধে অপহরণ, ২২৯ জনের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা, ২৫ জনের বিরুদ্ধে যৌন নিগ্রহ এবং ৬ জনের বিরুদ্ধে পকসো আইনে মামলা রয়েছে। এছাড়াও বহু ব্যক্তির বিরুদ্ধে একাধিক মামলা বিচারাধীন।

পুলিশের দাবি, খুনের মামলায় অভিযুক্ত ১০১ জনের মধ্যে ৪২ জনের বিরুদ্ধে দু’টির বেশি এবং ১২ জনের বিরুদ্ধে ১০টিরও বেশি মামলা রয়েছে। ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত ৬১ জনের মধ্যে ৮ জনের বিরুদ্ধেও একাধিক মামলা রয়েছে।

তদন্তকারীদের দাবি, সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গিয়েছে বিক্ষোভকারীদের একাংশ ব্যারিকেড ভেঙে সংসদ মার্গের দিকে অগ্রসর হচ্ছে, পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ছুড়ছে, গাড়ি ভাঙচুর করছে এবং কিছু ক্ষেত্রে পুলিশকর্মীদের গাড়ির উপর হামলার চেষ্টা করছে। টলস্টয় মার্গ এলাকায় একটি গাড়িতে আগুন লাগানো এবং একটি বাসের টায়ার ফুটো করার ঘটনাও ক্যামেরায় ধরা পড়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

দিল্লি পুলিশের দাবি, সংঘর্ষে প্রায় ২০০ জন পুলিশকর্মী আহত হন। তদন্তে ব্যবহৃত ফুটেজে এক মহিলা পুলিশ আধিকারিককে আহত অবস্থায় সহকর্মীদের সাহায্যে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার দৃশ্য দেখা গিয়েছে। পাশাপাশি সংসদ মার্গে এক পুলিশকর্মীকে ঘিরে মারধরের ঘটনাও ধরা পড়েছে বলে জানানো হয়েছে। ২২ জুলাইয়ের ফুটেজে পুলিশ আধিকারিক নন্দকিশোর এবং বিবেক ভগতের উপর হামলার দৃশ্যও রয়েছে বলে দাবি তদন্তকারীদের।

এছাড়া সিসিটিভি ও ভিডিও ফুটেজে ধরা পড়া কিছু বক্তব্যও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে। পুলিশ সূত্রের দাবি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে নিয়ে এক মহিলার মন্তব্য, সংসদ সম্পর্কে এক ব্যক্তির উসকানিমূলক বক্তব্য এবং পুলিশের বিরুদ্ধে অশালীন ভাষা ব্যবহারের ঘটনাও বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

উল্লেখ্য, নিট প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে সিজেপি-র ৩৭ দিনের আন্দোলন সম্প্রতি শেষ হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পর সংগঠনটি আন্দোলন প্রত্যাহার করে। তবে ২০ জুলাইয়ের ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে একাধিক এফআইআর দায়ের হয়েছে। যদিও সিজেপি-র দাবি, সরকারের সঙ্গে আলোচনার সময় ওই মামলাগুলি প্রত্যাহারের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। এদিকে যন্তর-মন্তরের সংঘর্ষের তদন্ত এখনও চলছে এবং সিসিটিভি ফুটেজের ভিত্তিতে আরও শনাক্তকরণ ও আইনি পদক্ষেপ অব্যাহত রয়েছে।

তবে প্রশ্ন উঠছে, CJP কী দাগী অপরাধীদেরও বাঁচানোর চেষ্টা করবে? বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, শান্তিপূর্ণ মিছিলে বহিরাগতরা হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ তুলছে CJP। তাহলে তদন্ত করে দেখা উচিত কে বা কারা বহিরাগত। কারা শান্তিপূর্ণ মিছিলে কারা অশান্তি পাকিয়েছে।