পাক অধিকৃত কাশ্মীরে বিক্ষোভ মিছিলে পুলিশের নির্বিচারে গুলির অভিযোগ, নিহত ১৪ আন্দোলনকারী
কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: পাকিস্তান অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরের (PoJK) রাওয়ালাকোটে ‘আওয়ামি হুকুক লং মার্চ’ ঘিরে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। সোমবার সন্ধ্যায় পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনী বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে। আন্দোলনকারীদের দাবি, এই ঘটনায় অন্তত ১৪ জন নিহত এবং অন্তত ৫০ জন মানুষ আহত হয়েছেন। তবে পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
যৌথ আওয়ামি অ্যাকশন কমিটির (JAAC) অন্যতম সদস্য ইমতিয়াজ আসলাম এক ভিডিও বার্তায় দাবি করেন, বিক্ষোভকারীদের মিছিল চিনার চক হয়ে ডি-চকের দিকে এগোচ্ছিল। পরে রাওয়ালাকোটের মকবুল ভাট শহীদ চকে রাতের জন্য অবস্থান নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। তাঁর অভিযোগ, সেই সময় পাকিস্তানি বাহিনী নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়।
#WATCH | Rawalakot, PoJK: Eyewitnesses claim 14 people were killed in police firing in Rawalakot last evening
Imtiaz Aslam, core member, Joint Awami Action Committee, said, “Pakistan terrorist forces fired upon our innocent youth today; as a result, 14 of our young men were… pic.twitter.com/qn3Z0Uatcn
— ANI (@ANI) July 28, 2026
আসলামের দাবি, নিহতদের মধ্যে রয়েছেন আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা ওমর নাজির কাশ্মীরির ভাই উসমান নাজির। এছাড়াও খাইগালা, কোটলি, তত্তাপানি, বানজা-বাসপুর, ছোটা গালা এবং হাভেলি এলাকার বাসিন্দারাও নিহতদের মধ্যে রয়েছেন বলে তিনি জানান। তাঁর আরও দাবি, নিহতদের মধ্যে দু’জন বালুচও ছিলেন।
তিনি প্রবাসী কাশ্মীরিদের আন্তর্জাতিক স্তরে এই ঘটনার প্রতিবাদ জানানোর আহ্বান জানান। তাঁর অভিযোগ, বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে নৃশংস দমন-পীড়ন চালানো হচ্ছে। তিনি রাষ্ট্রসংঘ (UN) এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার দৃষ্টি আকর্ষণের পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পাকিস্তান দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভেরও আহ্বান জানান।
আসলাম আরও দাবি করেন, এলাকায় ইন্টারনেট ও মোবাইল পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, যার ফলে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। পরিবহণ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় বিক্ষোভকারীরা পায়ে হেঁটে মুজাফফরাবাদের দিকে যাত্রা চালিয়ে যাবেন বলেও তিনি জানান।
আরও এক প্রত্যক্ষদর্শী দাবি করেন, বিক্ষোভকারীরা সাদা পতাকা হাতে শান্তিপূর্ণভাবে রাওয়ালাকোটের চাঁদনি চকে প্রবেশ করেছিলেন। তাঁর অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ অবস্থান সত্ত্বেও নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে বহু মানুষ নিহত ও আহত হন। তিনি বলেন, আন্দোলনকারীদের পাকিস্তান বা পাকিস্তানি জনগণের বিরুদ্ধে কোনও যুদ্ধ নয়, বরং নিজেদের অধিকার আদায়ের দাবিতেই এই আন্দোলন চলছে।
প্রত্যক্ষদর্শী আরও অভিযোগ করেন, পুরো এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে এবং প্রবাসী কাশ্মীরিদের আন্দোলনের দাবিকে আন্তর্জাতিক মহলে তুলে ধরার আবেদন জানান।
তবে নিহতের সংখ্যা, আহতের পরিমাণ এবং নিরাপত্তা বাহিনীর গুলি চালানোর অভিযোগ আন্দোলনকারীদের ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি।

