Friday, March 13, 2026
Latestদেশ

অনুপ্রবেশ রুখতে মোদী সরকারের থ্রিডি নীতি: ডিটেক্ট-ডিলিট & ডিপোর্ট

কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা, জনবিন্যাস পরিবর্তন এবং গণতন্ত্র — এই তিনটি বিষয়কে ঘিরে তৈরি হওয়া চ্যালেঞ্জের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকার কড়া অবস্থান নিয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ঘোষণা করলেন, অনুপ্রবেশ রুখতে মোদী সরকারের মূলনীতি হচ্ছে “ডিটেক্ট, ডিলিট অ্যান্ড ডিপোর্ট” — অর্থাৎ শনাক্ত করা, বাদ দেওয়া এবং বহিষ্কার করা।

তরুণ প্রজন্মকে আহ্বান

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “অনুপ্রবেশ, জনসংখ্যাগত পরিবর্তন এবং গণতন্ত্র একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। ভারতের সীমান্ত, সংস্কৃতি, ভাষা এবং জাতীয় পরিচয়ের সুরক্ষার জন্য এই তিনটি দিক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি তরুণ প্রজন্মকে আহ্বান জানান, যেন তারা এই ইস্যুগুলির গুরুত্ব বোঝে এবং জাতীয় ঐক্য রক্ষায় এগিয়ে আসে।”

কমছে হিন্দু জনসংখ্যা, বাড়ছে মুসলিম জনসংখ্যা 

অমিত শাহ ১৯৫১ থেকে ২০১১ সালের জনগণনা তথ্য উদ্ধৃত করে বলেন, “এই সময়ে হিন্দু জনসংখ্যা ৮৪ শতাংশ থেকে কমে ৭৯ শতাংশে নেমেছে, অথচ মুসলিম জনসংখ্যা ৯.৮ শতাংশ থেকে বেড়ে ১৪.২ শতাংশে পৌঁছেছে।” তাঁর দাবি, এই পরিবর্তনের মূল কারণ শুধুমাত্র জন্মহার নয়, বরং প্রতিবেশী দেশ — বিশেষ করে পাকিস্তান ও বাংলাদেশ — থেকে অনুপ্রবেশ।

পাকিস্তান ও বাংলাদেশে কমছে হিন্দু জনসংখ্যা 

তিনি আরও বলেন, “পাকিস্তানে ১৯৫১ সালে হিন্দু জনসংখ্যা ছিল ১৩ শতাংশ, এখন তা নেমে এসেছে মাত্র ১.৭৩ শতাংশে। বাংলাদেশে হিন্দুর সংখ্যা ২২ শতাংশ থেকে কমে ৭.৯ শতাংশে। কিন্তু ভারতের সংবিধান সবার ধর্মীয় স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দেয়।”

শরণার্থীরা ভারতের নাগরিকত্ব পাবে 

অমিত শাহ শরণার্থী ও অনুপ্রবেশকারীর মধ্যে পার্থক্য স্পষ্ট করে বলেন, “শরণার্থীরা ধর্মীয় কারণে ভারতে আশ্রয় নিয়েছে, কিন্তু অনুপ্রবেশকারীরা অবৈধভাবে অর্থনৈতিক স্বার্থে ঢোকে। ভারত কোনো ধর্মশালা নয়—আমাদের সীমান্ত ছিদ্রযুক্ত থাকতে পারে না।”

তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর প্রতিবেশী দেশগুলিতে নিপীড়িত সংখ্যালঘুদের নাগরিকত্ব দেওয়া ভারতের প্রতিশ্রুতি ছিল, যা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নাগরিকত্ব (সংশোধন) আইন বা সিএএ-র মাধ্যমে পূরণ করেছেন। শাহের দাবি, “সিএএ কারও নাগরিকত্ব কেড়ে নেয় না; বরং যাঁরা প্রজন্মের পর প্রজন্ম নাগরিকত্ব থেকে বঞ্চিত ছিলেন, তাঁদের অধিকার ফিরিয়ে দেয়।”

ধর্মের ভিত্তিতে দেশভাগ ঐতিহাসিক ভুল

বক্তৃতায় অমিত শাহ বলেন, ধর্মের ভিত্তিতে দেশভাগ ছিল একটি ঐতিহাসিক ভুল। “এই সিদ্ধান্ত সংসদ নেয়নি, সেই সময়কার শাসক দল নিয়েছিল, যার ফলে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ভুগেছে। মোদীজি সিএএ প্রণয়নের মাধ্যমে সেই ভুল সংশোধনের চেষ্টা করেছেন।”

অসমের জনবিন্যাস বদলে গেছে

জনসংখ্যাগত পরিবর্তন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “অসমে মুসলিম জনসংখ্যা ২৯.৬ শতাংশ এবং পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে, যা অনুপ্রবেশের ইঙ্গিত দেয়।” তাঁর মতে, এই অনুপ্রবেশ শুধুমাত্র জাতীয় নিরাপত্তাকেই নয়, স্থানীয় প্রশাসন, উপজাতি সমাজ ও দরিদ্র শ্রেণির অর্থনৈতিক সুযোগ কেড়ে নিচ্ছে।

অমিত শাহ স্পষ্টভাবে জানান, মোদী সরকারের অনুপ্রবেশবিরোধী তিন-ধাপের নীতি হল — “ডিটেক্ট, ডিলিট অ্যান্ড ডিপোর্ট।” অর্থাৎ অনুপ্রবেশকারীদের শনাক্ত করা, ভোটার তালিকা থেকে নাম মুছে ফেলা এবং দেশ থেকে বহিষ্কার করা হবে। তিনি বলেন, ভোটার তালিকার বিশেষ পুনর্বীক্ষণ (SIR) নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক দায়িত্ব, যাতে মুক্ত ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত হয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, সরকার খুব শিগগিরই একটি “হাই-পাওয়ার্ড ডেমোগ্রাফিক মিশন” গঠন করবে, যা অবৈধ অনুপ্রবেশের সামাজিক, ধর্মীয় ও জনসংখ্যাগত প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত সমীক্ষা চালাবে।

অমিত শাহ বলেন, “ভারত কেবল ভৌগোলিক নয়, এটি একটি ভূ-সংস্কৃতিক জাতি। এর সাংস্কৃতিক ঐক্য রক্ষার দায়িত্ব আমাদের সবার। অনুপ্রবেশ কোনো রাজনৈতিক ইস্যু নয়, এটি জাতীয় ইস্যু।”