Thursday, April 30, 2026
Latestদেশ

LPG: দেশে গ্যাসের কোনও সংকট নেই, বিকল্প পথে ৪০ দেশ থেকে তেল আনছে ভারত

কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতি ঘিরে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে উদ্বেগ তৈরি হলেও ভারতে তেমন কোনও সংকট তৈরি হয়নি বলে আশ্বাস দিল কেন্দ্র। কেন্দ্রীয় বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল (Piyush Goyal) জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালী ঘিরে অস্থিরতার মধ্যেও বিকল্প পথে একাধিক দেশ থেকে জ্বালানি সরবরাহ বজায় রাখা হয়েছে।

বিশ্বের মোট তেল বাণিজ্যের প্রায় ২০–২৫ শতাংশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে হয়ে থাকে। কিন্তু চলমান সংঘাতের জেরে ইরান ওই গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। তেহরানের তরফে জানানো হয়েছে, পশ্চিম এশিয়ার বাইরে এক লিটার তেলও যেতে দেওয়া হবে না। এই পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে উদ্বেগ বাড়ালেও ভারত সরকার জানিয়েছে, দেশের জ্বালানি সরবরাহ আপাতত স্বাভাবিক রয়েছে।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পীযূষ গোয়েল জানান, বিশ্বের অনেক দেশে জ্বালানি সংকট দেখা দিলেও ভারতে এখনও সেই পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। সরকারি সূত্রে জানা যাচ্ছে, জ্বালানি সরবরাহ মসৃণ রাখতে এখন প্রায় ৪০টি দেশ থেকে বিকল্প পথে তেল ও গ্যাস আমদানি করা হচ্ছে। ফলে ভারতের মোট জ্বালানি চাহিদার প্রায় ৬০ শতাংশ এখন হরমুজ প্রণালী এড়িয়ে ঘুরপথে আসছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়া ছাড়াও আর্জেন্টিনা, অস্ট্রেলিয়া, আলজেরিয়া, অ্যাঙ্গোলা, ব্রাজিল, ব্রুনেই, কানাডা, কলম্বিয়া, ইকুয়েডর, মিশর, ঘানা, গ্রিস, গিনি, ইরাক, ইজরায়েল, দক্ষিণ কোরিয়া, কুয়েত, লিবিয়া, মালয়েশিয়া, মেক্সিকো, নেদারল্যান্ডস, নাইজেরিয়া, নরওয়ে, ওমান, পানামা, কাতার, সেনেগাল, টোগো, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, ব্রিটেন, আমেরিকা এবং ভেনেজুয়েলা-সহ একাধিক দেশ থেকে জ্বালানি আসছে ভারতে।

কেন্দ্র জানিয়েছে, পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে। প্রয়োজনে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় বাণিজ্যমন্ত্রী।

গত শনিবার সরকারি সংস্থা প্রেস ব্যুরো অব ইনফরমেশনের (Press Information Bureau) পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, ভারত এখন আর সীমিত কয়েকটি দেশের উপর নির্ভরশীল নয়। আগে যেখানে মাত্র ২৭টি দেশ থেকে তেল আমদানি করা হতো, এখন সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪০-এ। সরকার জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে যেখানে তুলনামূলক সস্তায় তেল পাওয়া যাচ্ছে, সেখান থেকেই আমদানি করা হচ্ছে।

এছাড়া রাশিয়া থেকে তেলের আমদানি আরও বাড়ানোর কথাও ভাবা হচ্ছে। সরকারি সূত্রে দাবি, ভবিষ্যতে ভারতের মোট তেল আমদানির প্রায় ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশই হরমুজ প্রণালীর বাইরের উৎস থেকে আসতে পারে।

জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে আতঙ্কের কোনও কারণ নেই বলেও স্পষ্ট করেছে কেন্দ্রের পেট্রলিয়াম মন্ত্রক। সাংবাদিক বৈঠকে মন্ত্রকের যুগ্মসচিব সুজাতা শর্মা জানান, গ্যাস বুকিংয়ের দুই থেকে আড়াই দিনের মধ্যেই গ্রাহকদের হাতে সিলিন্ডার পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। তাই অযথা আতঙ্কে বাড়তি সিলিন্ডার বুক করার প্রয়োজন নেই।

তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় গ্যাস বুকিংয়ের নিয়মে সামান্য পরিবর্তন আনা হয়েছে। আগে যেখানে দুটি বুকিংয়ের মধ্যে ন্যূনতম ব্যবধান ছিল ২১ দিন, এখন তা বাড়িয়ে ২৫ দিন করা হয়েছে। এতে অযথা মজুত করার প্রবণতা কমবে বলে মনে করছে কেন্দ্র।

পেট্রলিয়াম মন্ত্রকের দাবি, দেশে খনিজ তেলের সরবরাহ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং ঘরোয়া এলপিজি উৎপাদন প্রায় ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। পাশাপাশি হাসপাতাল ও অন্যান্য জরুরি পরিষেবার ক্ষেত্রে নন-ডোমেস্টিক এলপিজি সরবরাহকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

সবমিলিয়ে পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির মাঝেও বিকল্প উৎস ও সরবরাহ ব্যবস্থা জোরদার করে দেশের জ্বালানি চাহিদা মেটাতে সক্রিয় কেন্দ্রীয় সরকার।