Saturday, May 2, 2026
Latestরাজ্য​

হাইভোল্টেজ ভবানীপুরে মমতার বিরুদ্ধে কে প্রার্থী হবেন? শুভেন্দুর কাছে জানতে চাইলো কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব

কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্র বরাবরই বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। কারণ এই কেন্দ্র থেকেই বিধায়ক এবং রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। আগামী বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে তাই এই কেন্দ্রকে ঘিরে আবারও রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়তে শুরু করেছে। সূত্রের খবর, ভবানীপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে কাকে প্রার্থী করা হবে, সেই বিষয়ে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari ) মতামত জানতে চেয়েছে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।

দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, আসন্ন নির্বাচনে ভবানীপুরকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিচ্ছে বিজেপি। কারণ এই আসনটি শুধু রাজনৈতিক মর্যাদার দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ নয়, বরং প্রতীকী দিক থেকেও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামে পরাজয়ের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিধানসভায় ফিরিয়ে আনতে ভবানীপুরে উপনির্বাচনের আয়োজন করা হয়। সেই উপনির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়লাভ করে আবারও বিধায়ক হন তিনি। ফলে ভবানীপুরকে ঘিরে রাজনৈতিক লড়াই বরাবরই হাইভোল্টেজ হয়ে ওঠে।

এই পরিস্থিতিতে আগামী নির্বাচনে এই কেন্দ্রে শক্তিশালী প্রার্থী দেওয়ার পরিকল্পনা করছে বিজেপি। সূত্রের খবর, রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ এবং ভবানীপুর এলাকার সামাজিক ও ভোটের অঙ্ক মাথায় রেখে প্রার্থী বাছাই করতে চাইছে দল। সেই কারণেই রাজ্যের সংগঠন এবং মাটির রাজনীতির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত শুভেন্দু অধিকারীর কাছ থেকে সম্ভাব্য নাম এবং কৌশল নিয়ে মতামত চাওয়া হয়েছে।

রাজনৈতিক মহলের মতে, ভবানীপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করা সহজ নয়। দীর্ঘদিন ধরেই এই কেন্দ্র তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। তবুও বিজেপি চাইছে এমন একজন প্রার্থীকে সামনে আনতে, যিনি শুধু সংগঠনগতভাবে শক্তিশালী নন, পাশাপাশি এলাকার মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ ও জনপ্রিয়তাও রয়েছে।

যদিও এখনও পর্যন্ত কোনও নির্দিষ্ট নাম প্রকাশ্যে আসেনি। তবে দলীয় অন্দরে একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থীকে নিয়ে আলোচনা চলছে বলে সূত্রের খবর। আগামী দিনে এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলেও জানা যাচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভবানীপুরকে ঘিরে বিজেপির এই কৌশল স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে আসন্ন নির্বাচনে তারা মুখ্যমন্ত্রীকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানাতে চাইছে। ফলে আগামী দিনে এই কেন্দ্রকে ঘিরে রাজনৈতিক তরজা যে আরও তীব্র হবে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।