Thursday, April 30, 2026
Latestআন্তর্জাতিকদেশ

India’s BrahMos missile: ভারতের থেকে ব্রাহ্মস মিসাইল কিনছে ইন্দোনেশিয়া, ৩২০০ কোটি টাকার চুক্তি স্বাক্ষর

কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: ভারতের প্রতিরক্ষা রপ্তানির ঝুলিতে আরও একটি বড় সাফল্য যোগ হতে চলেছে। ভারত থেকে অত্যাধুনিক ব্রাহ্মস সুপারসনিক ক্রুজ মিসাইল কিনতে যাচ্ছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ ইন্দোনেশিয়া। প্রায় 3200 কোটি টাকার এই প্রতিরক্ষা চুক্তিতে ইতিমধ্যেই সম্মতি দিয়েছে দুই দেশ। ফলে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও শক্তিশালী হতে চলেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

কূটনৈতিক সূত্রে জানা গিয়েছে, ইন্দোনেশিয়ার নৌবাহিনীর শক্তি বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই মিসাইল কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ভারতীয় সংস্থা ব্রাহ্মস অ্যারোস্পেস-এর তৈরি এই অত্যাধুনিক মিসাইল সিস্টেম ইন্দোনেশিয়ার সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক করে তুলবে বলেই মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা।

ব্রাহ্মস বিশ্বের অন্যতম দ্রুতগতির সুপারসনিক ক্রুজ মিসাইল। এটি প্রায় ম্যাক 2.8 থেকে ম্যাক 3 গতিতে ছুটতে পারে, যা শব্দের গতির প্রায় তিনগুণ। অত্যন্ত নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম এই মিসাইল। স্থলভাগ, যুদ্ধজাহাজ, সাবমেরিন কিংবা যুদ্ধবিমান—একাধিক প্ল্যাটফর্ম থেকেই এটি উৎক্ষেপণ করা যায়। বর্তমানে এর উন্নত সংস্করণে 300 থেকে 500 কিলোমিটার পর্যন্ত দূরত্বে থাকা লক্ষ্যবস্তুকে ধ্বংস করার ক্ষমতা রয়েছে।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, ব্রাহ্মস মিসাইলটি তৈরি হয়েছে ভারত ও রাশিয়ার যৌথ উদ্যোগে। ভারতের ডিআরডিও (DRDO) এবং রাশিয়ার NPOM সংস্থার সহযোগিতায় এই মিসাইল তৈরি করা হয়েছে। গত কয়েক বছরে ভারতের প্রতিরক্ষা শিল্পে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ নীতির জোরে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি অস্ত্রশস্ত্র রপ্তানির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সেই নীতিরই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ব্রাহ্মস মিসাইল রপ্তানি।

এর আগে ফিলিপাইনস প্রায় 375 মিলিয়ন ডলারের চুক্তিতে ভারত থেকে ব্রাহ্মস মিসাইল কিনেছিল। সেই চুক্তি বাস্তবায়নের কাজও ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। এবার ইন্দোনেশিয়ার এই সিদ্ধান্ত ভারতের প্রতিরক্ষা রপ্তানির বাজারকে আরও বিস্তৃত করবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দক্ষিণ চীন সাগর এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশগুলির জন্য শক্তিশালী সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ব্রাহ্মস মিসাইল সেই দিক থেকে একটি বড় কৌশলগত শক্তি যোগ করবে।

ভারতের পক্ষ থেকেও এই চুক্তিকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ এর মাধ্যমে একদিকে যেমন প্রতিরক্ষা রপ্তানির বাজার বাড়বে, অন্যদিকে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে ভারতের কৌশলগত প্রভাবও আরও দৃঢ় হবে।

সব মিলিয়ে বলা যায়, ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে এই 3200 কোটির চুক্তি শুধু একটি প্রতিরক্ষা চুক্তিই নয়, বরং ভারত ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে কৌশলগত সম্পর্ককে আরও গভীর করার দিকেও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।