Iran- Israel War: ৩ শর্তে সংঘর্ষ বিরতিতে রাজি ইরান
কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ায় চলতে থাকা উত্তেজনার মধ্যেই সংঘর্ষ বিরতির ইঙ্গিত দিল ইরান। ইজরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাত থামাতে তিনটি শর্ত প্রকাশ্যে আনল তেহরান। এই শর্তগুলি মানা হলে যুদ্ধবিরতির পথে এগোনো সম্ভব বলে জানিয়েছে ইরান।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যৌথভাবে সামরিক অভিযান শুরু করে ইজরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। সেই সংঘর্ষ এখন দ্বিতীয় সপ্তাহে পড়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, যুদ্ধ বন্ধের জন্য তিনটি স্পষ্ট শর্ত দিয়েছে ইরান।
ইরানের শর্ত তিনটি হল—
১. আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে ইরানের ন্যায্য অধিকার খর্ব করা যাবে না।
২. যুদ্ধের ফলে ইরানে যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
৩. ভবিষ্যতে ইরানের উপর আর কোনও সামরিক হামলা চালানো হবে না—এটার নিশ্চয়তা দিতে হবে।
বুধবার রাতে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এই তিন দফা শর্তের কথা প্রকাশ্যে আনেন। তবে এই প্রস্তাবের জবাবে এখনও পর্যন্ত ইজরায়েল বা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি।
এদিকে, ইরানে ইজরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান প্রায় শেষের পথে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর এই মন্তব্যের পর আন্তর্জাতিক বাজারে তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়ে। অপরিশোধিত তেলের দাম আচমকাই কমে যায় এবং বিশ্বজুড়ে শেয়ার বাজারে উত্থান দেখা যায়।
ট্রাম্প বলেন, “আমার মনে হয় যুদ্ধ কার্যত শেষ হয়ে গেছে। ইরানের নৌবাহিনী নেই, যোগাযোগ ব্যবস্থা নেই, বিমানবাহিনীও নেই।” তিনি আরও দাবি করেন, সামরিক শক্তির দিক থেকে ইরানের আর উল্লেখযোগ্য কিছু অবশিষ্ট নেই। শুরুতে তাঁর ধারণা ছিল এই যুদ্ধ চার থেকে পাঁচ সপ্তাহ পর্যন্ত চলতে পারে, কিন্তু মার্কিন বাহিনী প্রত্যাশার তুলনায় অনেক দ্রুত অগ্রগতি করেছে বলেও দাবি করেন তিনি।
ট্রাম্প জানান, খুব শ্রীঘ্রই যুদ্ধের অবসান ঘটতে পারে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি আবার সংঘাত শুরু হয়, তাহলে ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
অন্যদিকে ট্রাম্পের এই মন্তব্যের তীব্র জবাব দিয়েছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। ইরানের এই প্রভাবশালী সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, যুদ্ধ কখন শেষ হবে তা ঠিক করবে ইরানই—মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নয়।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি, আইআরজিসির এক মুখপাত্র ট্রাম্পের মন্তব্যকে ‘অর্থহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল যদি হামলা চালিয়ে যেতে থাকে, তাহলে হরমুজ প্রণালী দিয়ে ‘এক লিটার তেলও’ রপ্তানি হতে দেওয়া হবে না।
আইআরজিসির এই হুঁশিয়ারিতে স্পষ্ট হয়েছে, সংঘাত আরও বাড়লে উপসাগরীয় অঞ্চল দিয়ে আন্তর্জাতিক তেল পরিবহণ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে। কারণ বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহণ পথ হল হরমুজ প্রণালী।
ফলে পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত দ্বিতীয় সপ্তাহে পড়লেও পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি শান্ত হয়নি। যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা তৈরি হলেও, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির অবস্থান স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত উত্তেজনা বজায় থাকারই ইঙ্গিত দিচ্ছে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ।


