Tuesday, June 18, 2024
টালিউড

ঋতুচক্র মেয়েদের শরীরের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া, এটি নিয়ে কুসংস্কার দূর করতে হবে: ঋতাভরী

কলকাতা: ঋতুচক্র নিয়ে আজও আমাদের সমাজে কুসংস্কার, অজ্ঞানতা, ভুল ধারণা রয়েছে। আজও সমাজের একটা বড় অংশ ঋতুমতী নারীদের নোংরা, অপবিত্র বলে মনে করে। যে সময়টা আরো বেশি করে তাঁদের পাশে দাঁড়ানো উচিত। তাঁদেরকে সান্ত্বনা দেওয়া উচিত। তাঁদের কষ্টটা বোঝা উচিত। সেই সময় উল্টে তাঁদের স্থান হয় গোবরের গন্ধভরা গোয়াল ঘরে নয়তো বাইরে, খোলা জায়গায় কিংবা বাড়ি থেকে দূরে কুঁড়েঘরে।

রান্নাঘরে যেতে দেওয়া হয় না তাঁদের। দেবতার মূর্তি স্পর্শ এবং পুজো করতে দেওয়া না। পুরুষ ও গরু-ছাগল স্পর্শ করাও নিষেধ। ঘরের ভেতরে ঢোকা নিষেধ। স্বামী, সন্তানদের থেকে দূরে থাকতে হয়। কিশোরীদের স্কুলে যেতে দেওয়া হয় না। প্রচণ্ড শীতেও মেয়েদের বাড়ির বাইরে থাকতে বাধ্য করা হয়। অনেক সময় ওই মেয়েদের ওপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনাও ঘটে। সবমিলিয়ে ঋতুস্রাবের সময়কার নিদারুণ কষ্ঠের পাশাপাশি মেনে চলতে হয় কঠোর বিধি-নিষেধ। এবার ঋতুচক্র নিয়ে সমস্ত ভ্রান্ত ধারণা, কুসংস্কারের বিরুদ্ধে মুখ খুললেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী ঋতাভরী চক্রবর্তী।

ঋতুমতী নারীদের এমনই কুঁড়েঘরে থাকতে বাধ্য করা হয়

ঋতুচক্র সংক্রান্ত স্বাস্থ্য দিবসে ঋতাভরী বলেন, ছোটবেলায় স্কুলে অনেক ছেলে বন্ধু ছিল। ওদের থেকে ঋতুচক্র নিয়ে অদ্ভুত সব তথ্য শুনতাম। রান্নাঘরে যাওয়া যাবে না। পুজো করা যাবে না। অবাক লাগত। তবে ঋতুচক্র তো মেয়েদের শরীরের স্বাভাবিক একটি প্রক্রিয়া। বড় হয়ে বুঝেছি, পৌরাণিক এই নিয়মগুলো বানানো হয়েছিল বিভিন্ন স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য। যুগ বদলেছে। মেয়েরা এখন নিজেদের স্বাস্থ্য নিয়ে অনেক সচেতন। ঋতুচক্র নিয়ে লুকিয়ে কথা বলার কোনও মানে হয় না। বরং যত বেশি মানুষ খোলাখুলি কথা বলবে, ততই সচেতনতা বাড়বে।

ঋতাভরী বলেন, ঋতুচক্র না হলে পৃথিবীতে নতুন জীবনের সৃষ্টিই হতো না। সব স্তব্ধ হয়ে যেতো। একবিংশ শতাব্দীতে এসে ঋতুচক্র গোপন করার নয়, এটা নিয়ে আরও বেশি করে আলোচনা করা হোক। উল্লেখ্য, করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও কলকাতার ১০০টিরও পাবলিক লেডিজ টয়লেটে ভেন্ডিং মেশিন বসানোর কাজ সম্পূর্ণ করেছেন তিনি।

মাসিক চলাকালীন সময়ে গোয়ালঘরে হিমাচল প্রদেশের কুলু এলাকার জানা গ্রামের বিমলা দেবী

অভিনেত্রী বলেন, করোনা পরিস্থিতির জন্য কাজ থেমে রয়েছে। নতুন করে কোনও সমস্যা না আসলে এই বছরের মধ্যেই শহরের সমস্ত পাবলিক লেডিজ টয়লেটে প্যাড ভেন্ডিং মেশিন বসানোর ব্যবস্থা করবেন তিনি। ঋতাভরীর কথায়, লড়াইয়ে নেমেছি যখন, শেষ নামিয়েই ছাড়ব।

প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালে নেপালের ২১ বছরের এক তরুণী পার্বতী বোগাতি ঋতুমতী নারীদের জন্য তৈরি জানালাবিহীন ‘ঋতুকালীন কুঁড়েঘরে’ দমবন্ধ হয়ে মারা যান। একদিন পরে ঋতুস্রাব শেষ হবে, এ নিয়ে সে খুব খুশি ছিল। কিন্তু অভাগীকে চিরতরের জন্য চোখ বুজতে হয়।

পার্বতী বোগাতির মৃত্যুর কয়েক সপ্তাহ আগে নেপালেই ঠিক এইরকমই আরও একটি ঘটনা ঘটেছিল। রাতে আচমকাই আগুন লেগে গিয়েছিল ‘ঋতুকালীন কুঁড়েঘরে’। অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যান দুই সন্তানের (১২ এবং ৯ বছর বয়সী দুই ছেলে) মা অম্বা বোহরা

তাই প্রাচীন এই অবৈজ্ঞানিক, অস্বাস্থ্যকর রীতি থেকে বেরিয়ে আসা দরকার। কেননা মা সারদা মাসিক চলাকালীন নিজে ঠাকুরের জন্য রান্না করতেন, পুজো করতেন। আর সেটা শ্রী রামকৃষ্ণের অমতে নয়, তাঁর ইচ্ছেতেই করতেন।