Friday, April 24, 2026
কলকাতা

‘তল্লাশি চলাকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতার ঢুকে পড়া একেবারেই কাম্য নয়, এভাবে গণতন্ত্রকে বিপন্ন করা যায় না’, আইপ্যাক কান্ডে পর্যবেক্ষণ সুপ্রিম কোর্টের

কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: আইপ্যাক মামলাকে কেন্দ্র করে সুপ্রিম কোর্ট পশ্চিমবঙ্গ ও কেন্দ্রের আইনজীবীদের তীব্র বাকযুদ্ধ ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও চড়ল। শুনানিতে একদিকে রাজ্যের পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয়, আদালতকে রাজনৈতিক প্রচারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। অন্যদিকে ইডির দাবি, বাংলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কার্যত ভেঙে পড়েছে এবং আইনের শাসন লঙ্ঘিত হচ্ছে।

কেন্দ্রের অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল তথা ইডির আইনজীবী তুষার মেহতা (Tushar Mehta) আদালতে জানান, তদন্তে বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ সংগ্রহের পর পুলিশ পাল্টা ‘অনধিকার প্রবেশ’-এর মামলা দায়ের করছে। তাঁর দাবি, এটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং বৃহত্তর সমস্যার ইঙ্গিত। সেই কারণেই নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে মামলাটি সিবিআইয়ের (Central Bureau of Investigation) হাতে তুলে দেওয়ার আর্জি জানান তিনি। পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী, ডিজিপি এবং পুলিশের ভূমিকা নিয়েও আদালতের তত্ত্বাবধানে তদন্তের দাবি ওঠে।

অন্যদিকে রাজ্যের তরফে এই সমস্ত অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করা হয়। সরকারি আইনজীবী স্পষ্টভাবে জানান, ইডি এ ধরনের যুক্তি তুলে ধরতে পারে না এবং রাজ্যের প্রতিষ্ঠান ও আধিকারিকদের পক্ষেই তাঁরা অবস্থান নিচ্ছেন।

এই প্রেক্ষাপটে শীর্ষ আদালত গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করে জানায়, ‘সাংবিধানিক ব্যর্থতা’ বা ‘শাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়ার’ মতো দাবি হালকাভাবে করা উচিত নয়। আদালতের মতে, এমন বক্তব্যের সুদূরপ্রসারী প্রভাব থাকতে পারে, যা রাষ্ট্রপতি শাসন জারির মতো পরিস্থিতির দিকেও ইঙ্গিত করতে পারে। বিচারপতি এনভি আঞ্জারিয়া মন্তব্য করেন, এই ধরনের যুক্তি অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং সাংবিধানিক কাঠামোর উপর গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে।

এছাড়াও আইপ্যাক কর্ণধার প্রতীক জৈন (Prateek Jain) বাড়ি ও সংস্থার অফিসে তল্লাশির সময় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) উপস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন তোলে আদালত। বিচারপতিদের মতে, এই ধরনের পদক্ষেপ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বিপন্ন করতে পারে এবং তা মোটেই কাম্য নয়।

উল্লেখ্য, গত জানুয়ারিতে সেক্টর ফাইভে আইপ্যাকের দফতর এবং প্রতীক জৈনের বাসভবনে তল্লাশি চালায় ইডি। রীতিমতো ফাইল নিয়ে বেরিয়ে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যা নিয়ে তুমুল বিতর্ক সৃষ্টি হয়। সেই সময় ঘটনাস্থলে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, যা থেকেই এই আইনি লড়াইয়ের সূত্রপাত।

সব মিলিয়ে, আইপ্যাক মামলার শুনানিকে কেন্দ্র করে আইনি ও রাজনৈতিক সংঘাত নতুন মাত্রা পেয়েছে, যেখানে আদালতের পর্যবেক্ষণ ভবিষ্যতের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ ইঙ্গিত বহন করছে।