Saturday, April 25, 2026
Latestরাজ্য​

‘অসমের ডিটেনশন ক্যাম্পে একজনও হিন্দু নেই, রয়েছে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী মুসলিমরা’, দাবি হিমন্ত বিশ্বশর্মার

কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ কেন্দ্র হয়ে উঠেছে রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে মতুয়া সম্প্রদায়কে কেন্দ্র করে শাসক ও বিরোধী—উভয় পক্ষই সক্রিয়। এই প্রেক্ষাপটে বিজেপির হয়ে প্রচারে এসে বড় বার্তা দিলেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা (Himanta Biswa Sarma)।

বিজেপি প্রার্থী স্বপন মজুমদারের সমর্থনে আয়োজিত জনসভা থেকে হিমন্ত বিশ্বশর্মা দাবি করেন, “অসমের ডিটেনশন ক্যাম্পে একটিও হিন্দু নেই, সেখানে শুধুমাত্র বাংলাদেশি মুসলমানরা রয়েছে।” তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয়েছে। তিনি আরও চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “একজন হিন্দু যদি সেখানে রয়েছে প্রমাণ করতে পারেন, তাহলে আমি রাজনীতি ছেড়ে দেব।”

এই বক্তব্য এমন এক সময় সামনে এল, যখন এসআইআর (Special Intensive Revision) তালিকার চূড়ান্ত প্রকাশের পর বনগাঁ মহকুমায় হাজার হাজার মানুষের নাম বাদ পড়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাদ পড়া নামগুলির মধ্যে বড় অংশই উদ্বাস্তু মতুয়া সম্প্রদায়ের। ফলে এই বিষয়টি নিয়ে বিজেপির প্রতি মতুয়াদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল। সেই ক্ষোভ প্রশমিত করতেই শর্মার এই আশ্বাসমূলক বক্তব্য—এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

মতুয়া সমাজকে আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, “একবার বিজেপি সরকার গঠিত হতে দিন, মতুয়া সমাজের সমস্ত সমস্যার সমাধান করা হবে। আমি গ্যারান্টি দিয়ে বলছি।” তাঁর এই বক্তব্যে স্পষ্ট, নাগরিকত্ব ও পরিচয় সংক্রান্ত উদ্বেগ দূর করার চেষ্টা করছে বিজেপি।

শুধু বনগাঁ নয়, এদিন কল্যাণীর হরিণঘাটাতেও জনসভা করেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) এবং তৃণমূল নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Abhishek Banerjee) কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন। তাঁর বক্তব্য, “বিজেপি ২০০ আসন পেলে মমতা বাইরে বেরোতে পারবেন না, আর ভাইপো দুবাই চলে যাবেন।”

হরিণঘাটার সভাতেও তিনি ডিটেনশন ক্যাম্প প্রসঙ্গ টেনে তৃণমূলকে ‘মিথ্যার ফ্যাক্টরি’ বলে কটাক্ষ করেন। তাঁর অভিযোগ, তৃণমূল ইচ্ছাকৃতভাবে ভুয়ো তথ্য ছড়িয়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করছে এবং রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছে।

অন্যদিকে, শর্মার এই বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। বনগাঁ সাংগঠনিক জেলার তৃণমূল সভাপতি বিশ্বজিৎ দাস বলেন, “মতুয়ারা এখন বিজেপিকে ভালোভাবেই চিনে গিয়েছে। ভোটার তালিকা থেকে তাদের নাম বাদ দিয়ে বেনাগরিক করার চেষ্টা চলছে।” তিনি আরও দাবি করেন, অসমে বহু হিন্দুও ডিটেনশন ক্যাম্পে রয়েছেন এবং শর্মা সম্পূর্ণ মিথ্যা তথ্য দিচ্ছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মতুয়া ভোটব্যাঙ্ক পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, বিশেষ করে উত্তর ২৪ পরগনা ও নদিয়া জেলায়। নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (CAA), এনআরসি, এবং ভোটার তালিকা সংক্রান্ত বিতর্ক—সবকিছু মিলিয়ে এই সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ ও প্রত্যাশা দুটোই রয়েছে। ফলে এই ভোটব্যাঙ্ককে নিজেদের দিকে টানতে সব দলই জোর চেষ্টা চালাচ্ছে।

হিমন্ত বিশ্বশর্মার বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, বিজেপি নাগরিকত্ব ও নিরাপত্তার ইস্যুকে সামনে রেখে মতুয়াদের আস্থা অর্জনের চেষ্টা করছে। অন্যদিকে, তৃণমূল এই দাবিকে চ্যালেঞ্জ করে বলছে, বাস্তবে বিজেপির নীতিই মতুয়াদের সমস্যায় ফেলছে। ফলে এই ইস্যু আগামী দিনে আরও বড় রাজনৈতিক বিতর্কে পরিণত হতে পারে।

বনগাঁ দক্ষিণের এই জনসভা দেখিয়ে দিল, ভোট যত এগোচ্ছে, মতুয়া ইস্যু ততই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। প্রতিশ্রুতি, অভিযোগ এবং পাল্টা অভিযোগের মাঝেই শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নেবেন ভোটাররা—কার ওপর তারা ভরসা রাখবেন।বনগাঁ দক্ষিণের এই জনসভা দেখিয়ে দিল, ভোট যত এগোচ্ছে, মতুয়া ইস্যু ততই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। প্রতিশ্রুতি, অভিযোগ এবং পাল্টা অভিযোগের মাঝেই শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নেবেন ভোটাররা—কার ওপর তারা ভরসা রাখবেন।