Tuesday, April 21, 2026
Latestদেশ

TCS ধর্মান্তরণ কাণ্ড: মিলল না রেহাই, অভিযুক্ত নিদা খানের আগাম জামিনের আবেদন নাকচ আদালতের

কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: নাসিকের টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস (TCS) কেন্দ্রে ধর্মান্তরণ এবং যৌন নির্যাতনের যে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ সামনে এসেছে, তা নিয়ে বর্তমানে তোলপাড় জাতীয় রাজনীতি থেকে কর্পোরেট জগত। এই মামলার অন্যতম মূল অভিযুক্ত নিদা খানের আগাম জামিনের আবেদন সোমবার খারিজ করে দিয়েছে নাসিকের নিম্ন আদালত। গত কয়েকদিন ধরে পলাতক থাকা নিদার খোঁজে মহারাষ্ট্র পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে তল্লাশি চালালেও এখনও তাঁর হদিস পাওয়া যায়নি। এই পরিস্থিতিতে বিচারকের দ্বারস্থ হয়েও কোনো স্বস্তি পেলেন না নিদা। গত শনিবার নিদার আইনজীবী রাহুল কাসলিওয়াল আদালতে আগাম জামিনের আবেদন করে দাবি করেছিলেন যে, নিদা বর্তমানে দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বা এবং তাঁর শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে যেন তাঁকে গ্রেপ্তারি থেকে সুরক্ষা দেওয়া হয়। কিন্তু সোমবার শুনানির শেষে দায়রা আদালতের বিচারক কোনো প্রকার অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশ দিতে অস্বীকার করেন এবং আগামী ২৭ এপ্রিলের মধ্যে এই আবেদনের ভিত্তিতে পুলিশকে বিস্তারিত জবাব দাখিল করার নির্দেশ দিয়েছেন।

এই গোটা ঘটনাটি বর্তমানে ‘কর্পোরেট জেহাদ’ হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে, যা একটি আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন তথ্য-প্রযুক্তি সংস্থার অভ্যন্তরে অত্যন্ত উদ্বেগের পরিবেশ তৈরি করেছে। অভিযোগ উঠেছে, নিদা খান দাপ্তরিকভাবে এইচআর প্রধান পদে না থাকলেও, টেলিকলার হিসেবে যোগ দিয়েও কার্যক্ষেত্রে এইচআর প্রধানের ক্ষমতা ভোগ করতেন। তিনি নিজের পদের অপব্যবহার করে একটি সুসংগঠিত চক্রের হয়ে কাজ করতেন বলে অভিযোগ। সংস্থার অন্তত নয়জন মহিলা কর্মী এফআইআর দায়ের করে জানিয়েছেন যে, তাঁদের ওপর চরম মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়েছে। নিদার বিরুদ্ধে প্রধান অভিযোগ হলো, তিনি হিন্দু নারী কর্মীদের জোর করে অন্য ধর্মে ধর্মান্তরিত করার চেষ্টা করতেন। শুধু তাই নয়, হিন্দু কর্মীদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে আমিষ খাবার খেতে বাধ্য করা এবং নির্দিষ্ট কোনো ধর্মীয় রীতিনীতি পালনের জন্য তাঁদের ওপর প্রবল চাপ সৃষ্টি করার মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল অভিযোগও সামনে এসেছে।

তদন্তে নেমে নাসিক পুলিশ জানতে পেরেছে যে, এই অরাজকতা একদিনে তৈরি হয়নি। গত দুই থেকে তিন বছর ধরে ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সী মহিলা কর্মীদের ওপর ধারাবাহিকভাবে এই নির্যাতন চালানো হয়েছে। মহারাষ্ট্রের মন্ত্রী ও বিজেপি নেতা গিরিশ মহাজন এই প্রসঙ্গে দাবি করেছেন, সংস্থার চার-পাঁচজন মুসলিম কর্মী এবং বেশ কিছু আধিকারিক অত্যন্ত সুকৌশলে এই ফাঁদ পেতেছিলেন। চাকরির ভালো সুযোগ, মোটা অঙ্কের বেতন এবং পদোন্নতির প্রলোভন দেখিয়ে অল্পবয়সী মেয়েদের প্রথমে প্রলুব্ধ করা হতো এবং পরে তাঁদের জোর করে নমাজ পড়া ও রোজা রাখতে বাধ্য করা হতো। অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন, প্রতিবাদ করলে তাঁদের পেশাগত জীবনে চূড়ান্ত হেনস্তার শিকার হতে হতো। ভারতের প্রথম সারির একটি আইটি জায়ান্ট সংস্থার ভেতরে এমন সাম্প্রদায়িক ও অমানবিক আচরণ চলায় সংস্থার অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা এবং কর্মসংস্কৃতি নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠে গিয়েছে।

ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় পুলিশ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে, যাদের মধ্যে টিসিএস-এর ইঞ্জিনিয়ার পদমর্যাদার আধিকারিকও রয়েছেন। ধৃতদের তালিকায় রয়েছেন আসিফ আনসারি, শফি শেখ, শাহরুখ কুরেশি, রাজা মেমন, তৌসিফ আত্তার এবং অশ্বিন চাইনানি। পুলিশ সূত্রে খবর, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করে এই চক্রের শেকড় কতদূর পর্যন্ত বিস্তৃত, তা জানার চেষ্টা করা হচ্ছে। নিদা খান বর্তমানে মুম্বইয়ের কোনো একটি অজ্ঞাত স্থানে লুকিয়ে রয়েছেন বলে পুলিশের ধারণা এবং তাঁকে ধরতে বিভিন্ন এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। আপাতত ২৭ এপ্রিল পুলিশের রিপোর্ট পেশের ওপর নির্ভর করছে নিদার ভবিষ্যৎ। তবে টিসিএস-এর মতো নামী সংস্থার এমন ঘটনায় সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে আইটি কর্মীরাও স্তম্ভিত। এই মামলাটি আগামী দিনে কর্পোরেট জগতের নিরাপত্তা এবং ধর্মান্তরণ বিরোধী আইনের প্রয়োগের ক্ষেত্রে একটি বড় দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে।