Tuesday, May 12, 2026
Latestরাজ্য​

২৩ এপ্রিল ব্যারাকপুর, মথুরাপুরে জনসভা এবং হাওড়ায় রোড শো করবেন মোদী

কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: আগামী ২৩ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এই দিনেই গেরুয়া শিবির এক নতুন ধরনের রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে মাঠে নামছে। রাজ্যের ১৫২টি আসনে ভোট চলাকালীন, একই সময়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ একযোগে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে প্রচারে থাকবেন। এই ধরনের সমান্তরাল প্রচার রাজনৈতিক মহলে তীব্র চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে এবং এটি গেরুয়া শিবিরের কৌশল হিসেবে বেশ নজিরবিহীন।

প্রধানমন্ত্রী মোদী এবং অমিত শাহের প্রচারের পরিকল্পনা এমনভাবে সাজানো হয়েছে যাতে ভোটের দিন সাধারণ মানুষ বুথমুখী হলেও, তাদের এড়িয়ে রাজ্যের অন্যান্য অঞ্চলে একযোগভাবে জনসভা ও রোড শো করে গেরুয়া শিবির ভোটারদের মনোযোগ আকর্ষণ করতে চায়। এই কৌশলের মূল লক্ষ্য হলো, ভোটের বাকি দফাগুলির জন্য আগাম মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব তৈরি করা। ভোটের দিন শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতি এবং তাদের প্রচার কর্মীদের মনোবল বাড়ানোর পাশাপাশি ভোটারের মধ্যে প্রভাব বিস্তার করতে সহায়ক হবে।

এই দিনের কর্মসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী মোদী প্রথমে ব্যারাকপুরে জনসভা করবেন, যেটি দুপুর দেড়টা নাগাদ শুরু হওয়ার কথা। এরপর তিনি দক্ষিণ ২৪ পরগনার মথুরাপুরে দ্বিতীয় জনসভা করবেন, যা বিকেল ৩:১৫ নাগাদ নির্ধারিত। এই দুটি জনসভা শেষে তিনি হাওড়ায় একটি বড় রোড শো করবেন, যা শিল্পাঞ্চল এবং শহরতলির ভোটব্যাঙ্কে প্রভাব বিস্তার করতে সহায়ক হবে।

অন্যদিকে, একই দিনে অমিত শাহ প্রচারে থাকবেন রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে। তাঁর প্রথম জনসভা হবে হুগলি জেলার বলাগড়ে, এবং পরবর্তীতে তিনি আরামবাগের পুরশুড়া এলাকায় দ্বিতীয় জনসভা করবেন। এছাড়া বিকেলে, উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রাম-এ রোড শো করার কথা রয়েছে। এসব কর্মসূচির মাধ্যমে বিজেপি, দলের প্রার্থীদের সমর্থনে প্রচার চালাবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গেরুয়া শিবিরের এই কৌশল কেবল প্রচারের বিষয় নয়, বরং ভোটের বাকি দফাগুলির জন্য একটি বড় মনস্তাত্ত্বিক চাল হিসেবেও কাজ করতে পারে। ভোটের দিনেই শীর্ষ নেতৃত্বকে মাঠে নামিয়ে কর্মীদের মনোবল বাড়ানো এবং ভোটারদের মধ্যে প্রভাব বিস্তার—এ দুটি উদ্দেশ্যই পূরণ করার চেষ্টা করছে গেরুয়া শিবির।

এমনকি, আইনি বিধিনিষেধ থাকা সত্ত্বেও গেরুয়া শিবির এমন সব এলাকা বেছে নিয়েছে, যেখানে ভোটগ্রহণ হবে না, ফলে তারা প্রচারে কোনো বাধার সম্মুখীন হবে না। এর মাধ্যমে তারা ভোটগ্রহণের দিনেও সমান্তরালভাবে প্রচার চালানোর সুযোগ পাচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, গেরুয়া শিবিরের এই কৌশল ভোটবাক্সে কীভাবে প্রতিফলিত হয়, তা আগামী দফাগুলোর ফলাফলে পরিস্কার হয়ে উঠবে। তবে, এটি ঠিক যে, ভোটের প্রথম দফার দিনেই শীর্ষ নেতৃত্বের একযোগ প্রচার কর্মীদের মনোবল এবং ভোটারদের মনোভাবকে প্রভাবিত করতে পারে, যা পরবর্তী দফাগুলোর ভোটের জন্য গেরুয়া শিবিরের অবস্থানকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করবে।

এখন দেখার বিষয় হলো, এই কৌশল ভোটবাক্সে কতটা প্রভাব ফেলে এবং পরবর্তী দফার ভোটে এর প্রতিফলন কতটা দৃশ্যমান হয়।