‘স্বামীর মৃত্যুর বিচার চাই’, প্রথম দফায় ভোট দিয়ে বললেন হরগোবিন্দ দাসের স্ত্রী
কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: প্রথম দফার ভোটের সকালে ভোট দিলেন মুর্শিদাবাদে হিংসার বলি হওয়া হরগোবিন্দ দাসের স্ত্রী পারুল দাস। স্বামী হরগোবিন্দ দাস ও ছেলে চন্দন দাসকে হারানো এক মায়ের কণ্ঠে শোনা গেল দৃঢ় প্রত্যয়, “স্বামীর মৃত্যুর বিচার চাই।”
গত বছরের এপ্রিল মাসে ওয়াকফ আইনকে কেন্দ্র করে রাজ্যের একাধিক জেলায় উত্তেজনা ছড়িয়েছিল। মুর্শিদাবাদ, মালদহ এবং সুন্দরবন অঞ্চলে বিক্ষোভ ও অশান্তির ঘটনা সামনে আসে। সেই প্রেক্ষাপটেই ১২ এপ্রিল সামশেরগঞ্জের জাফরাবাদে ঘটে যায় মর্মান্তিক ঘটনা। অভিযোগ, বিক্ষোভের মাঝে পড়ে গিয়ে প্রাণ হারান স্থানীয় বাসিন্দা হরগোবিন্দ দাস ও তাঁর ছেলে চন্দন দাস। যদিও পরিবারের দাবি, তাঁরা ওই প্রতিবাদের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত ছিলেন না।
এই ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়ায়। দীর্ঘ তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ার পর গত বছরের ২২ ডিসেম্বর আদালত এই মামলায় ১৩ জনকে দোষী সাব্যস্ত করে এবং যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দেয়।
তবে বিচারপ্রক্রিয়া শেষ হলেও ক্ষত শুকোয়নি দাস পরিবারের। চলতি বিধানসভা নির্বাচনের আগে নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে সক্রিয়ভাবে রাজনৈতিক ময়দানে নামার ঘটনাও নজর কেড়েছে।
গেরুয়া শিবিরের হয়ে প্রচারে অংশ নিয়ে তাঁরা দাবি করেছিলেন, প্রথম থেকেই বিজেপি তাঁদের পাশে দাঁড়িয়েছে এবং সবরকম সহযোগিতা করেছে।
এদিন ভোট দিয়ে বেরিয়ে আবারও সেই একই সুর শোনা গেল পরিবারের তরফে। শোককে সঙ্গী করেই ভোটাধিকার প্রয়োগ করলেন তিনি। তাঁর কথায়, “আমরা বিচার পেয়েছি, কিন্তু সম্পূর্ণ ন্যায়বিচার এখনও চাই। যারা আমার পরিবারকে শেষ করে দিয়েছে, তাদের কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত।”
ছবি কৃতজ্ঞতা: সংবাদ প্রতিদিন


