Monday, April 20, 2026
Latestদেশ

TCS-এ যৌন নির্যাতন ও ধর্মান্তকরণের অভিযোগে তোলপাড় গোটা দেশ, নিখোঁজ নিদা খানকে ঘিরে জোরদার তল্লাশি

কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: নাসিকের টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস (TCS)-এর বিপিও শাখায় যৌন হেনস্থা ও ধর্মান্তকরণের চেষ্টার অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্যকর ঘটনায় এবার সামনে এল নতুন মোড়। এই মামলার অন্যতম অভিযুক্ত নিদা খান এখনও পলাতক, আর তাকে খুঁজে পেতে তৎপর পুলিশ। তবে তাঁর স্বামী মইন নভিদ ইকবাল খানের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেও এখনও পর্যন্ত নিদার হদিশ মেলেনি।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৭ এপ্রিল নিদা খানের স্বামী মইনকে জেরা করা হয়। সেই সময় তিনি দাবি করেন, প্রায় এক সপ্তাহ আগে নিদা বাড়ি ছেড়ে অন্য এক আত্মীয়ের বাড়িতে চলে গিয়েছেন। এমনকি সেই আত্মীয়ের ঠিকানাও পুলিশের হাতে তুলে দেন তিনি। কিন্তু পুলিশ সেখানে গিয়ে দেখে বাড়ির দরজায় তালা ঝুলছে এবং ওই আত্মীয়ের ফোনও বন্ধ। ফলে প্রথম থেকেই সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়।

এরপর আবারও মইনকে জেরা করে পুলিশ। তখন তিনি নতুন করে জানান, তাঁর এক আত্মীয়া নুরি শেখ নাকি নিদাকে নাসিকে নিয়ে গিয়েছেন। তবে বর্তমানে নিদা ঠিক কোথায় রয়েছে, সে বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না বলে দাবি করেন। স্বামীর এই পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে তদন্তে নতুন প্রশ্ন উঠছে।

উল্লেখযোগ্যভাবে, নিদা খান এই মামলার মূল অভিযুক্ত দানিশ খানের বোন। দানিশের বিরুদ্ধে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাস, যৌন হেনস্থা ও প্রতারণার মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। একইসঙ্গে অভিযোগ রয়েছে, দানিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা এক মহিলা কর্মীকে গালিগালাজ করেছিলেন নিদা এবং তাঁর ওপর ধর্মান্তকরণের জন্য চাপ সৃষ্টি করেছিলেন।

এদিকে টিসিএস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অভিযুক্ত নিদা খানকে ৯ এপ্রিল সাসপেন্ড করা হয়েছে। সংস্থার দাবি, নিদা একজন প্রোসেস অ্যাসোসিয়েট হিসেবে কাজ করতেন এবং তিনি কোনওভাবেই ম্যানেজার পদে ছিলেন না বা নিয়োগ প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না।

অন্যদিকে, নিদার পরিবারের দাবি, তিনি সন্তানসম্ভবা। এই যুক্তিতেই নাসিকের একটি আদালতে আগাম জামিনের আবেদন করেছেন তিনি। তবে এখনও পর্যন্ত পুলিশ তাঁর খোঁজ পায়নি।

তদন্তে আরও উঠে এসেছে, প্রাথমিকভাবে নিদা খান টেলিকলার হিসেবে সংস্থায় যোগ দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে, তিনি একটি সংগঠিত চক্রের সঙ্গে যুক্ত থেকে তথাকথিত ‘কর্পোরেট জিহাদ’-এর সঙ্গে জড়িত ছিলেন। অভিযোগ, সংস্থার মহিলা কর্মীদের লক্ষ্য করে তাঁদের মানসিকভাবে প্রভাবিত করা, জোর করে ধর্মান্তকরণের চেষ্টা করা এবং নির্দিষ্ট ধর্মীয় রীতিনীতি মানতে বাধ্য করার মতো কাজ করা হত। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে হিন্দু কর্মীদের জোর করে আমিষ খাবার খাওয়ানো এবং ব্যক্তিগত জীবনে হস্তক্ষেপ করার অভিযোগও উঠেছে।

এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই সাতজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃতদের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানি, যৌন হেনস্থা ও ধর্মান্তকরণের চেষ্টার মতো একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগকারীদের মধ্যে ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সি একাধিক মহিলা কর্মী রয়েছেন, যারা এফআইআর দায়ের করেছেন।

তাঁদের অভিযোগ, গত দুই থেকে তিন বছর ধরে তাঁদের উপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চলেছে। প্রথমে বন্ধুত্ব ও সহানুভূতির মাধ্যমে ব্যক্তিগত তথ্য জেনে নেওয়া হত, তারপর সেই তথ্যকে হাতিয়ার করে ব্ল্যাকমেল, ভয় দেখানো বা প্রেমের ফাঁদে ফেলে তাঁদের উপর অত্যাচার চালানো হত। এমনকি দিনের পর দিন যৌন নির্যাতনের পাশাপাশি তাঁদের ধর্মীয় অনুভূতিতেও আঘাত করা হয়েছে বলে অভিযোগ।

সব মিলিয়ে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা দেশে। নিদা খানের খোঁজে তল্লাশি জারি রেখেছে পুলিশ। তদন্তকারীদের মতে, এই মামলার আরও গভীরে পৌঁছাতে গেলে নিদাকে খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত জরুরি।