হুমায়ূনের AJUP ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিলেন কুলটি বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থী তাহির খান-তার প্রায় ৫০ জন সমর্থক
কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এর প্রাক্কালে পশ্চিম বর্ধমান জেলার আসানসোল-কুলটি অঞ্চলের রাজনৈতিক অঙ্কে বড়সড় দলবদল। কুলটি বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থী তাহির খান (Tahir Khan) তাঁর প্রায় ৫০ জন ঘনিষ্ঠ সমর্থককে সঙ্গে নিয়ে উদীয়মান রাজনৈতিক দল আম জনতা উন্নয়ন পার্টি (AJUP) ছেড়ে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন। শনিবার এই দলবদলকে ঘিরে এলাকায় রাজনৈতিক চাঞ্চল্য তুঙ্গে ওঠে এবং বিভিন্ন মহলে তাৎপর্যপূর্ণ আলোচনা শুরু হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কুলটি অঞ্চলে তাহির খান একজন পরিচিত এবং প্রভাবশালী মুখ। স্থানীয় স্তরে তাঁর একটি নির্দিষ্ট সমর্থকগোষ্ঠী রয়েছে, যা এতদিন AJUP-এর শক্তি হিসেবে কাজ করছিল। ফলে তাঁর এই দলবদল শুধুমাত্র ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়, বরং পুরো নির্বাচনী সমীকরণকেই প্রভাবিত করতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর ফলে তৃণমূল কংগ্রেসের সাংগঠনিক ভিত আরও মজবুত হতে পারে এবং কুলটি কেন্দ্রে তাদের অবস্থান আগের তুলনায় অনেকটাই শক্তিশালী হয়ে উঠবে।
নিজের সিদ্ধান্তের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তাহির খান বলেন, “AJUP থেকে প্রার্থী হওয়ার সিদ্ধান্তটা কিছুটা তাড়াহুড়ো করে নেওয়া হয়েছিল। পরে বুঝতে পারি, সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করতে গেলে বড় প্ল্যাটফর্ম প্রয়োজন। সেই কারণেই নিজের ভুল বুঝতে পেরে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।” তিনি আরও জানান, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং রাজ্যের মন্ত্রী মলয় ঘটকের নেতৃত্বে উন্নয়নমূলক কাজের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করতে চান তিনি।
এই দলবদলের ফলে তৃণমূল শিবিরে স্বাভাবিকভাবেই উচ্ছ্বাসের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় নেতাকর্মীরা মনে করছেন, তাহির খানের যোগদান দলকে আরও শক্তিশালী করবে এবং আসন্ন নির্বাচনে ইতিবাচক ফল আনতে সাহায্য করবে। অন্যদিকে, AJUP শিবিরে এই ঘটনায় চাপা অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ভোটের ঠিক আগে একজন প্রার্থীর দলত্যাগ সংগঠনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই AJUP-এর শীর্ষ নেতৃত্ব, বিশেষ করে দলের প্রধান হুমায়ূন কবীরের কৌশল ও নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। দলটি সম্প্রতি রাজ্যে নিজেদের বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছিল। কিন্তু এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে একজন প্রার্থীর দলত্যাগ তাদের সেই প্রচেষ্টাকে ধাক্কা দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত AJUP-এর তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, কুলটি বিধানসভা কেন্দ্র দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত স্পর্শকাতর এলাকা হিসেবে পরিচিত। এখানে তৃণমূল কংগ্রেস, বিজেপি এবং অন্যান্য আঞ্চলিক দলের মধ্যে ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা প্রায় সবসময়ই থাকে। ফলে সামান্য রাজনৈতিক পরিবর্তনও এখানে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। এই প্রেক্ষাপটে তাহির খানের দলবদলকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবেই দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ এই ঘটনাকে খুব একটা অস্বাভাবিক বলে মনে করছেন না। তাঁদের মতে, ভোটের আগে দলবদল এখন প্রায় নিয়মিত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা একটাই—যে দলই ক্ষমতায় আসুক না কেন, তারা যেন এলাকার সার্বিক উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং পরিকাঠামো উন্নয়নের দিকে আরও বেশি গুরুত্ব দেয়।
নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার লড়াই তীব্র হয়ে উঠছে। কুলটির মতো গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে এই ধরনের দলবদল আগামী দিনে আরও বড় রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি করতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।


