Tuesday, April 23, 2024
জীবনযাপন

শরীর ও মনকে ফিট রাখার ১০ উপায়

শারীরিক এবং মানসিকভাবে সুস্থ একজন মানুষকেই ফিট বলা যায়। সেজন্য স্বাস্থ্যকর খাবার, ব্যায়াম ও মনের খোরাকের দিকেই নজর দিতে হয়। নিজেকে ফিট রাখতে যা করবেন জেনে নিন।

১.মস্তিষ্ক থেকেই শুরু

মানুষের মস্তিষ্কই যদি সুস্থ না থাকে, তাহলে আর সুস্থ থাকার মূল্য কোথায়? সেজন্য নিয়মিত আখরোট খান। এতে অনেক বেশি ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড রয়েছে, যা মস্তিষ্ককে রোগ থেকে রক্ষা করে। আর টমেটো, গ্রিন টি-তে থাকা অ্যান্টি অক্সিডেন্ট মস্তিষ্কের কোষগুলোকে রক্ষা করে স্মৃতিশক্তি বাড়াতেও সাহায্য করে। সামুদ্রিক মাছ আলজইমার রোগের হাত থেকে মস্তিষ্ককে দূরে রাখে।

২. হৃৎপিণ্ড বা হার্ট

যুক্তরাষ্ট্রের মাউন্ট সিনাই হাসপাতালের হৃদরোগ বিশেষেজ্ঞ ডা. বেথ অলিভার বলেন, ‘‘প্রতিদিন, প্রতিবেলায় বিভিন্ন রংয়ের ফল ও সবজি এবং যথেষ্ট পরিমাণে আঁশযুক্ত খাবার, পানি, আপেল ও আখরোট, সূর্যমুখী ফুলের বিচি, ডাল এবং ডিমের হলুদ অংশ খান৷ এসবই হৃৎপিণ্ডের জন্য খুবই উপকারী।’’

৩. কিডনি ঠিক রাখতে

খেলাধুলা, হাঁটাচলা, ব্যায়াম উচ্চ রক্তচাপ কমিয়ে ডায়াবেটিস রোধ করে। কারণ ডায়াবেটিস থেকেই কিডনির নানা সমস্যা দেখা দেয়। ফলমূল, শাকসবজি, ফাইবার ইত্যাদি খেয়ে ওজন ঠিক রাখা প্রয়োজন। লবণ যতটা সম্ভব কম খাওয়া উচিত, কারণ অতিরিক্ত লবণ কিডনির ক্ষতি করে। কিডনি পরিষ্কার রাখতে দিনে দেড় থেকে দু’লিটার জল পান করা প্রয়োজন। খাবারের শুরুতে এক থেকে দুই গ্লাস জল পান করুন। খাবার শেষে অন্তত এক থেকে দুই ঘন্টা পর জল পান করবেন।

৪. হাড়ের যত্ন

হাড় শক্ত রাখতে নিয়মিত শরীর চর্চা বা বিশেষ ধরনের ব্যায়াম বড় ভূমিকা পালন করতে পারে। হাড় নরম বা ভেঙে যাওয়ার জন্য শুধু বয়স বাড়াই একমাত্র কারণ নয়। থাইরয়েড, পেটের ক্রনিক সমস্যা বা পাকস্থলির অসুখের কারণেও হাড় নরম বা ক্ষয় হতে পারে। আর পুষ্টিগুণ সম্পন্ন খাবার না খাওয়া ও অতিরিক্ত ধূমপান ও নানা ধরনের ওষুধপত্র সেবন হাড়কে নরম করতে পারে।

৫. পেট বা অন্ত্র ঠিক রাখুন

মানুষের শরীরের সবচেয়ে বড় অঙ্গ অন্ত্র বা পেট যা লম্বায় প্রায় ৮ মিটার। শরীরের গ্রহণ করা খাবারগুলো সহজপাচ্য বস্তুতে পরিণত করে অন্ত্র। সেখানে সমস্যা দেখা দিলে সবই ওলট-পালট মনে হয়। সেকথা মনে হয় কমবেশি সকলেই জানি। তাই শরীরকে ফিট রাখতে হলে অবশ্যই পেট ঠিক রাখতে হবে। তাই হাঁটাচলা, শষ্যদানা, বিচি, সাদা দই, শাকসবজি, ফলমূল ও সুষম খাবার গ্রহণ খুবই দরকার।

৬. অতিরিক্ত রোদ নয়

তারুণ্য ধরে রাখতে অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের জুড়ি নেই৷ ফাস্ট ফুড, স্ট্রেস, অতিরিক্ত টেনশন, ধূমপান, মদ্যপান ইত্যাদি ত্বক নষ্ট করে৷ সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি ত্বকে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই রোদ থেকে দূরে থাকা উচিত৷ শরীর ও মন ভালো এবং ফিট রাখার জন্য শরীরের ভেতরের মতো শরীরের ত্বকের স্বাস্থ্যও ভালো থাকা প্রয়োজন।

৭. হেঁটে পায়ের যত্ন

আমাদের শরীরের সমস্ত ভার বহন করে আমাদের পা দুটো। তাই পায়ের স্বাস্থ্য খুব জরুরি। পায়ের মাংসপেশি শক্ত করতে ও ফিট থাকতে হাঁটাহাঁটির কোনো বিকল্প নেই। হাঁটা যে-কোনো মানুষকে ফিট রাখতে বড় ভূমিকা পালন করে।

৮. ব্যায়াম

শরীরচর্চা বা ব্যায়াম ছাড়া শারীরিকভাবে সুন্দর হওয়া সম্ভব নয়। তাছাড়াও শারীরিক এবং মানসিকভাবে ফিট থাকার জন্য বছরে অন্তত একবার ‘মেডিকেল চেকআপ’ করিয়ে নেওয়াও অত্যন্ত দরকারি।

৯. অভ্যাস

রাতে তাড়াতাড়ি খাওয়া উচিত। খাওয়ার এক থেকে দুই ঘন্টা পর শোওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। সুস্বাস্থ্য ও ফিগারের জন্য নিয়মিত ও পরিমিত ঘুম প্রয়োজন। দিনে শোওয়ার অভ্যাস ত্যাগ করে রাতে তাড়াতাড়ি ঘুমের অভ্যাস গড়ে তুলুন। ভোরে ঘুম থেকে উঠার অভ্যাস গড়ে তুলুন। সকালে স্কুল, কলেজ বা অফিসে যাওয়ার আগে স্নান করে নিন। বেশি উঁচু তলায় উঠার দরকার না হলে, লিফটের পরিবর্তে সিঁড়ি ব্যাবহার করুন। প্রতিদিন ছয় থেকে সাত ঘন্টা ঘুমের অভ্যাস গড়ুন।

১০. যৌনজীবন

একজন প্রাপ্তবয়স্ক নারী বা পুরুষের সুস্থ সুখী জীবনের জন্য খাওয়া-দাওয়া আর ব্যায়ামের মতো প্রয়োজন সুস্থ যৌনজীবন। যৌনজীবনকে সুখকর করতে বিভিন্ন বীজ, তরমুজ, বেদানা, ডুমুর, ডিম ইত্যাদি খাবার বিশেষ ভূমিকা রাখে বলে বিভিন্ন সমীক্ষার ফলাফল থেকে জানা গেছে। তাছাড়া অ্যামেরিকার টেক্সাসের এ অ্যান্ড এম ইউনিভার্সিটির মতে, তরমুজ শরীরে যৌন উদ্দীপনা বৃদ্ধি করে। সূত্র: ডিডাব্লিউ