বাংলাতেও মাফিয়ারাজ শেষ করতে হলে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে, প্রয়োজনে বুলডোজার চালাতে হবে: যোগী আদিত্যনাথ
কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে পশ্চিম বর্ধমান জেলার রাজনৈতিক পারদ ক্রমশ চড়ছে। এই আবহেই বৃহস্পতিবার বারাবনি বিধানসভার সালানপুর ব্লকের আছাড়া স্কুল ময়দানে বিজেপির ‘বিজয় সংকল্প সভা’ থেকে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ করলেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ (Yogi Adityanath)। তাঁর বক্তব্যে উঠে এল ‘বুলডোজার মডেল’, ‘ডবল ইঞ্জিন সরকার’ এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া বার্তা।
সভা থেকে যোগী আদিত্যনাথ দাবি করেন, উত্তরপ্রদেশে ডবল ইঞ্জিন সরকার ক্ষমতায় আসার পর আইনশৃঙ্খলার উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। তাঁর কথায়, “৯ বছর আগে উত্তরপ্রদেশে দাঙ্গা, অপরাধ ও মাফিয়ারাজ ছিল নিত্যদিনের ঘটনা। কিন্তু আমরা কঠোর পদক্ষেপ নিয়ে সেই পরিস্থিতির বদল ঘটিয়েছি। মাফিয়াদের বিরুদ্ধে বুলডোজার চালানো হয়েছে। এখন সেখানে দাঙ্গা করার সাহস কেউ পায় না।” একইসঙ্গে তিনি বাংলার পরিস্থিতির সঙ্গে তার তুলনা টেনে বলেন, “বাংলাতেও মাফিয়ারাজ শেষ করতে হলে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে, প্রয়োজনে বুলডোজার চালাতে হবে।”
এদিন বিজেপি প্রার্থী অরিজিৎ রায়ের সমর্থনে প্রচারে এসে যোগী ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকারের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। তাঁর দাবি, রাজ্যে যদি কেন্দ্র ও রাজ্যে একই দলের সরকার থাকে, তাহলে উন্নয়ন দ্রুত গতিতে এগোবে এবং সাধারণ মানুষ সরাসরি তার সুবিধা পাবে।
তৃণমূলের বিরুদ্ধে ‘কাটমানি’ ইস্যু তুলে ধরে যোগী বলেন, “দিল্লি থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের জন্য টাকা পাঠানো হয়। কিন্তু সেই টাকা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছায় না, কারণ মাঝপথে তৃণমূল নেতাদের ‘কাটমানি’ সংস্কৃতি সেটাকে আটকে দেয়।” এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
সভা থেকে আরও অভিযোগ করে তিনি বলেন, তাঁর জনসভা বানচাল করার জন্য আগের রাত থেকেই তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা এলাকায় অশান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করেছে এবং বিজেপির পতাকা খুলে দিয়েছে। যদিও এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে তৃণমূল নেতৃত্ব এবং উল্টে বিজেপির বিরুদ্ধেই উসকানিমূলক রাজনীতির অভিযোগ তুলেছে।
কয়লা, বালি ও মাটি মাফিয়াদের প্রসঙ্গ টেনে যোগী আদিত্যনাথ বলেন, “গত ১৫ বছরে বাংলাকে দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত করা হয়েছে। বিভিন্ন মাফিয়া চক্র রাজ্যের সম্পদ লুট করছে। এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে হলে পরিবর্তন জরুরি।” পাশাপাশি তিনি বাংলার অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁর মতে, স্বাধীনতার পর একসময় শিল্প ও কৃষিতে দেশের অগ্রণী ভূমিকা পালন করত বাংলা, কিন্তু কংগ্রেস, বামফ্রন্ট এবং বর্তমান তৃণমূল সরকারের আমলে সেই অবস্থার অবনতি হয়েছে।
বিজেপি প্রার্থী অরিজিৎ রায়ের পক্ষে ভোট চেয়ে যোগী বলেন, “আপনারা বিজেপিকে জিতিয়ে দিন, বাংলায় ডবল ইঞ্জিন সরকার গড়ে তুলুন। তাহলেই মাফিয়া ও গুন্ডাদের হাত থেকে মুক্তি পাবে রাজ্য এবং প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব হবে।”
এই সভার মাধ্যমে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে বিজেপি যে, আসন্ন নির্বাচনে উত্তরপ্রদেশের ‘আইনশৃঙ্খলা মডেল’ এবং কেন্দ্রীয় সরকারের উন্নয়নমূলক প্রকল্পকেই প্রধান ইস্যু করে বাংলার ভোটারদের কাছে পৌঁছাতে চাইছে তারা। অন্যদিকে তৃণমূলও পাল্টা প্রচারে নেমে বিজেপির এই দাবিগুলিকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে আক্রমণ করছে। ফলে নির্বাচন যত এগোচ্ছে, ততই তীব্র হচ্ছে রাজ্যের রাজনৈতিক লড়াই।


