Thursday, July 30, 2026
Latestআন্তর্জাতিক

পাক অধিকৃত কাশ্মীরে সেনার গুলিতে নিহত অন্তত ৪০ জন, গণআন্দোলনকারীদের ‘ভারতের মতো শত্রু’ বললেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফ

কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরে (পিওকে) চলমান বিক্ষোভ ও সহিংসতার আবহে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিলেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফ। বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে তার মন্তব্য ঘিরে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, “আমি বিক্ষোভকারীদের ভারত যে শ্রেণিতে পড়ে, সেই একই শ্রেণিতে রাখি এবং তাদেরও ভারতের মতো শত্রু বলে মনে করি।”

দীর্ঘদিন ধরে অর্থনৈতিক সংকট, প্রশাসনিক বঞ্চনা এবং নাগরিক অধিকারের দাবিতে পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরের বিভিন্ন এলাকায় আন্দোলন চলছে। গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত থাকলেও, সাম্প্রতিক নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে সেই অস্থিরতা আরও বেড়ে যায়।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, গত ২ দিনে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী বিক্ষোভ দমনে নির্বিচারে গুলি চালায়। এতে অন্তত ৪০ জন নিহত হন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ৩৪ জন বিক্ষোভকারী এবং ৬ জন পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য রয়েছেন। এছাড়া ২০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। তবে এই হতাহতের সংখ্যা পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।

সোমবার পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরের তথাকথিত আইনসভার প্রথম দফার নির্বাচনের পর থেকেই উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। স্থানীয়দের একাংশ ভোটে কারচুপির অভিযোগ তোলেন। এর প্রতিবাদে মঙ্গলবার রাওয়ালকোট থেকে মুজাফফরাবাদের উদ্দেশে মিছিল করে নাগরিক সংগঠন জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি (JAAC)। সংগঠনের দাবি, প্রায় ৫,০০০ মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে ওই মিছিলে অংশ নিয়েছিলেন। অভিযোগ, মিছিল চলাকালীন নিরাপত্তা বাহিনী গুলি চালালে বহু নিরীহ মানুষ হতাহত হন।

এই ঘটনার পরই খোয়াজা আসিফের মন্তব্য প্রকাশ্যে আসে, যা আরও বিতর্ক উসকে দিয়েছে। সমালোচকদের মতে, আন্দোলনরত সাধারণ নাগরিকদের ‘শত্রু’ হিসেবে অভিহিত করা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

বুধবার মিরপুরসহ একাধিক এলাকায় দোকানপাট ও বাজার বন্ধ ছিল। নির্বাচনের ফল অনুযায়ী, তথাকথিত আইনসভার ১৩টি আসনের মধ্যে পাকিস্তান মুসলিম লীগ (N) (পিএমএল-এন) ৯টি আসনে জয়ী হয়েছে। বাকি ৩২টি আসনের জন্য দ্বিতীয় ও তৃতীয় দফার ভোট যথাক্রমে ২ ও ১০ আগস্ট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

পাক অধিকৃত কাশ্মীরে নির্বাচনে মূল লড়াই হচ্ছে পিএমএল-এন এবং Pakistan Peoples Party-র মধ্যে। অন্যদিকে, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল Pakistan Tehreek-e-Insaf (পিটিআই) নির্বাচন বর্জন করেছে।