Thursday, July 30, 2026
Latestআন্তর্জাতিক

David Emon: বাংলাদেশের কুখ্যাত সন্ত্রাসী ডেভিড ইমনের কাছ থেকে উদ্ধার ভুয়া আধার কার্ড

কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: বাংলাদেশের আলোচিত সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ওরফে ডেভিড ইমনের কাছ থেকে ভারতের ডেমো আধার কার্ড উদ্ধার করেছে চট্টগ্রাম জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। কার্ডটিতে তার নাম ‘আজহার খান’।

বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি) মো. রাসেল বিষয়টি নিশ্চিত করেন। পুলিশ জানায়, উদ্ধার হওয়া আধার কার্ডে জন্মতারিখ হিসেবে ১৯৯৮ সালের ১২ মে উল্লেখ রয়েছে। 

ডেভিড বিদেশি সিম ও মুঠোফোনের বিশেষ অ্যাপ ব্যবহার করতেন। সীমান্ত পেরিয়ে অবৈধভাবে ভারতে পালিয়ে আসার পরিকল্পনা ছিল ডেভিড ইমনের। এপারে তার জন্য লোকজন অপেক্ষায় ছিল। এপারে ভারতীয় সেজে ঘুরে বেড়ানোর জন্য আধার কার্ড সঙ্গে রেখেছিলেন। তবে সীমান্তে পৌঁছানোর আগেই বাংলাদেশ পুলিশ গ্রেফতার করে সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন ও তার তিন সহযোগীকে।

দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের একটি যাচাইকরণে দেখা গেছে যে – 123456789012 – কার্ডে মুদ্রিত 12-সংখ্যার আধার নম্বরটি একটি বহুল ব্যবহৃত ডেমো নম্বর যা কোনও প্রকৃত ভারতীয় নাগরিকের অন্তর্গত নয়।

দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড খুঁজে পেয়েছে যে বাংলাদেশ পুলিশ দ্বারা প্রদর্শিত আধার কার্ডটি প্রকৃত ভারতীয় পরিচয় নথি নয় বরং একটি ডেমো কার্ডের এডিট করা ছিল।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৩ জুন পাহাড়তলী এলাকায় সংঘটিত মাকসুদুল হক চৌধুরী হত্যা মামলার তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজ, প্রযুক্তিগত তথ্য এবং গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে কয়েকজন সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করা হয়। পরে ২২ জুলাই মামলার এজাহারভুক্ত আসামি মিঠু ওরফে ধামা ইলিয়াছকে গ্রেফতার করে দুই দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়।

রিমান্ডে ধামা ইলিয়াছ সন্ত্রাসী চক্র, অস্ত্রের মজুত এবং সহযোগীদের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন বলে দাবি পুলিশের। তদন্তে তার বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র ও চাঁদাবাজিসহ মোট ২১টি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে।

ওই তথ্যের ভিত্তিতে ২৯ জুলাই যশোরের কোতোয়ালি থানার ঝুমঝুমপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে মোবারক হোসেন ওরফে ডেভিড ইমন, আল ইসলাম আলিফ ওরফে তমাল, মো. শামীম এবং মো. সাফায়েত হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়।

চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম জানান, প্রাথমিক তদন্তে ডেভিড ইমন দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রাম মহানগর, ফটিকছড়ি ও রাঙ্গুনিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিলেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে। তার বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ (সিএমপি) ও চট্টগ্রাম জেলার বিভিন্ন থানায় হত্যা, অস্ত্র ও চাঁদাবাজিসহ ১৫টি মামলা রয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রাম মহানগর, রাউজান ও রাঙ্গুনিয়ার একাধিক হত্যাকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততার তথ্যও তদন্তে উঠে এসেছে বলে দাবি পুলিশের।

এদিকে গ্রেফতার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার ভোরে ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর ইউনিয়নের মানিকপুর গ্রামের একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ। অভিযানে একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি দেশীয় এলজি এবং আরও কয়েকটি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া ডেমো আধার কার্ডের সত্যতা, এর উৎস এবং এটি কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি গ্রেপ্তারদের জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।