Saturday, June 15, 2024
দেশ

মানবিকতার অনন্য নিদর্শন, পাখির বাসা বাঁচাতে টানা ৩৫ দিন অন্ধকারে পুরো গ্রাম

‎চেন্নাই: স্বার্থপরতা, হিংস্রতা, লুব্ধতা, দুর্বলকে পীড়ন, মারামারি-হানাহানিতে ক্রমশ ভরে উঠেছে পৃথিবী। নিজেকে নিয়েই ব্যস্ত সকলে। পীড়িত-অসহায়কে দেখার সুযোগ নেই মানুষের। নৃশংসতা নিত্যসঙ্গী হয়ে উঠেছে ক্রমশ। সেই সাথে রয়েছে ক্ষমতা এবং অর্থের লালসা। এতসব বীভৎসতার মাঝে এবার এক মানবিক ছবি দেখা গেল তামিলনাড়ুতে। কমিউনিটি সুইচ বোর্ডের উপর বাসা বাধে একটি বুলবুলি পাখি ও তার শাবকদের বাঁচাতে টানা ৩৫ দিন অন্ধকারে ডুবে রইল পুরো গ্রাম।

ঘটনাটি ঘটেছে তামিলনাড়ুর শিবগঙ্গা জেলার এক অচিন গ্রাম মাধুরীতে। ওই গ্রামবাসীর এহেন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছে গোটা দেশ। জানা যায়, গ্রামের কমিউনিটি সুইচবোর্ডের ভিতর বাসা বেঁধেছিল একটি বুলবুলি পাখি। সেই বাসায় আবার ডিম পেড়েছিল পাখিটি। এক কলেজ ছাত্র সবার আগে সেটি দেখতে পান। ছবি তুলে সেটি গ্রামবাসীর হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপে পাঠায় সে। আলো জ্বালালে ল্যাম্পপোস্টের তীব্র আলোয় নষ্ট হয়ে যাবে ডিমগুলি। তাই পাখিটির সন্তান-সন্ততির কথা ভেবে গোটা গ্রাম অন্ধকার রাখা হয়। তবে এক-দুদিন নয়। টানা ৩৫ দিন রোড লাইট না জ্বালিয়ে অন্ধকারে থাকেন ওই গ্রামের মানুষ।

ছোট্ট কতগুলি প্রাণকে বাঁচাতে এই কষ্টটুকু হাসিমুখে সহ্য করে নেন গ্রামবাসীরা। জানা যায়, গ্রামবাসীরা সর্বসম্মতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, পাখির ডিম থেকে ছানা ফুটে বের না হওয়া পর্যন্ত ওই গ্রামের রোড লাইট জ্বালানো হবে না। পাখিটির বাসা ও ডিম থেকে ছানা ফোটা অবধি টানা ৩৫ দিন গ্রামবাসীরা রাস্তার আলো জ্বালাননি। এই ভরা বর্ষায় গোটা গ্রামের লোকজন অন্ধকার রাস্তা দিয়েই চলাচল করেছেন।

ওই গ্রামের এক কলেজ পড়ুয়া যুবক জানিয়েছেন, গ্রামে মোট ৩৫টি স্ট্রিটলাইট রয়েছে। কিন্তু তাঁরা ওই পাখির ডিম থেকে ছানা ফুটে বের না হওয়া পর্যন্ত গত ৩৫দিন একটিও স্ট্রিটলাইট জ্বালাননি। কারণ সব সুইচ ওই কমিউনিটি সুইচবোর্ডে। তাঁরা হাসিমুখে কষ্ট সহ্য করে মোবাইলের ফ্লাশ লাইট, টর্চ লাইট ব্যবহার করে এই ৩৫ দিন রাস্তায় যাতায়াত করেন।

তবে বিষয়টি একেবারেই সহজ ছিলো না। কেননা ওই গ্রামে মোট ১০০ পরিবার আছে। প্রথম দিকে কেউ কেউ সামান্য একটা পাখির বাসার জন্য এতদিন অন্ধকারে চলাচল করতে রাজি হচ্ছিলেন না। কিন্তু গ্রামের যুবক-যুবতীরা তাদের অনুরোধ করেন, বোঝান। তারপরে গ্রামবাসীরা সর্বসম্মতভাবে সিদ্ধান্ত নেয়, পাখির ডিম থেকে ছানা ফুটে বের না হওয়া পর্যন্ত ওই গ্রামে রোড লাইট জ্বালানো হবে না।