Friday, June 14, 2024
রাজ্য​

শোভন কি তবে বিজেপিতে? কী বলছেন দিলীপ-মুকুল

কলকাতা: মন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পর শোভন চট্টোপাধ্যায়কে ঘিরে চলছে ব্যাপক আলোচনা। জল্পনা চলছে, এবার কি তিনি তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই জানিয়েছেন, মঙ্গলবারই তার হাতে থাকা রাজ্যের দুটি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর থেকে পদত্যাগ করেছেন শোভন চট্টোপাধ্যায়। এছাড়া কলকাতার মেয়রের পদ থেকেও শোভনকে সরে যেতে হতে পারে বলে শোনা যাচ্ছে।

তবে কলকাতার মেয়র এবং সদ্য সাবেক-হওয়া আবাসন ও দমকল মন্ত্রী শোভন চট্টোপাধ্যায় কি এবার বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন? এই প্রশ্নের উত্তরে বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেছেন, সেটা আমি জানি না। আপনারা কথাবার্তা বলে দেখুন। আমাদের দরজা খোলা আছে। আর আমরা দরজা আরও বাড়াচ্ছি। যাতে আরও বেশি লোক আসতে পারে। কিন্তু একটা জাল লাগিয়ে দেব। যাতে যে কেউ ঢুকতে না পারে। তবে শোভনবাবু এখনও বিজেপির সঙ্গে কোনও যোগাযোগ করেনি বলে দাবি করেন দিলীপবাবু।

বুধবার এ প্রসঙ্গে বিজেপি নেতা মুকুলবাবু বলেন, শোভনের সামনে আর কিইবা পথ রয়েছে। তবে বিজেপির সঙ্গে ওর কোনও আলোচনা হয়েছে বলে জানি না! মুকুলবাবু বলেন, তবে পরে যাই হোক, শোভনের সঙ্গে সুবিচার হল না। ২০০৪ সাল লোকসভায় কেবল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জিতেছিলেন। তার পর থেকে প্রতিটা ভোটে তৃণমূল যে একটু একটু করে ক্ষমতা বাড়িয়ে বাংলার শাসন ক্ষমতায় এসেছে তার পিছনে অনেকের অবদান ছিল। শোভন তাঁদের মধ্যে অন্যতম। এটার অস্বীকার করার উপায় নেই।

শোভন চট্টোপাধ্যায় ও রত্না চট্টোপাধ্যায়র

তবে শোভনের তারিফ করলেও এদিন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে খোঁচা দিতে ছাড়েননি মুকুলবাবু। তিনি বলেন, শোভনের সঙ্গে বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পর্ক নিয়ে এতো কথা হচ্ছে। কিন্তু শোভনের ইস্তফার জন্য সেটাই একমাত্র কারণ হতে পারে না। শোভন ব্যক্তিগত জীবনে কেমন তা তো মমতা অনেক আগে থেকেই জানতেন। এবং সব জেনেশুনেই তো শোভনেকে মেয়র ও মন্ত্রী করেছিলেন। মুকুলের কথায়, আসলে তৃণমূলে মুসল পর্ব শুরু হয়ে গিয়েছে। পরিবারতন্ত্র এ ভাবেই শেষ হয়।

শোভন চট্টোপাধ্যায় ও বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়

শোভন চট্টোপাধ্যায় বুধবার দেওয়া সাক্ষাতকারে বলেছেন, বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম এখানে টেনে আনা অনুচিত, তিনি ঘনিষ্ঠ বন্ধু, বিপদের সময়ে পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন। ওই অধ্যাপিকা বৈশাখীকে নিয়ে অবশ্য বিশেষ রাখঢাক করেননি শোভনবাবু।

অন্যদিকে বছর দেড়েক ধরে স্ত্রী রত্না চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপড়েন শুরু হয় শোভনবাবুর। তারপরে বিষয়টা গড়ায় বিবাহবিচ্ছেদের মামলায়। তখনই বেহালা অঞ্চলের বাড়ি ছেড়ে দক্ষিণ কলকাতার এক অভিজাত এলাকায় বিলাসবহুল ফ্ল্যাটে চলে আসেন তিনি। ঘনিষ্ঠ বান্ধবী বৈশাখীর সঙ্গেই সেই ফ্ল্যাটে থাকছেন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়।