Saturday, June 15, 2024
Latestরাজ্য​

স্কুলে সরস্বতী পুজোর দাবি তোলায় মার খেতে হল বসিরহাটের সরকারি স্কুলের পড়ুয়াদের

বসিরহাট: স্কুলে ২০০৯ সালের পর আর সরস্বতী পুজো হয়নি। তাই ফের স্কুলে সরস্বতী পুজোর দাবি তুলেছিলেন পড়ুয়ারা। তবে সেই দাবি জানানোর জন্যই তাদের মার খেতে হল। এমনই ঘটনার সাক্ষী থাকল খোদ পশ্চিমবঙ্গ। উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাটে শুক্রবার স্থানীয়দের হাতে মার খেলেন পড়ুয়ারা। ঘটনায় ৫জন পড়ুয়া আহত।

জানা গিয়েছে, ফের স্কুলে সরস্বতী পুজো করা হোক, এই দাবিতে রাস্তা অবরোধ করেছিলেন চৌহাটা আদর্শ বিদ্যাপীঠের পড়ুয়ারা। তবে তাদের চড়াও হন স্থানীয়রা। ঘটনায় পাঁচজন পড়ুয়া আহত। আক্রমণ করা হয় সেই সমর্থনকারী শিক্ষককেও। তাঁকে কোনও রকমে বাঁচান অন্যান্য শিক্ষকরা।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, মারের চোটে পড়ুয়াদের হাত-পা থেকে রক্ত বেরিয়ে গিয়েছিল। তবে এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি।

জানা যায়, স্থানীয়দের চাপেই ওই স্কুলের সরস্বতী পুজো বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। হারোয়া পুলিশ স্টেশনের অন্তর্গত ওই স্কুলে প্রায় ১৭০০ ছাত্র-ছাত্রী পড়েন। অধিকাংশই পড়ুয়াই মুসলমান সম্প্রদায়ের। তবে ওই স্কুলের অধিকাংশ শিক্ষকই হিন্দু। কিছু ছাত্র-ছাত্রী চাইছিল যে, ফের শুরু স্কুলে সরস্বতী পুজো করা হোক।

জনৈক ইংরেজি শিক্ষক গণেশ সর্দার জানান, ৫০ বছর ধরে সরস্বতী পুজো হচ্ছিল এই স্কুলে। ২০০৯ সালে বন্ধ হয়ে যায় পুজো। তিনি জানান, সময় মতো জেলা প্রশাসন ও পুলিশ না এলে পরিস্থিতি খুব খারাপ হত। হারোয়া থানার অফিসার-ইন-চার্জ তাঁকে প্রাণে বাঁচিয়েছেন বলে জানান গণেশবাবু। তিনি জানান, আমি সরস্বতী পুজো ও নবি দিবস, উভয় চালু করার জন্য সওয়াল করেছিলেন।

প্রসঙ্গত, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও অমিত শাহ বরাবরই অভিযোগ করে আসছেন, পশ্চিমবঙ্গে সরস্বতী ও দুর্গাপুজো করায় বাধা দেওয়া হচ্ছে। এর জন্য রাজ্য প্রশাসনকে দুষেছেন তাঁরা। অমিত শাহ বলেন, এই পুজোগুলি যদি ভারতে না হয়, তাহলে কি পাকিস্তানে গিয়ে করা হবে?