Monday, December 15, 2025
Latestদেশ

রাফায়েল যুদ্ধবিমান উড়িয়ে ইতিহাস গড়লেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু

কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: ভারতের প্রতিরক্ষা ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। দেশের প্রথম রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে রাফায়েল যুদ্ধবিমানে সওয়ার হয়ে বুধবার ইতিহাস গড়লেন তিনি। হরিয়ানার অম্বালা বিমানঘাঁটিতে এই ঐতিহাসিক উড়ান সম্পন্ন হয়। ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হলো গোটা দেশ। 

রাষ্ট্রপতি সকালেই অম্বালা এয়ারবেসে পৌঁছন। তাঁকে সেখানে বায়ুসেনার তরফে দেওয়া হয় ‘গার্ড অফ অনার’। উপস্থিত ছিলেন এয়ার চিফ মার্শাল এ.পি. সিং-সহ ভারতীয় বায়ুসেনার শীর্ষ আধিকারিকরা। এরপর রাষ্ট্রপতি নিজেই ভারতীয় বায়ুসেনার অত্যাধুনিক রাফায়েল যুদ্ধবিমানে একটি সর্টি উড়ানে অংশ নেন।


এই সফরের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি মুর্মু শুধু ভারতের প্রতিরক্ষা ইতিহাসেই নয়, নারীশক্তির ইতিহাসেও এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন। বায়ুসেনার আধিকারিকরা জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতির এই সাহসী পদক্ষেপ ভারতীয় মহিলাদের জন্য এক বড় অনুপ্রেরণা।


অম্বালা বিমানঘাঁটির সঙ্গে ভারতের সামরিক ঐতিহ্যের এক বিশেষ যোগ রয়েছে। এখান থেকেই শুরু হয়েছিল ঐতিহাসিক ‘অপারেশন সিঁদুর’। বুধবার সেই ঘাঁটিতেই রাষ্ট্রপতির রাফায়েল উড়ান ভারতীয় বায়ুসেনার আধুনিক সক্ষমতার প্রতীক হয়ে উঠল।

এর আগে, ২০২৩ সালের ৮ এপ্রিল দ্রৌপদী মুর্মু অসমের তেজপুর বিমানঘাঁটি থেকে সুখোই-৩০ এমকেআই যুদ্ধবিমানে উড়েছিলেন। সে সময় তিনি ভারতের তৃতীয় রাষ্ট্রপতি এবং দ্বিতীয় মহিলা রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে যুদ্ধবিমানে চড়ার অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। দু’বছর পর, আবারও বায়ুসেনার বিশেষ পাইলট স্যুট পরে তিনি আরও আধুনিক যুদ্ধবিমান রাফায়েলে উড়ে নতুন মাইলফলক স্পর্শ করলেন।

ভারতের রাষ্ট্রপতিদের যুদ্ধবিমানে উড়ানের ঐতিহ্য অবশ্য এর আগেও ছিল। ২০০৬ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ড. এ.পি.জে. আব্দুল কালাম এবং ২০০৯ সালে রাষ্ট্রপতি প্রতিভা পাটিল যথাক্রমে পুণের লোহেগাঁও বিমানঘাঁটি থেকে সুখোই-৩০ এমকেআই যুদ্ধবিমানে উড়েছিলেন। দ্রৌপদী মুর্মু সেই ঐতিহ্যকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেলেন।

রাফায়েলকে ভারতের প্রতিরক্ষা শক্তির প্রতীক হিসেবে দেখা হয়। তাই রাষ্ট্রপতির এই উড়ান শুধু প্রোটোকল নয়, বরং এক প্রতীকী বার্তা — আধুনিক, আত্মনির্ভর, নারীর ক্ষমতায়ন এবং শক্তিশালী ভারতের।