Thursday, June 18, 2026
Latestকলকাতা

শুক্রবার কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবার্ষিকী ভবনে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অবদানকে যথাযোগ্য মর্যাদায় পুনঃপ্রতিষ্ঠা করবেন রাজ্যের উচ্চশিক্ষামন্ত্রী

কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: ২০ জুন, শনিবার পশ্চিমবঙ্গ দিবস। তার আগে শুক্রবার বেলা ১২:৩০ টায় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক শতবার্ষিকী ভবনে ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অবদানকে যথাযোগ্য মর্যাদায় পুনঃপ্রতিষ্ঠা করবেন রাজ্যের উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। 

এ প্রসঙ্গে বিজেপির তরফে বলা হয়েছে, ‘কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বকনিষ্ঠ উপাচার্য এবং পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের রুপকার হওয়া সত্ত্বেও তাঁকে দীর্ঘ ৮০ বছর ধরে অবহেলিত করে রাখা হয়েছিল। স্বাধীন ভারতবর্ষ তৈরি হওয়ার আগে বাঙালি হিন্দুর হোমল্যান্ড পশ্চিমবঙ্গের জন্ম হয়েছিল ১৯৪৭ সালের ২০ জুন। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের সময় ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অদম্য দূরদর্শিতা ও সংগ্রামের ফলেই হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চল হিসেবে পশ্চিমবঙ্গ ভারতের অন্তর্ভুক্ত হতে পেরেছিল।

আমরা সেই সকল বিশিষ্ট বাঙালি হিন্দু ব্যক্তিত্বদেরও ভুলতে পারি না, যারা ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য— আশুতোষ লাহিড়ী, বদ্রীনারায়ণ বিড়লা, বিজয় সিংহ নাহার, গোপাল মুখার্জি, উদয়চাঁদ মহতাব, রাম চট্টোপাধ্যায়, জ্যোতির্ময়ী দেবী, শিবেন্দুশেখর রায়, সাংবাদিক চপলাকান্ত ভট্টাচার্য, প্রেমহরি বর্মণ, বিধানচন্দ্র রায়, যুগল ঘোষ, ভানু বসু, বিপিনবিহারী গাঙ্গুলি, প্রফুল্লচন্দ্র ঘোষ, নলিনাক্ষ সান্যাল, পণ্ডিত লক্ষ্মীকান্ত মৈত্র, নীহারেন্দু দত্ত মজুমদার, মেজর জেনারেল এ. সি. চট্টোপাধ্যায়, নলিনীরঞ্জন সরকার, যদবেন্দ্রনাথ পাঞ্জা, ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়, ড. মেঘনাদ সাহা, স্যার যদুনাথ সরকার, ড. রমেশচন্দ্র মজুমদার, ড. মাখনলাল রায়চৌধুরী, অমৃতবাজার-যুগান্তর গোষ্ঠী, আনন্দবাজার পত্রিকা, দৈনিক বসুমতী, ‘মডার্ন রিভিউ’ ও ‘প্রবাসী’ গোষ্ঠী, ড. রাধাকুমুদ মুখোপাধ্যায়, ড. বিনয় সরকার প্রমুখ।

তাঁদের অবদানের কারণেই আজ বাঙালি হিন্দু সমাজ টিকে আছে—আমি আছি, আপনিও আছেন। অন্যথায় বাঙালিদের ভবিষ্যৎ পাকিস্তানে যাওয়া ছাড়া আর কোনও উপায় ছিল না। আমার পূর্বপুরুষদের মতোই পূর্ববঙ্গের কোটি কোটি বাঙালি হিন্দু লুণ্ঠিত, নির্যাতিত ও বাস্তুচ্যুত হয়েছিলেন; আজও বহু হিন্দু  বাংলাদেশ ছেড়ে পশ্চিমবঙ্গে আশ্রয় নিচ্ছেন।

এই ঐতিহাসিক ও তাৎপর্যপূর্ণ মুহূর্তের সাক্ষী হতে এবং আমাদের রাজ্য দিবসের আগে ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হতে সকল ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষা-কর্মী, প্রশাসনিক আধিকারিক, প্রাক্তনী এবং অভিভাবকদের আন্তরিকভাবে আহ্বান জানাচ্ছি।’